সর্বশেষ সংবাদ: জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করছে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা: শিক্ষামন্ত্রী রূপগঞ্জে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ কানাডা-আমিরাতে ঢুকতে না পেরে ফিরে আসছেন ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ——- তারা‌বো পৌরসভার মেয়র হা‌সিনা গাজী সোনারগাওঁয়ের সাদিপুর ইউ,পিতে ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ০৪ পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার রূপগঞ্জে পুলিশ পরিদর্শকসহ ব্যবসায়ীকে হানজালা বাহিনীর হুমকি, ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই পুলিশ সদস্য আহত রূপগঞ্জে মন্ত্রীর পক্ষে ছাত্রলীগ নেতারদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হলেন আহমদে জামাল ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু

সকল শিরোনাম

জ্ঞানপাপীরা পকেট ভরে : দেশীয় শিক্ষা রসাতলে বাণিজ্যমেলার মেলার বাহিরে ইজারাবিহীন হোটেলের ছড়াছড়ি  : মেলার প্রবেশ সড়ক ঢাকা বাইপাসে ১৭ কিলোমিটার যানজট ;  ভেতরে ক্রেতাশুন্য প্যাভিলিয়ন সুশাসন গণমাধ্যম এবং কিছু কথা রাজনৈতিক সংঘাত বনাম জনসমাগমের রাজনীতি!! ব্রাজিল খেলায় সুনামি বইয়ে দিল : প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপুনি শুরু বঙ্গবন্ধু টানেলের আংশিক খুলে দেওয়া হবে এ মাসেই ডিসেম্বরে ভারতের বিদ্যুৎ মিলবে বাংলাদেশে ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা জাকারবার্গের মিয়ানমারে উপর নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোন শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত কাতার বিশ্বকাপ : কন্টেইনারে রাতযাপনে গুনতে হবে ২১ হাজার টাকা ঋণের টাকায় দামি গাড়ি! পৃথিবীর তাপ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে ১৫ নভেম্বর বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি আর্জেন্টিনা উগ্র ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠী : বিশ্বকাপে ৬ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক নিষিদ্ধ ২৫ কেজি সোনা নিলামে তুলবে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলা যেন হয় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ডিএসইর মানবসম্পদ নীতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ যুদ্ধ হয়ে যাক একটা.. দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক সমাবেশে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টাকা যেন একবারেই মূল্যহীন : ৫০ বছরে পণ্যমূল্য বেড়েছে ৮০ গুণ যৌন হয়রানি প্রতিকার কোথায়?

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

জ্ঞানপাপীরা পকেট ভরে : দেশীয় শিক্ষা রসাতলে খেলা যেন হয় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ যৌন হয়রানি প্রতিকার কোথায়? কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ হোক বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত চলমান বিক্ষোভে ইরানের ভবিষ্যৎ বার্তা যুদ্ধ বন্ধ না হলে মন্দাও বন্ধ হবে না দুরন্ত নির্ভীক বিদ্যুত খাত বৈশ্বিক সঙ্কট বর্তমান বাস্তবতা হত্যা-হামলা-রক্তাক্ত কেন ঘটবে? দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে টেকসই ইলেকট্রনিকস শিল্পে পরিবেশ প্রকৌশল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনীতি বনাম বিরোধী রাজনীতি ‘‘মাদক ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রনে সর্বাত্তক প্রয়াস প্রয়োজন’’ বাংলাদেশে ভেজালমুক্ত খাবার প্রাপ্তি কঠিন কেন?

‘‘মাদক ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রনে সর্বাত্তক প্রয়াস প্রয়োজন’’

| ২৭ আশ্বিন ১৪২৯ | Wednesday, October 12, 2022

---ড. এম এ সোবহান পিপিএম : আমাদের সমাজে যে সকল সমস্যা রয়েছে মাদক সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাদকাসক্তরা এক অবর্ননীয়, অমানবিক এবং চরম অবহেলিত জীবন যাপন করে। তাদের অধিকাংশই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা বিতাড়িত। মাদকাসক্তি যে কত বড় সমস্যা তা ভুক্তভোগী পরিবারই জানে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিই একটা পরিবারেকে ধ্বংশ করার জন্য যথেষ্ট। আবার অনেক উচ্চ শিক্ষিত পরিবারের সদস্যরাও মাদক গ্রহণ করে থাকে এবং এভাবে নিজের অজান্তে এক সময়ে নিজে মাদক ব্যবসার সংঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র। এ সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সঙ্গে কোন কোন ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশী মাফিয়াদের সংযোগ (লিংক) রয়েছে মর্মে কেহ কেহ বলে থাকেন। মাফিয়ারা তাদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য যে কতভাবে অপরাধ কার্য ও তার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে তা বলা অনস্বীকার্য।
মাদক ও মাদকাসক্তির ব্যাপকতার পেছনে অনেক গুলো কারণ রয়েছে। সেগুলোর উপরে একটু আলোকপাত করা যাক। প্রথমত; মাদক অত্যন্ত লাভজনক এক ব্যবসা। কেউ যদি বড় একটা চালান একবার পার করতে পারে তাহলে এক চালানেই সে ধনী হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত; বাংলাদেশ গোল্ডেন ট্রায়াংগেল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজের মধ্যে অবস্থিত। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় মাদক উৎপাদন ও তৈরি হয় মর্মে জানা যায়। সেজন্য বাংলাদেশে সহজে মাদক পাওয়া যায়। তৃতীয়ত; ধুমপানের অভ্যাস। দেখা গেছে প্রায় সিংহভাগ মাদকসেবী প্রথম জীবনে ধুমপান করতো। চতুর্থত; সমাজের বিভিন্ন স্তরের অধিকাংশ মানুষের তাদের দায়িত্ব পালন না করা। যেমন পরিবার,  শিক্ষালয়, ধমীয় নেতা, সমাজ সেবক, উন্নয়নকর্মী প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ। পঞ্চমত; চিকিৎসা শেষে পূর্নবাসন বা সামাজীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদেরকে সমাজের সঙ্গে একীভূত করণ না করা। ৬ষ্ঠত; প্রাত্যেক সমাজেই মাদকাসক্তের পেছনে যে সকল সাধারণ কারণ রয়েছে সেগুলো আমাদের সমাজেও রয়েছে। তাহলো হতাশা, নিসঙ্গতা, ভংগুর পরিবার, প্রেমে ব্যর্থতা, বেকারত্ব ইত্যাদি। সর্বশেষটি হলো বন্ধুদের মাধ্যমে নেশায় জড়িয়ে পড়া।
এখন মাদকাসক্তি ও তার পরবর্তী বিব্রতকর ও অনাকাংখিত দু’টি ঘটনার উপর একটু আলোকপাত করতে চাই। প্রথমটি হলো- আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক যিনি বর্তমানে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত। স্যারের নিকট আত্মীয়ের এক ছেলে মাদক গ্রহণ পরবর্তী মাদক ব্যবসা জনিত অপরাধে গ্রেফতার হলে তার পরিবার সেই মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ীর জন্য কোন আইনী লড়াই করবে না মর্মে আমাকে জানান। আমি তখন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলি স্যার ছেলেটিতো অসুস্থ তাকে সে আঙ্গিকে চিন্তা করে তার জন্য উকিল দিয়ে তাকে জামিন করানো যেতে পারে। তারপর তাকে চিকিৎসা করাতে হবে এবং তাকে সময় দিতে হবে। অপরটি হলো- আমরা গত শনিবার ১৭/০৯/২০২২ খ্রিঃ তারিখ আমার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুর সাথে ঢাকার চাঁনখার পুল এলাকায় দেখা করতে যাই। ঐখানে রাস্তায় এক পা-ওয়ালা এক ভিক্ষুক আমার কাছে ভিক্ষা চাইলে আমরা তাকে কিছু টাকা প্রদান করি। সঙ্গে সঙ্গে আমার বন্ধুটি বলে উঠে একে তুমি জানো না, এতো মাদকাসক্ত। এর পা কাটার ঘটনা আমি জানি, আমার বন্ধু আরও বলেন, এ মাদকাসক্তকে চিকিৎসা করানো হয়েছিল কিন্তু পূনর্বাসন না করাই এবং কোন কাজ না পাওয়ায় সে আবার চাঁনখার পুল এলাকায় ফিরে আসে। মাদকাসক্ত ভিক্ষুক সম্পর্কে বন্ধু আরও বলেন আমি তাকে অনেক আগে থেকেই চিনি। মাদকাসক্ত ব্যক্তিটি একদিন আমার বন্ধুকে বলেছিল ভাই এ জীবন রাখার থেকে মারা যাওয়া শ্রেয়। আমাদেরকে দেশের অবহেলিত, মাদকাসক্ত ও অসুস্থদেরকে ফেলে বা দূরে না ঠেলে দিয়ে তাদের প্রতি সহমর্মিতা, মমতা ও ভালবাসার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৭০ লক্ষের কাছাকাছি মাদকে আসক্ত পুরুষ-মহিলা, যুবক-যুবতী ও কিশোর-কিশোরী রয়েছে বলে মাদক নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিবর্গ এবং কলামিস্টদের লেখনী বা বক্তব্য ও বিবৃতি থেকে জানা যায়। বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে আমাদের এ সকল মাদকাসক্তের এক বড় অংশ যুব সমাজ। যে যুব সমাজ জাতির ভবিষৎ হিসাবে কাজ করার কথা তাদের এক অংশ আজ জাতির জন্য বোঝা স্বরূপ। এ মাদকাসক্তরা আবার সহজে নিজ প্রয়োজনে অপরাধ কর্ম করে বা সহজেই অন্যের দ্বারা অপরাধ কর্মে ব্যবহৃত হয়।
আমার খুব দুঃখ হয় যে আমরা আমাদের গৌরবময় অতীত, ঐতিহ্য, বীরত্ব, মেধা, মনন, যোগ্যতা, সক্ষমতা দিন দিন ভুলতে বসেছি। আমরা ১৯৭১ সালে অসীম সাহস, সক্ষমতা, মেধা, যোগ্যতা ও বীরত্বের সর্বোচ্চ প্রমাণ দিয়েছি। যার ফলশ্রুতিতে এক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। সেজন্য আজ আমরা স্বাধীন জাতি হিসাবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছি। আর তাই আমাদের পক্ষে মাদকের মত এ জাতীয় একটি সমস্যার মোকাবেলা করা সহজসাধ্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে। মাদকাসক্তরাও এদেশের মানুষ, তাদেরও অধিকার আছে এ সুন্দর, সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলার আলো-বাতাস, পাখির সুমিষ্ট গান ও ফুলের সুবাস নেয়ার অধিকার। অনেক বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন মাদক ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত ধনী, শক্তিশালী, আধুনিক অস্ত্রধারী, অনেক সংঘবদ্ধ, তাদের নিজস্ব রসায়নবিদ আছে, এমনকি অনেক প্রভাবশালীর সাথে তাদের সু-সর্ম্পক আছে। কিন্তু তাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই অবৈধ অস্ত্রধারীর থাকে না কোন মনোবল, শক্তি ও সাহস। সে কারণে তাদেরকে মোকাবেলা করা কঠিন কোন বিষয় নয়। মাদক ব্যবসায়ীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। কিন্তু তারা এ সমাজের সংখ্যা লঘু। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের সংখ্যা কোন ধর্তব্য কিছু নয়। আর তাই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তন করতে হবে। মাদকাসক্তরা আমাদের সমাজেরই অংশ। সেজন্য তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব শুধু পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একার নয় এ দায় সকলের।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চের বিশেষায়িত মাদক প্রতিরোধ দলের প্রধান হিসাবে কাজ করার সুবাদে মাদক ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে আমার কিছু উপলব্ধি আছে। আমাদেরকে এলক্ষ্যে স্বল্প মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী উভয় উপায় অবলম্বন করতে হবে। সেজন্য প্রথমেই আমাদের ডিমান্ড বা চাহিদা কমানোর (উবসধহফ জবফঁপঃরড়হ) দিকে বিশেষ জোর দেওয়া উচিৎ। কারণ অভ্যন্তরীন চাহিদা থাকলে মাদক দেশের বাহির থেকে আসবেই। আর যদি বর্ডার একেবারে সীল মেরে দেওয়াও হয়, সেক্ষেত্রে দেশের ভিতরে মাদক তৈরির কারখানা তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত; আমাদের গডফাদারদের ধরার জন্য কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নি:সন্দেহে অনেক কাজ করে চলেছে। তারা বেশ কিছু গডফাদার ধরেছে কিন্তু তাদেরকে এখন বেশীরভাগ গডফাদারদের ধরা এবং তাদেরকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্রাইম প্রসিড এ্যানালাইসিস ও মামলার এজাহারের ভিতরে মাদকের গডফাদারদের নাম ঢুকাতে হবে। তাহলে গডফাদারদেরকে সহজে ধরা যাবে। এছাড়াও গড-ফাদারদেরকে মানিলনডারিং মামলার মাধ্যমেও আইনের আওতায় আনা যায়। আর ক্ষতি কমানো (ঐধৎস জবফঁপঃরড়হ) নিয়ে কাজ করা যায়। এক্ষেত্রে অনেক ক্ষতিকর মাদকের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর বা হালকা জাতীয় মাদক মাদকাসক্তদের সরবরাহ করা এবং ইনজেকটিং মাদকের ক্ষেত্রে নতুন সিরিঞ্জ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সরবরাহ করে মাদকাসক্তদের ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং মাদকাসক্তদের স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা করানো যেতে পারে। এরপর সরবরাহ কমানো (ঝঁঢ়ঢ়ষু জবফঁপঃরড়হ) বিষয়ে; এজন্য অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যদিও আমাদের সীমান্তকে বলা হয় ছিদ্রযুক্ত বা পোরাস বর্ডার। তবুও পুলিশ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, বর্ডারগার্ডসহ সকল এজেন্সি তথা সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একযোগে তথ্য দিয়ে, মাদক ও আসামী ধরে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দিয়ে মাদকের মামলায় আদালতকে সহায়তা করতে হবে।
এখন আসা যাক মাদকের চাহিদা কমানোর বিষয়ে; এজন্য প্রয়োজন মাদকাসক্তদের চিকিৎসা করানো। যেমন করোনা কালীন সময়ে পুরা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিক তৈরি করে ব্যাপকভাবে চিকিৎসা ও সহায়তা করেছিল। তেমনি সরকারী, বেসরকারী ও এনজিও সমূহ সকলে একত্রে কাজ করে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তারপর চিকিৎসা শেষে চাকুরী, ব্যবসা বা যেকোন কাজ দিয়ে তাদেরকে পূর্নবাসন করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সে যেন কোনো ক্রমেই পুরাতন বন্ধু বা মাদকাসক্তদের সঙ্গে মিশতে না পারে। মোটকথা তাকে পরিবার ও সমাজের সদস্যরা সময় দিয়ে, সংগ দিয়ে, কাজ দিয়ে ও তাদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে সমাজের সঙ্গে মিশিয়ে নিবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত যারা সুস্থ জীবনে ফিরতে চাই তাদেরকে আত্মসমর্পন করিয়ে নিয়মিত কাজে নিয়োজিত করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে একেবারে কষ্ঠসহিষ্ণু কাজ না দিয়ে যে যে কাজের উপযুক্ত তাদেরকে সেরূপ কাজ দেয়া। আর মাদকাসক্তদেরকে সংশোধনের নিমিত্তে মোটিভেশন, কাউন্সেলিং, ধর্মীয় শিক্ষা, দেশাত্ববোধ জাগানো ও কারিগরি প্রশিক্ষণের উপর জোর দেয়া যেতে পারে। তাদেরকে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কাজের জন্য দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশের  ধনী ব্যবসায়ীদেরকে সম্পৃক্ত করে তাদের মাধ্যমে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও কর্মসংস্থান তৈরী করা যায়। আমাদের দেশের উন্নয়নে কিছু কিছু এনজিও গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখে চলেছে, তাদেরকেও এ মহতী কাজে সম্পৃক্ত করা যায়। তারাও বিভিন্ন স্পটে যেমন এইডস বা অন্যান্য রক্তবাহিত রোগের বিস্তার  রোধে মাদকাসক্তদের নতুন নতুন সিরিঞ্জ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে থাকেন। তারা তাদের এ সকল কর্মসূচীর পাশাপাশি বস্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম, শিশু- কিশোরদের সচেতনতা মূলক কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারেন। আর যারা আত্মসমর্পন বা সারেন্ডার করতে অনাগ্রহী তাদের ব্যপারে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অভিযান পরিচালনা এবং তাদের গডফাদারদের ধরতে হবে ও আইনের আওতায় আনতে হবে। এরপর ধূমপানকে নিরুসাহিত করা। ধূমপানের কুফলতা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। ধূমপান থেকেই অধিকাংশ মানুষ মাদকের দিকে ধাবিত হয়। আশার কথা দেশে এখন ধূমপান পূর্বকার তুলনায় অনেক কমেছে। ভালো সংগ বা ভালো বন্ধু ও পরিবেশে চলার জন্য কিশোর-কিশোরী ও যুবক-যুবতীদের পরামর্শ দিতে হবে। অন্যদিকে খারাপ সংগ পরিহার করার জন্য তাদেরকে বলতে হবে।
দেশের শহর গুলোতে বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীতে এক বিপুল জনগোষ্ঠী বস্তিতে বাস করে। এসকল বস্তি বাসির শিশু ও মহিলাদেরকে মাদক পাচারে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তারা যেন কারো দ্বারা ব্যবহৃত  না হয় সেজন্য তাদেরকে সচেতন করতে হবে এবং তাদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। বস্তিতেও আমাদের কাজ করতে হবে। পরিবারের পিতা-মাতা, বড় ভাই-বোনদেরকে ছোটদের সময় দিতে হবে, তাদের সঙ্গে বন্ধুদের মতো মিশতে হবে। তাদের সমস্যা জানতে হবে। বর্তমান সমাজে শিশু, কিশোর-কিশোরীদের এক অংশ মোবাইল গেমস ও ইন্টারনেটে আসক্ত তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি থেকেও তাদেরকে বের করে আনতে হবে এবং সামাজিকরণের উপরে জোর দিতে হবে। অধিক সংখ্যক খেলার মাঠ, সাং¯ৃ‹তিক প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। উপরুন্ত, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সমূহ সক্রিয় করতে হবে এবং সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে হবে। আইনগত কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক বিচার, সামাজিকভাবে বোঝানো, সমস্যা দূরীকরণে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সমাজের লোকদেরকে কাজে খাটানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তি দায়বদ্ধতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়েও কাজ করতে হবে। সেজন্য আমাদেরকে তৃণমূল থেকে শুরু করতে হবে।
বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে মাদক গ্রহণকে নিষিদ্ধ বা নিরুসাহিত করা হয়েছে সেগুলো উল্লেখ করে ধর্মীয় নেতারা জনসম্মূূখে কথা বলতে পারেন এবং বক্তব্য ও বিবৃতি দিতে পারেন। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে যুব সমাজকে এ আন্দোলনে সামিল করা যেতে পারে। যেহেতু মাদকাসক্তের একটি বড় অংশ যুব সমাজ সেজন্য যুব সমাজের মধ্যে এবং যুব সমাজকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের দেশের জাতীয় আন্দোলন গুলোতে যুব সমাজই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তাদের সে ঐতিহ্য রয়েছে। সুতরাং তাদের মাধ্যমে আমরা সহজেই মাদকাসক্তদের বড় অংশের কাছে পৌঁছাতে পারি। সেজন্য তাদের মধ্যেও কাজ করতে হবে। তাদেরকেও এ আন্দোলনে সামিল করা যেতে পারে। আমাদের প্রবাসে রয়েছে এক বিশাল জনগোষ্ঠী। তাদের আছে মেধা, মনন, অর্থ ও সম্পদ। তাদেরকে যদি এ সমস্যার বিষয়ে বোঝানো ও যোগাযোগ করা যায় তাহলে তারও এ সমস্যা নিরসনে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে পারবে।
আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি পাশের বাড়ীর বখে যাওয়া ছেলেটিকে মোটিভেশন, কাউন্সিলিং করি এবং মাদকাসক্তদের দিকে সহায়তার হাত বাড়ায় তাহলে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। যখন কোন সমস্যা বড় আকার ধারণ করে, তখন সেটাকে মোকাবেলা করার জন্য ঐ ভূখন্ডের সকল ব্যক্তি তাদের প্রয়োজনীয় শক্তি, সম্পদ, উপায় ও সর্বোপরী সকলের প্রয়াস চালাতে হয়। তাই আমাদের সমাজ থেকে মাদক ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণে সকলের সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সভা, সমাবেশ, র‌্যালী, পথ-সভা, উঠান বৈঠক, কমিউনিটি পুলিশিং মিটিং ইত্যাদিতে মাদকের কুফলতা সম্পর্কে সকলকে বলতে হবে এবং সচেতন করতে হবে। টিভি চ্যানেগুলোতে বিজ্ঞাপন এবং মাদক নিরোধ সম্পর্কিত নাটক ও সিনেমা প্রচার করা। স্কুল কলেজ ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচীতে মাদকের ভয়াবহতা, করণীয় এবং  মাদককে না বলা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পরিশেষে বলতে চাই মুক্তিযোদ্ধারা বাংলা মায়ের সূর্য সন্তান। আমরা এখনও জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা নিতে পারি। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাকে আমার কাছে অত্যন্ত পজিটিভ এবং মুক্ত চিন্তার ধারক ও বাহক মনে হয়েছে। তাদের রয়েছে নিখাদ দেশপ্রেম ও বিরল এক সাংগঠনিক ক্ষমতা। যেগুলো আমাদের দেশের জন্য এখনও প্রয়োজন। সম্প্রতি সদ্য প্রয়াত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আকবর আলী খান স্যারের একটি বক্তব্য শুনেছি তাতে উনি বলেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মধ্যে মুক্তবুদ্ধির চর্চা করা পড়ে। তাই আমাদের উচিৎ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করা ও কাজ করা। আমাদের খেলাধুলা, পাঠাগার আন্দোলন, নাটক, যাত্রা, উপন্যাসে মাদকের কুফল তুলে ধরা এবং দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা যেতে পারে। সর্বোপরি এ সমস্যা নিরসনে সকল অংশীজনকে সামিল করাতে হবে। এভাবে সকলে মিলে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালালে  মাদক ও মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে এবং দেশ ও জাতি প্রভূত উপকৃত হবে।

ড. এম এ সোবহান পিপিএম
অতিঃ ডিআইজি, কমান্ড্যান্ট, পিএসটিএস, বেতবুনিয়া, রাঙ্গামাটি।।