সর্বশেষ সংবাদ: জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসরণ করছে ইবতেদায়ী মাদ্রাসা: শিক্ষামন্ত্রী রূপগঞ্জে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ কানাডা-আমিরাতে ঢুকতে না পেরে ফিরে আসছেন ঢাকায় বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে ——- তারা‌বো পৌরসভার মেয়র হা‌সিনা গাজী সোনারগাওঁয়ের সাদিপুর ইউ,পিতে ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল এলাকায় র‌্যাব-১১ এর অভিযানে ০৪ পরিবহন চাঁদাবাজ গ্রেফতার রূপগঞ্জে পুলিশ পরিদর্শকসহ ব্যবসায়ীকে হানজালা বাহিনীর হুমকি, ইটপাটকেল নিক্ষেপে দুই পুলিশ সদস্য আহত রূপগঞ্জে মন্ত্রীর পক্ষে ছাত্রলীগ নেতারদের বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হলেন আহমদে জামাল ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহেই দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু

সকল শিরোনাম

রাজনৈতিক সংঘাত বনাম জনসমাগমের রাজনীতি!! ব্রাজিল খেলায় সুনামি বইয়ে দিল : প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপুনি শুরু বঙ্গবন্ধু টানেলের আংশিক খুলে দেওয়া হবে এ মাসেই ডিসেম্বরে ভারতের বিদ্যুৎ মিলবে বাংলাদেশে ১১ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা জাকারবার্গের মিয়ানমারে উপর নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হোন শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ স্থগিত কাতার বিশ্বকাপ : কন্টেইনারে রাতযাপনে গুনতে হবে ২১ হাজার টাকা ঋণের টাকায় দামি গাড়ি! পৃথিবীর তাপ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে ১৫ নভেম্বর বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি আর্জেন্টিনা উগ্র ফুটবল সমর্থকগোষ্ঠী : বিশ্বকাপে ৬ হাজার আর্জেন্টাইন সমর্থক নিষিদ্ধ ২৫ কেজি সোনা নিলামে তুলবে বাংলাদেশ ব্যাংক খেলা যেন হয় শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ডিএসইর মানবসম্পদ নীতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছে বিএসইসি ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ যুদ্ধ হয়ে যাক একটা.. দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক সমাবেশে আসছেন প্রধানমন্ত্রী টাকা যেন একবারেই মূল্যহীন : ৫০ বছরে পণ্যমূল্য বেড়েছে ৮০ গুণ যৌন হয়রানি প্রতিকার কোথায়? সরকারের দমনপীড়নে গণজাগরণ দমানো যাবে না সংঘাত, সহিংসতা এবং সঙ্কটের রাজনীতি পাকিস্তানে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক নেই হেফাজতের

এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

মিয়ানমারে উপর নিষেধাজ্ঞা শর্ত ছাড়াই বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে আইএমএফ পৃথিবীর তাপ রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে খুলনায় রাত থেকেই জমায়েত বিএনপি নেতাকর্মীদের জমায়েত জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইসি সংঘাত আওয়ামী লীগকে রাজপথের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই -কাদের যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সহিদুলের নিয়োগ বাতিল এবার তিন এসপি বাধ্যতামূলক অবসরে ৪৩ কোটি টাকা খরচে হচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব-মুখ্য সচিবের বাড়ি বাঁধভাঙা স্রোত দেখে সরকারের কাঁপন ধরেছে’ অপরাধে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাং সুন্দরী নারীর কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে ফেসবুক আইডি নেই প্রধানমন্ত্রীর বিতর্ক চর্চা একজন মানুষকে যুক্তিবাদী হতে শেখায় : শিক্ষামন্ত্রী বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে

সাংবাদিক লেখক ফখরে আলম আর নেই

| ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ | Friday, May 15, 2020

যশোরের প্রথিতযশা সাংবাদিক দৈনিক কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি কবি ফখরে আলম (৬০) আর নেই (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিনি নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আট বছর ধরে তিনি বস্নাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি মা রওশন আরা বেগম, স্ত্রী নাসিমা আলম, কন্যা নাজিফা আলম মাটি ও পুত্র ফাহমিদ হুদা বিজয়সহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টায় সাংবাদিক ফখরে আলমের মরদেহ প্রেসক্লাব যশোরে আনার পর প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন মরহুমের কফিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। বাদ আছর যশোর জিলা স্কুল মাঠে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গ্রামের বাড়ি চাঁচড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২য় নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সাংবাদিক ফখরে আলম ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বস্নাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। এর পর থেকে তিনি ভারতের টাটা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছিলেন। ২০১৮ সালের ২ এপ্রিল ক্যান্সারের কারণে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েন। ফখরে আলম ১৯৬১ সালের ২১ জুন যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। মা রওশন আরা বেগম গৃহিনী। বাবা শামসুল হুদা ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭৭ সালে যশোর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৭৯ সালে সরকারি এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৮১ সালে ঐ কলেজ থেকে তিনি বিকম পাস করেন। ১৯৮৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাংবাদিকতা: ছাত্র জীবনেই তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৮৫-৮৬ সালে ইত্তেফাক গ্রুপের সাপ্তাহিক ‘রোববার’ পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে দৈনিক আজকের কাগজের যশোর জেলা প্রতিনিধি পদে যোগ দিয়ে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেন। এরপর দৈনিক ভোরের কাগজ, দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকা, দৈনিক মানবজমিন, দৈনিক জনকণ্ঠ, দৈনিক আমাদের সময়, দৈনিক যায়যায় দিন ও দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় ১৯৯২ সাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার, সিনিয়র রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। মৃত্যুর আগে সর্বশেষ তিনি কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ফখরে আলম দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের সমস্যা-সম্ভবনা নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে কাজ করেছেন। তিনি এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির অনুসন্ধান করে সংবাদ পরিবেশন করেছেন। গড়ে প্রতিমাসে তার ৩০টির বেশি নিজস্ব প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতা : সাংবাদিকতার প্রথম থেকেই ফখরে আলম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখা শুরু করেন। দীর্ঘ সময়কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কয়েকশ’ প্রতিবেদন লিখেছেন। ২০০০ সালে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় তিনি এদেশে সবচেয়ে সাড়া জাগানো সিরিজ রিপোর্ট ‘সেই রাজাকার’ লেখা শুরু করেন। তিনি অনুসন্ধান চালিয়ে যশোরে কয়েকটি বধ্যভূমি খুঁজে বের করেছেন। ২০০১ সালে যশোর সদর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের একাত্তরে মুখে গুলিবিদ্ধ ৩০ বছর হা করতে না পারা রাহেলাকে নিয়ে একটি অনুসন্ধান প্রতিবেদন লেখেন। রিপোর্টটি প্রকাশের পর সেনাপ্রধানের নির্দেশে যশোর সিএমএইচ হাসপাতালে অপারেশন করে রাহেলার মুখ থেকে গুলি বের করা হয়। তিনি কুষ্টিয়ার কোহিনুর ভিলার বংশের সব সদস্য শহীদ হওয়ার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রথম লেখেন। এছাড়া মুজিবনগর ইনফরমার, শিশু মুক্তিযোদ্ধা, কৃষক মুক্তিযোদ্ধা, দুর্ধর্ষ রাজাকার মেহের জল্লাদ, ওসি ইব্রাহিম, খালেক রাজাকারসহ আরো কয়েকজন রাজাকারকে নিয়ে লিখেছেন। যশোরের বীরঙ্গনা হালিমা, ফাতেমা, রোকেয়াকে নিয়ে প্রথম প্রতিবেদন লিখেছেন। তাদেরকে ছয় লাখ টাকা আর্থিক অনুদান পেতে সহায়তা করেছেন। তিনি শংকরপুর বধ্যভূমি নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লেখার পাশাপাশি সেখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তাঁর দু’টি গ্রন্থ রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু-গবেষণা : ফখরে আলম বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি পত্র-পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর জানা-অজানা বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়া নিয়ে তার একটি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর বন্ধু টুঙ্গিপাড়ার সেইসব সাহসী মানুষ যারা বঙ্গবন্ধুকে ৫৭০ সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে, রিলিফের শাড়ি কাফনের কাপড় হিসেবে ব্যবহার করে ইসলামী বিধি-বিধান মতো সমাহিত করেছিলেন, তাদের নিয়ে লিখেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রিয় বাহন সাইকেল, কোলকাতার বেকার হোস্টেল, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ফেরা, ৭ মার্চের ভাষণের কাব্যকথাসহ বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন দিক নিয়ে লেখালিখি করেছেন। এ বিষয়ক ‘জানা-অজানা বঙ্গবন্ধু’ বলে তার একটি ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণা গ্রন্থ রয়েছে।

কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতা : কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় ফখরে আলম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ধান, ফুল, ফল, মাছ চাষ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেছেন। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচান্দা গ্রাম ও কৃষি বিপ্লবের নায়ক ওমর আলীকে নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখে দেশ জুড়ে সাড়া জাগিয়েছেন। তিনি গাইদঘাট কৃষি ক্লাব, বিষমুক্ত সবজি, কৃষক সংগঠক আইয়ুব হোসেনকে নিয়ে কাজ করেছেন। এই অঞ্চলের কৃষির সম্ভবনা তার খবরের অন্যতম উপাদান। কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় তিনি ১৯৯৮ সালে বার্ক এর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। একই বছর তিনি কৃষি বিষয়ক সাংবাদিকতায় বিসিডিজেসি ও নোভার্টিজ এর ফেলোশিপ অর্জন করেন।

শিল্প সাহিত্য : ফখরে আলম একজন কবি। স্কুল জীবন থেকেই তিনি কবিতা লিখেছেন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব পত্র-পত্রিকায় তার কবিতা ছাপা হয়েছে। বাংলা একাডেমির উত্তরাধিকার ও পশ্চিমবঙ্গের শিবনারায়ণ রায় সম্পাদিত জিজ্ঞাসা পত্রিকায় তার কবিতা স্থান পেয়েছে। ১৯৮০-৮১ সালে ফখরে আলম যশোর সরকারি এমএম কলেজের ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন কালে তিনি কলেজ বার্ষিকী সম্পাদনা করেন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তার কবিতা দেশ জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি ১৯৯১ সালে যশোর সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকার সময় দেশ বিদেশের খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিকদের নিয়ে একটি সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করেন। এরপর ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি যশোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

বৃক্ষ প্রেম : ফখরে আলম একজন বৃক্ষ প্রেমিক। ছেলেবেলা থেকেই তিনি ফুলের বাগান করে এসেছেন। রাস্তার দুই ধারসহ কবরস্থান ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ’ ফুল ও ফলের গাছ লাগিয়েছেন। বিরল প্রজাতির গাছ সংগ্রহ করা তাঁর শখ। তিনি এসব গাছের চারা কলম তৈরি করে অনেককে উপহার দিয়েছেন। তাঁর নিজের একটি বাগান রয়েছে। সেখানে ক্যাকটাস, অর্কিড, বনসাইসহ দেশ বিদেশের নানা প্রজাতির ফুল ফলের গাছ রয়েছে। তিনি প্রথম পুরস্কার, পুষ্প প্রদর্শনী, সৌখিন ফুল পাখি চাষি পরিষদ-১৯৯৫, প্রথম পুরস্কার, বৃক্ষ মেলা, জেলা প্রশাসন-বন বিভাগ, যশোর-১৯৯৬, প্রথম পুরস্কার, বৃক্ষ মেলা, জেলা প্রশাসন-বন বিভাগ, যশোর-১৯৯৭, ফল বৃক্ষ রোপণে জাতীয় পুরস্কার, কৃষি মন্ত্রণালয় ২০০৬, বৃক্ষ রোপণে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় পুরস্কার- ২০০৭সহ যশোরের কৃষি ও বৃক্ষ মেলায় অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। তিনি গাছ ও বন্যপ্রাণী নিয়ে অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখে নানা মহলে প্রশংসিত হয়েছেন।

পুরস্কার : ফখরে আলম সাংবাদিকতা ও বৃক্ষ রোপণে দেশ বিদেশের অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। সাংবাদিকতায় ১৯৯৭ সালে মোনাজাতউদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার, একই বছর এফপিএবি পুরস্কার, ২০০০ সালে মধুসূদন একাডেমী পুরস্কার, ঐ বছরই বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরাম পুরস্কার, ২০০২ সালে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা পুরস্কার এবং বৃক্ষ রোপণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য ফখরে আলম ২০০৬ সালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় পুরস্কার ও ২০০৭ সালে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।

সাংবাদিকতায় ২০১১ সালে তিনি অশোক সেন স্মৃতি পুরস্কার পান। ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবা দিবস উপলক্ষে ফখরে আলমকে জেগে ওঠো ফাউন্ডেশন সম্মাননা স্মারক প্রদান করে। ২০১৩ সালে ডিজিটাল যশোর বিনির্মাণে জেলা প্রশাসক তাকে সম্মাননা প্রদান করে। ফখরে আলম সাংবাদিকতায় ২০১৪ সালে প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক পুরস্কার, ২০১৭ সালে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠি পুরস্কার, একই বছর যশোর ব্র্যান্ডিং পুরস্কার, ২০১৮ সালে যশোর পৌরসভার ভৈরব পদকসহ আরও কয়েকটি পুরস্কার অর্জন করেন। একই বছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাঁকে গুণীজন সম্মাননা প্রদান করে। ২০১৯ সালে যশোরের স্বগত কণ্ঠ তাকে কবি সম্মাননা প্রদান করে। এছাড়া এই বছর তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিবেদনের জন্যে সেরা প্রতিবেদক হিসেবে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক পান।

এছাড়াও তিনি যশোরে অনুষ্ঠিত বৃক্ষ মেলায় কয়েকবার প্রথম হয়েছেন। তার নিজস্ব একটি ভিন্ন ধরনের গাছের সংগ্রহশালা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন কবরস্থান, বসতবাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তার দুই ধারে বৃক্ষ রোপণ করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

প্রকাশনা : ফখরে আলমের ৩৮টি গ্রন্থ রয়েছে। ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত ডাকে প্রেম তুষার চুম্বন, তুই কনেরে পাতাসী, ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত খুলে ফেলি নক্ষত্রের ছিপি, ২০১৪ সালে প্রকাশিত এ আমায় কনে নিয়ে আলি নামে চারটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। এছাড়া শালপ্রাংশু (সম্পাদনা গ্রন্থ), এসএম সুলতান, দক্ষিণের জনপদ, আলোকিত নারী আঞ্জেলা গমেজ, দক্ষিণের মুক্তিযুদ্ধ, একজনই শরীফ হোসেন, রিপোর্টারের ডায়েরি, জানা অজানা রবীন্দ্রনাথ, হাতের মুঠোয় সাংবাদিকতা, মা সকিনা, মহর এবং অন্ধকার সোনাগাছিয়া, সাগরদাঁড়ি থেকে হায়দ্রাবাদ, মলাট কাহিনী, মুক্তিযুদ্ধের জানা-অজানা, ত্রাহী মধুসূদন, সুন্দরবনের মানুষ, পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিবেদন, নীলপদ্ম, আম জনতার আম, রবীন্দ্রনাথের মোটরগাড়ি, আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখেছি, টুঙ্গিপাড়া, খবরের নায়কেরা, যশোরের গণহত্যা, যশোরের ভাষা আন্দোলন, অবসরে, জানা অজানা বঙ্গবন্ধু, দুই বাংলার পুতুল নামের কয়েকটি ভিন্ন ধরনের গ্রন্থ রয়েছে।

সংগঠন : ফখরে আলম যশোরের চাঁচড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ও কবরস্থানের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া তিনি প্রেসক্লাব যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), যশোর ইনস্টিটিউট, যশোর সাহিত্য পরিষদ, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলাম যশোরের সদস্য। তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী, জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদসহ আরও কয়েকটি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃত্বে াছিলেন। তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরেছেন। সাহসী যোদ্ধা, বীরাঙ্গনা, মুজিব নগর ইনফরমার, বধ্যভূমিসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখেছেন। যশোরের চাঁচড়া শংকরপুর এলাকার বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়, যশোর মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ যশোরের সব সামাজিক আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা আছে। দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোর বিনির্মাণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০১২ সালে ডিজিটাল যশোর নিয়ে তিনি একটি প্রামাণ্যচিত্র রচনা করেন। ‘নতুন সূর্য, নতুন ভোর, ডিজিটাল যশোর’ নামের এই প্রামাণ্যচিত্রটি ডিজিটাল বাংলাদেশের একটি মাইলফলক। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআইয়ের আওতায় তিনি ২০১৬ সালে ‘নানা রঙের ফুলের মেলা, খেজুর গুড়ের যশোর জেলা’ জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের যশোরকে নিয়ে এই শ্লোগানটি রচনা করেন। এই শ্লোগানের ভিত্তিতে এখন দেশ বিদেশে যশোরকে তুলে ধরা হচ্ছে।