Wednesday, June 29, 2011

পাহাড়ধ্বস ঝুঁকিতে ৩৫ হাজার মানুষ !

গোলাম ফারুক দুলাল : লামা ও আলীকদম উপজেলার পাহাড় চূড়া, পাদদেশ এবং পাহাড়ের কোলঘেঁষে প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৩০ হাজার মানুষ অতিঝুঁকি ও ঝুঁকিপূর্ণভবে বসবাস করছে। কম ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে আরও প্রায় ৫ হাজার পরিবার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য কার্যকরী কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় দিন দিন এর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে চলতি বর্ষায় অতি বৃষ্টি বা ভূমিকম্পের মতো কোন দুর্যোগ এলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারে যে কোন মুহুর্তে পাহাড় ধসে প্রাণহানির মত বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। জনসাধারণের অসচেতনতা ও দরিদ্রতার কারণে পাহাড়ে বসবাসকৃত পরিবারের মানুষগুলো বছরের পর বছর ধরে এসব বাড়িঘরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের আগস্ট মাসে উপজেলার আজিজনগর এবং গত বর্ষায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় স্মরণকালের ট্রাজেডি ও মানবিক বিপর্যয় পাহাড় ধসের ঘটনার পরও তেমন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন। সচেতনমহল জানিয়েছেন, উপজেলা দুটির বিভিন্ন ইউনিয়নের পাহাড়ে অতিঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারী এসব পরিবারে যে কোন সময় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তারা শুধু মৃতুঝুঁকিতে বসবাস করছে তা নয়, জীবনযাত্রায় পানি, আবহাওয়া, সামাজিক পরিবেশ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ সুবিধাসহ নাগরিক অনেক সুবিধা এরা ভোগ করতে পারছে না। গজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা জানিয়েছেন, নানা কারণে দরিদ্রতার রোষানলে পড়ে এখানকার মানুষগুলো সমতলে জমি কিনতে পারছেনা বিধায় ঝুঁকিপূর্ণ ঘর ছেড়ে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়া তাদের পক্ষে কোন ক্রমেই সম্ভব হচ্ছে না। তবে ঝুঁকিপুর্ণ পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণের জন্য দফায় দফায় তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিধিরা জানিয়েছেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পাহাড় ধসের ঘটনার পর পরই প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পাহাড়ের ঝুঁকিপুর্ণ বসতঘরগুলো সরানোর উদ্যোগ গ্রহণের পর সরকার পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়ের অভাবে তা আর বেশি দূর এগোয়নি। এমনকি পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে এখনো পর্যন্ত পুনর্বাসন করার সঠিক ব্যবস্থা হয়নি। প্রতিবছরই বর্ষা এলেই স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঢাকঢোল পিটিয়ে পাহাড়ে ঝুঁকিপুর্ণদের নিরাপদে বসবাসের তাগিদ দিয়ে অফিসের রুটিন শেষ করেন। পাহাড় ধস ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। সময়ের সাথে সাথে তাদের কার্যক্রমে ভাটা পড়ে যায় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্যঃ

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন।

পাতার শুরুতে