Monday, October 24, 2011

আখের গুড় তৈরীতে ব্যস্ত মতলব উত্তরের কৃষক

matlab-news-pic-akh.jpgমনিরুল ইসলাম মনিরঃ
দেশে চাঁদপুরে গেন্ডারী ও গুড়ের কদর অনেক। এখানকার আখের রস ও গুড় অনেক মিষ্টি এবং চিবিয়ে আখ খেতে খুবই মজা। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় চলতি বছরে আখের ব্যাপক ফলন হয়েছে। কিন’ কৃষকরা তাদের আখের উৎপাদিত ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। তাদের উৎপাদিত আখ চলে যায় ফড়িয়া ও মহাজনদের হাতে। বাজারে কিছু সংখ্যক ফড়িয়া ছাড়া ক্রেতা নেই। বাধ্য হয়ে অনেক কৃষকরা নগদ টাকা পেতে ক্ষেতেই আখ বিক্রি করে দিচ্ছেন ফড়িয়াদের কাছে। যা যাচ্ছে দেশের রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে। অপরদিকে আবার অনেক কৃষক আখের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে গুড় তৈরীতে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। আর বিশেষ করে শীত মৌসুম এলেই তার ব্যস- হয়ে পড়েন গুড় তৈরী করতে। তারা জানান, শীত মৌসুমে পিঠা-পায়েশ দিয়ে শুরু হয় নবান্ন উৎসব। আর এ নবান্ন উৎসবে গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তাই এই সময়টাতে আখের গুড় তৈরী করে বাজারে বিক্রি করে দাম বেশি পাওয়া যায় বলে, তারা এখন এই সময়টাতে গুড় তৈরীতে ব্যস্ত। আর তাদের উৎপাদিত গুড় চলে যায় দেশের বিভিন্ন স’ানে। বলতে গেলে মতলব উত্তরের গ্রামে গ্রামে চলছে গুড় তৈরীর মহা উৎসব। বর্তমানে তাদের উৎপাদিত গুড় প্রতিকেজি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতিটি আখ বাজারে বিক্রি করে পান ১০-২০ টাকা। গুড়ের চাহিদা থাকায় ও দাম বেশি পাওয়ায় উপজেলার শিকিরচর, আদুরভিটি, লুধুয়া, দশানী, হানিরপাড়, পাঁচানী, নাউরী, ঠাকুরচর, গজরা, জোরখালী, মাথাভাঙ্গা, তালতলী, দূর্গাপুর ও কলাকান্দা এলাকার কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তারা এখন আখ মাড়াই করে গুড় তৈরী করছেন। বিগত বছরগুলোতে আখ মাড়াইয়ের কল গরু দিয়ে ঘোরানো হলেও এখন আর তা ব্যবহার হচ্ছে না। আখ মাড়াইয়ের কল এখন পাওয়ার ট্রিলারের সাহায্যে চালানো হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ কম লাগছে। কল থেকে আখের রস বাহির হওয়ার রস আগুণে জ্বাল দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে গুড়। শিকিরচর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, অনেক খাটা-খাটনি দিয়া আখের ফলন ফলাই। কিন’ পাইকারগো কাছে কম দামে আউখ বেইচা লাভ কি। গুড়ের দাম বেশি, ফলে আখ পাইখারদের কাছে না বেইচা আখের রস দিয়া গুড় তৈরী করে বাজারে বিক্রি করছে। ছেংগারচর পৌর বাজারের মুদি দোকানদার কুদ্দুস জানান, এখানকার তৈরীকৃত গুড় ভেজালমুক্ত ও খাটি হওয়ায় এই গুড়ের চাহিদা অনেক। বিশেষ করে শীত মৌসুম এলেই এখানকার গুড়ের চাহিদা বেড়ে যায়। এই সময়টাতে আমরা ১০০-১১০ টাকা দরেও গুড় বিক্রি করতে পারি। বিক্রি বেশি লাভও বেশি। তাই আমরা লাভবান হচ্ছি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে উপজেলায় ২৬০ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চাঁদপুর গেন্ডারী ২০০ হেক্টর, মিশ্রিমালা ৪০ হেক্টর আর অমৃত ২০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। যা একসময় এ এলাকায় ২ সহস্রাধিক হেক্টর জমিতে আখের চাষ হতো। উপজেলা কৃষি অফিসার ছাইফুল আলম জানান, আখের জমিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার এবং শ্রমিকদের মজুরি বেশি হওয়ার কারণে কৃষকরা আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। তবে এ এলাকায় গুড়ের চাহিদা বেশি থাকায় এবং দামও ভাল পাওয়ায় কৃষকরা এখনো আখ চাষ ধরে রেখেছে।

পাঠকের মন্তব্যঃ

মন্তব্য প্রদান করতে লগইন করুন।

পাতার শুরুতে