সকল শিরোনাম

সুষ্ঠু নির্বাচনে দেশ কি সক্ষম? অবৈধ পাকিং, চাঁদাবাজী আর ঘুষের মিশেল হরদম! প্রার্থী না হওয়ার কারণ জানালেন ড. কামাল ফেসবুকে প্রতারণার প্রেমের ফাদেঁ ফেলে কলেজ ছাত্রীকে ব্লাক মেইলিংয়ের অভিযোগ ঢাকা-৫ আসন : ডেমরায় জাতীয় পার্টির গণসংযোগ ও কর্মিসভা ৬ দফা দাবি : ডেমরায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের জনসভা বদলে যাবে ৩০০ ফুট সড়ক অপরাধী শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ঐক্যফ্রন্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে, নির্বাচনে আসবে: কাদের পঞ্চগড় থেকে দেশের দীর্ঘতম রুটে ট্রেনচলাচল শুরু বাম জোটের নির্বাচন তফসিল প্রত্যাখ্যান সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির সাহসী পদক্ষেপ চাই: বি চৌধুরী খেজুরের ভেতর ইয়াবা! ‘আমার বাড়ি ভোলা, পারলে কিছু কইরেন’ আ’লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২১ নভেম্বর কোনো অপশক্তি ভর করুক তা কাম্য নয়: নাসিম তাবলিগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রণক্ষেত্র, আহত ১০ দাবি না মানলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: রাজশাহীতে ফখরুল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বুঝে পেল বাংলাদেশ শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম কিনলেন ওবায়দুল কাদের যে বেটারা আমার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে, আমি ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেব: কাদের সিদ্দিকী এই তফসিলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে না সচিব হলেন দুই কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত সচিব ৩ জন


২৯ সেপ্টেম্বর কি হবে?

ঊপ-সম্পাদকীয়, ছবি স্লাইড, জাতীয় সংবাদ, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ১২ আশ্বিন ১৪২৫ | Thursday, September 27, 2018

মীর আব্দুল আলীম : এই হবে, সেই হবে, এমন কথা শুনি মাঝে মঝে। এ দেশে হবে বলে, কবে ---কি হয়েছে?
বিএনপি জোটতো কোন আন্দোলনই জমাতে পারেনি। ন্যায্য, অন্যায্য কোন দাবিই
আদায় করতে পারেনি তারা। দলটির কোন হুঁঙ্কার কাজে আসেননি কখনো। তাবে
হুমংকারে শংকা হয়; ভাবি কি জানি কি হয়। মানুষ লাশ হয়! গুম হয়? খুন হয়?
জ্বালাও পোড়াও আবার শুরু হয়? এমন ভয়তো মনে লাগেই? তবে এখন ডর (ভয়) একটু
কম লাগে। শংকার দিনগুলো বরং অন্য দিনের চেয়েও পরিচ্ছন্ন থাকে। আরামছে
(ভালোভাবে) চলাফেরা করা যায়। রাস্তা-ঘাট নিরাপদ বেশি থাকে। চলে ফিরে
স্বাচ্ছন্দ বোধ করা যায়। ২৯ সেপ্টেম্বও হয়তো এমনই হবে।
এর পরও প্রশ্ন ২৯ সেপ্টেম্বর, কি হবে ঐদিন? বিএনপি, জাতীয় ঐক্য, আর সরকার
দল আওয়ামীলীগ ক’দিন ধরে হুঙ্কার দিয়েই চলেছে। জাতীয় ঐক্য, বিএনপি জোটের
হাবভাবে বুঝা যায় কিছু একটা করে ফেলবে। আর সরকারদলতো আজই (২৭ সেপ্টেম্বর)
মাঠ দখল করে রেখেছে। রাজধানীর দিলকুশা অফিস থেকে ফেরার পথে মিছিলের চোটে
সময়মত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। যখন যানজটে আটকে ছিলাম,
তখন এক সাংবাদিক ছোট ভাইয়ের রিং পেলাম। তিনি বললেন “আজ আমার লিড নিউজটা
পড়েছেন?’ আমি অবশ্য রাতেই অনলাইনে সব দৈনিক পত্রিকার খবরগুলো মোটামুটি
দেখে নেয়ার চেষ্টা করি। বললাম “দেখেছি খুব ভালো হয়েছে”। তবে দ্বি-মত আছে।
ডেড লাইন ২৯ সেপ্টেম্বর যতনা গর্জেছে ততটা হবেনা বোধ করি। তিনি বললেন-
‘খবর আছে, এবার হয়তো কিছু হবে’। আমি বললাম এই হবে সেই হবে, সবই হবে
কিন্তু কিছুই হবে না। যাই হউক আর কথা বাড়াইনি। যানজটে আটকে পড়ে পত্রিকার
খবরগুলো প্রায় মুখস্ত করে ফেললাম। মোটামুটি সবাই ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ে বেশ
আয়েশ করে খবর ছেপেছে। সবার শংকা। কি হবে ২৯ সেপ্টেম্বর?
গতকাল (২৬ সেপ্টেম্বর) বন্ধুবর একটি নামী টিভি চ্যানেলের বার্তা সম্পাদক
এক আড্ডায় বলেই ফেলেন ‘আমরা পোড়া গোয়ালের গরুতো! তাই ভয়তো একটুআধটু
পাইই।” ফের হরতাল অবরোধ জ্বালও পোড়াও যদি শুরু হয়? মরার ভয়, ব্যবসা
নষ্টের ভয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ নষ্টের ভয়, উন্নয়ন থমকে যাওয়ার
ভয়, সবের্¦াপরি জননিরাপত্তার কথা ভেবে কুকড়েমুচড়ে যাচ্ছি বটে!
সরকারবিরোধী ১৪ দলীয় জোট এবং বিএনপি ২৯ সেপ্টেম্বর রাজপথ দখলের ঘোষণা
দিয়েছে। বিএনপি’র নেতারা বলছেন, ঐদিন জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করা হবে।
তাঁরা এও বলছেন ‘তখন বোঝা যাবে মাঠ কার দখলে’। একইদিন পূর্বনির্ধারিত
কর্মসূচি ঘোষণা রয়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের। দেশের বড়
দুইটি রাজনীতিক দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে দেশের
রাজনৈতিক অঙ্গন। পাল্টাপাল্টি অবস্থানে উভয় শিবিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নির্বাচনের আগে এমন কর্মসূচির ফলে সংঘাত সহিংসতার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়াচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষক মহল। এ
অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নড়েচড়ে বসেছে। নিরাপত্তা ছক সাজানোর কাজ শুরু
করছেন পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তারাও। ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের
সমাবেশকে সামনে রেখে এখন থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি স্পটে সতর্ক
অবস্থানে থাকবে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের থানা-ওয়ার্ড ও ইউনিটির
নেতারা। ২৯ সেপ্টেম্বর সমাবেশের নামে বিএনপি যাতে রাজপথে কিংবা
পাড়া-মহল্লায় কোনো ধরনের নাশকতা চালাতে না পারে দিকে তীক্ষ্ন নজর রাখতে
তৃণমূল নেতাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ
সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের
উদ্দেশে বলেন, সড়ক অবরোধ করবেন না। শুধু সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। আক্রমণ
করবেন না। কিন্তু আক্রমণ করলে আক্রান্ত হলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।
শুধু সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশের
আয়োজন করা হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা সেখানে বক্তব্য দেবেন।
সমাবেশে লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটবে। ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন
ওয়ার্ড ও থানা এলাকার নেতাকর্মীকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে ২৯
সেপ্টেম্বও ১৪ দল সমাবেশ করবে মহানগর নাট্যমঞ্চে। দুই বড় দলের পক্ষ থেকে
একই দিনে বড় ধরনের শোডাউন করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশের দুই প্রধান
রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণায় রাজনীতির মাঠ এখন অনেকটাই
উত্তপ্ত।
২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবরও এমন ‘যুদ্ধ যুদ্ধ’ ভাব তৈরি হয়েছিলো দেশে। বেশ
মনে আছে আমার, এর ২দিন আগে পূর্বাচল থেকে আমারই অতি শ্রদ্ধাভাজন ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লেখক মুনতাসির মামুন স্যারকে ঢাবিতে নামিয়ে দিকে
যাচ্ছিলাম। নানা কথার ফাঁকে ২৫ অক্টোবর প্রসঙ্গ আসতেই তিনি বলেন- ‘২৫
অক্টোবরে এই হবে সেই হবে; কিছুই হবে না!’ তার সোজাসাপটা কথায় মনেবেশ বল
পেয়েছিলাম সেদিন। রাতেই লিখেছি যার হেড লাইন- ‘কী হবে ২৫ অক্টোবরে? কিছুই
হবে না!’। ২৫ অক্টোবরের ১দিন আগে তা দৈনিক ইত্তেফাকে ছাপাও হয়। ভাবলাম
কিছু না হলেই ভালো। সেদিন কিছু হয়ওনি। অবশ্য বাংলাদেশের বিগত দিনের
ইতিহাস তাই বলে। যা গর্জে ওঠে তার সর্বশেষ গতি কমই থাকে। আমাদের
দু’রাজনৈতিক দল যেভাবে ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ে গর্জে উঠছে তাতে জনগন বেশ ভড়কে
যাচ্ছে। ২৯ অক্টোবর ঘিরে সরকার এবং সরকার বিরোধীরা যে হুঙ্কার দিয়ে
যাচ্ছে তাতে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হলেও শেষ কি হবে তা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
কোথাও যেন শান্তি নেই। রমনা পার্কে  প্রাতভ্রমণে গিয়ে সেই একই ঘটনা। এক
বয়াতির গান শুনছিলেন আমার পরিচিতজনেরা। আমরা মাঝে মাঝেই রমনায় হাঁটতে এসে
অন্ধ বয়াতি রাসেলের গান শুনি রমনাতে। তার গান শুনে অন্যদের মতো আমিও
দৌড়ানোর ক্লান্তি দূর করি। ঢুগঢুগির তালে তালে সে চমৎকার করে গাইছে- ‘২৯
সেপ্টেম্বর ভাইরে, শোক বারবে; লোক মরবে, বাঁচার উপায় নাইরে।’ বয়াতি,
বিজ্ঞজন আর আমজনতার ভাবনায় ২৯ সেপ্টেম্বর ঘিরে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি
অস্বস্তিকর বলেই মনে হচ্ছে। সমঝোতার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় এখন হিসাব মিলিয়ে দেখছে কোনটিতে তাদের লাভ আর
কোনটিই বা লোকসান। প্রস্তুিত সবাই। যেন যুদ্ধেও ময়দান। এজন্যই কেউ তারা
মাঠ ছাড়তে চাইছে না; ছাড়ও দিতে চাইছে না। ফলে দেশে এক শ্বাসরুদ্ধকর
অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিপন্ন অর্থনীতির ভঙ্গুরর পুলসিরাতের ওপর দাঁড়িয়ে আজ
দেশ। আতঙ্ক আর শঙ্কায় কাচুমাচু হয়ে আছে দেশের জনগণ। সবাই এ পরিস্থিতির
শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করে। আমরা আশা করি, ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকার এবং
বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক জোটের রাজনীতিবিদরা প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়ে, সমঝোতায়
পৌঁছে দেশের শান্তি প্রত্যাশী মানুষকে রক্ষা করবেন। জানমাল নিয়ে যে শঙ্কা
তৈরি করেছেন তা রক্ষার দায়িত্বও কিন্তু তাদের হাতেই।
আমাদের ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ বলছে এ সরকাওে অধীনে ‘নির্বাচন হবেই’ আর
আমাদের বিরোধীরা বলছে ‘এভাবে নির্বাচন হতে দেবো না তারা’। আমাদের
রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মতো করে বলছে। এর মাঝে জনগণ কোথায়? তাদের
চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে জনগণ না থাকলে গণতন্ত্র থাকে কি? তাদের কথা ‘হবেই’ আর
‘হতে দেবো না’ এর মাঝে জনগণতো দূরের কথা যেন আল্লাহ্ খোদাও নেই। যেন সব
শক্তি (অশরীরী শক্তি) তাদের হাতেই। দেশের চলমান এ রাজনৈতিক সংকট
দীর্ঘমেয়াদি হলে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে এতে কোন সন্দেহ নেই।
অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। এটি কি দেশ
ধ্বংসের ষড়যন্ত্র নয়? তাই দেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে দেশবাসীকে
ঐক্যবদ্ধভাবে সুসংগঠিত হয়ে দেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখা ছাড়া আর পথ দেখি না।
আমাদের রাজনৈতিক দল আর নেতা-নেত্রীদের বোধোদয় হবে কিনা সন্দেহ যা করার তা
জনগণকেই করতে হবে। কারণ আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর মহাপরিকল্পনাতো প্রায়
শেষ। আগামী ২৯ শুরু হবে আন্দোলন এটা বিরোধী দলের মনোভাব। অচল করে দেয়া
হতে পারে ঢাকাকে। সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের মাধ্যমে রাজধানীকে সারা দেশ
থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে ১৮ দলীয় জোটের। অন্যদিকে
রকারতো এতো দুর্বল নয়। তাদেরও জনবল রয়েছে, আছে পোষ্য নানা বাহিনী। তাতে
কুলিয়ে উঠতে পারবে কি বিরোধীদল? মনে হয় না। পূর্বেও অভিজঞ্জতা থেকেই তা
বলছি।
দেশের রাজনীতিতে এখন শেষ সময়ের হিসাব-নিকাশ চলছে। চলছে বড় দুটি দল আওয়ামী
লীগ ও বিএনপির মধ্যে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখার তীব্র প্রতিযোগিতা;
পাশাপাশি পরস্পরকে চাপে রাখার কূটকৌশল। এর সূত্র ধরেই আওয়ামী লীগ ও
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। তারা
তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে মরবে মানুষ; রক্তাক্ত হবে জনপথ; জ্বলবে গাড়ি,
ব্যাংক, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেই আগের রূপে ফিরবে দেশ। কেবল
সম্পদই নষ্ট হবে না প্রতিদিনই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃস্ব হবে।
হোঁচট খাবে দেশীয় অর্থনীতি। ব্যবসা-বণিজ্যে অচলাবস্থা দেখা দিবে।
ঘুরে-ফিরে এসব প্রশ্নই এখন দেখা দিচ্ছে মানুষের মনে। সবাই আতঙ্কিত ২৯
সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিনগুলো নিয়ে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে
এসব অনিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা হলেও ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত। অতীতের
রাজনৈতিক অস্থিরতায় বড়জোর লোকসান গুণতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের। এ ব্যাপারে
সরকারি ও বিরোধীদলকে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে গণতন্ত্র
হুমকির মুখে পড়বে।
০৫ জানুয়ারী ২০১৫ এর কথা কি পাঠক মনে আছে? পাল্টাপাল্টি শক্তি দেখাবে বলে
প্রধান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট হুকার
দিচ্ছিলো। দুই জোটের পক্ষ থেকেই পৃথকভাবে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতিও
নেওয়া হয়। ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা ও মহানগরে সভা-সমাবেশ করার প্রস্তুতি
নেয় বিরোধীজোট। ২০১৫ এর ৫ জানুয়ারী দৈনিক সংবাদসহ আরও একটি পত্রিকায় আমার
একটি কলাম ছাপা হয় শিরোনাম- ‘যুদ্ধ হবে যুদ্ধ! কিছুই হবে না আজ’। সেদিন
কিছু হয়ওনি।
ভাবা হচ্ছিলো ৫ জানুয়ারী ঘিরে অনেক সংঘাত হবে দেশে। এমন সংবাদ আমাদের
পত্রিকাগুলোও ফলঅম কওে ছাপছিলো। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা সেদিন বেশ
উত্তপ্ত হবে বলে বেশ রগড়গে খবর ছাপা হয়েছে। অনেকে বলছেন, যুদ্ধ হবে
যুদ্ধ! সরকার দল আওয়ামীলীগ এবং ২০ দলীয় জোট বিএনপির মধ্যে নাকি রিতিমত
যুদ্ধ হবে। দেশ জুড়ে এখন সাজ সাজ রবও ছিলো। গুজব গুঞ্জন, চার দিকে এক
অজানা অতংকের পর দেখা গেলো সারা দেশ প্রায় শান্ত ছিলো সেদিন। নাগরিকের
নিরাপত্তাবিধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ। ২৯
সেপ্টেম্বও ঘিওে যে আতংক তা দুর করতে হবে। সেদিন যেন রাজধানীতে সংঘাত
সংঘর্ষ না হয় তার দায়িত্ব নিতে হবে আইনর্শঙ্খলা বাহিনীকে।
আমরা আর সংঘাত সংঘর্ষ চাই না। হরতাল-অবরোধের নামে জীবন্ত মানুষ পুড়ে ঝলসে
যায়, কয়লা হয়, যখন তাদের উপার্জনের একমাত্র সম্বল কেড়ে নেয়া হয়, অসহায়
স্বজনের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়; যখন কষ্টার্জিত লাখ লাখ
টাকার সম্পদ চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়, তখন কি করবে বিরোধীজেট? তখন
রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনও প্রশ্নের মুখে পড়ে। এ কথাও সত্য যে, বিরোধী দলের
আন্দোলন করার অধিকার আছে। তারা বঞ্চিত হলে, তাদের প্রতি অবিচার করা হলে,
গণতন্ত্র নস্যাৎ হলে, জুলুম হলে তারা তো আর ঘরে বসে থাকবে না। তাদের
প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করতেই হবে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, সে প্রতিবাদ
যেন কখনো জনগণের বিরুদ্ধে না হয়। দেশের মানুষের সম্পদ নষ্ট করে, মানুষ
হত্যা করে হরতাল-অবরোধ কোনোটাই করা যাবে না। তা যৌক্তিকও নয়। আমরা এজাতীয়
প্রতিবাদ আর চাই না। কিছুতেই জানমাল নষ্ট করে আন্দোলন করা যাবে না। দেশের
মানুষ সে আন্দোলনকে ঘৃণাভরে প্রখ্যান করবে। তবে কথা হলো বিরোধী দল কেন
আন্দোলন চায়? পুনরায় অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক সরকার
প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল দাবি। ৫ জানুয়ারির মার্কা নির্বাচন চায়না বিরোধীরা।
এমন নির্বাচন নিয়ে দেশে বিদেশে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্নবিদ্ধ এ
নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের ভাবা উচিত। অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে
দেশ পরিচালিত হওয়া দরকার। এমন নির্বাচনের আয়োজন চলতি আওয়ামীলীগ সরকারকেই
করতে হবে। আমাদের বিরোধী দলগুলোর যেমন ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পরিহার করা
উচিত, তেমনি সরকারের উচিত কেন বিরোধীরা আন্দোলনে যাচ্ছে তার কারণ বের করা
এবং তার যথাযথ সমাধান করা।
আমরা আশা করব, রাজনীতিসংশ্লিষ্টদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। জানমালের ক্ষতি
হয়, অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, এমন কাজ থেকে আমাদের রাজনীতিকরা
বিরত থাকবেন এটা দেশবাসীর দাবি। দেশকে নৈরাজ্যকর অবস্থা থেকে যে কোনো
মূল্যে রক্ষা করতে হবে। দেশের বিকাশমান অর্থনীতিকে বাঁচাতে এ জন্য
রাজনৈতিক ঐক্য ও সদিচ্ছা প্রয়োজন; প্রয়োজন রাজনৈতিক সমঝোতা। এর কোনো
বিকল্প নেই।
-লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিষ্ট।