সকল শিরোনাম

ঢাকা-৫ আসন : ডেমরায় জাতীয় পার্টির গণসংযোগ ও কর্মিসভা ৬ দফা দাবি : ডেমরায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের জনসভা বদলে যাবে ৩০০ ফুট সড়ক অপরাধী শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসায়ী নিহত ঐক্যফ্রন্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে, নির্বাচনে আসবে: কাদের পঞ্চগড় থেকে দেশের দীর্ঘতম রুটে ট্রেনচলাচল শুরু বাম জোটের নির্বাচন তফসিল প্রত্যাখ্যান সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ইসির সাহসী পদক্ষেপ চাই: বি চৌধুরী খেজুরের ভেতর ইয়াবা! ‘আমার বাড়ি ভোলা, পারলে কিছু কইরেন’ আ’লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ২১ নভেম্বর কোনো অপশক্তি ভর করুক তা কাম্য নয়: নাসিম তাবলিগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রণক্ষেত্র, আহত ১০ দাবি না মানলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না: রাজশাহীতে ফখরুল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বুঝে পেল বাংলাদেশ শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম কিনলেন ওবায়দুল কাদের যে বেটারা আমার গাড়ি ঘুরিয়ে দিয়েছে, আমি ওদের মাথা ঘুরিয়ে দেব: কাদের সিদ্দিকী এই তফসিলে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে যাবে না সচিব হলেন দুই কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত সচিব ৩ জন দুই-একদিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন: কাদের নির্বাচনে ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে: সিইসি তফসিল ৮ নভেম্বরই বহাল থাকুক: ইসিকে জাতীয় পার্টি টেকনাফে গোলাগুলিতে যুবক নিহত


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা-৫ আসন : ডেমরায় জাতীয় পার্টির গণসংযোগ ও কর্মিসভা ৬ দফা দাবি : ডেমরায় রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল শ্রমিকদের জনসভা বদলে যাবে ৩০০ ফুট সড়ক অপরাধী শনাক্ত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে ঐক্যফ্রন্ট প্রস্তুতি নিচ্ছে, নির্বাচনে আসবে: কাদের পঞ্চগড় থেকে দেশের দীর্ঘতম রুটে ট্রেনচলাচল শুরু খেজুরের ভেতর ইয়াবা! ‘আমার বাড়ি ভোলা, পারলে কিছু কইরেন’ আ’লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু কোনো অপশক্তি ভর করুক তা কাম্য নয়: নাসিম তাবলিগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রণক্ষেত্র, আহত ১০ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট বুঝে পেল বাংলাদেশ শেখ হাসিনার মনোনয়ন ফরম কিনলেন ওবায়দুল কাদের নির্বাচনে ৬ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে: সিইসি তফসিল ৮ নভেম্বরই বহাল থাকুক: ইসিকে জাতীয় পার্টি

কেন সাংবাদিক নির্যাতন?

ছবি স্লাইড, শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম, সম্পাদকের কলাম | ১৪ ভাদ্র ১৪২৫ | Wednesday, August 29, 2018

  সাংবাদিক নির্যাতন এর ছবির ফলাফল মীর আব্দুল আলীম : ২৮ আগষ্ট ঢাকার সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে। সম্প্রতি ঢাকার রাস্তায় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দুর্বৃত্ত হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে যখন সাংবাদিক নেতারা ঘরে ফিরছিলেন তার ১২ ঘন্টার মাধ্যেই পাবনায় একজন নারী সাংবাদিক খুন হলেন। আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীকে (৩২) ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার নিজ গৃহে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। কেন এই হত্যাকান্ড? কারা হত্যা করলো সুবর্ণকে তা জানা জরুরী। এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড তাতে কোন সন্দেহ নেই। হরহামেশাই সাংবাদিকদের উপর সন্ত্রাসী, জনপ্রতিনিধি, পুলিশের হাত ওঠছে। সাংবাদিকরা খুন হচ্ছে। এভাবে চলে না। সাংবাদিক হত্যা আর কত সইবে জাতি? আর কত রক্ত ঝড়বে জাতির বিবেকের? সাংবাদিকতা পেশার নিরাপত্তা খুব জরুরী হয়ে পরেছে।
রাজপথে পুলিশ পেটায়, পাবনার সুবর্ণার মত সাংবাদিকদের ঘরে লাশ বানায় দুবৃত্তরা। অপকর্মের সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারি দল, বিরোধী দল সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়। পুলিশ, মাদক ব্যবসায়ী সাংবাদিকে পিছু নেয়। চেনা মাস্তান, অচেনা সন্ত্রাসী কারনে অকারনে সাংবাদিকদের পেটায়, রক্তাক্ত কেেও, খুন করে গুম করে। সাংবাদিকরা আহত হলে, নিহত হলে কতক সাংবাদিক ব্যানার হাতে রাস্তায় নামে। পুলিশ,প্রশাসনের লোকজন, রাজনীতিবীদ ছুটে আসেন, সান্তনা দেন এই পর্যন্তই। আশ্বাস মেলে ভুঁড়ি ভুঁড়ি। সান্ত্বনার বাণী, আশ্বাস মিললেও বিচার মেলে না। আর বিচারহীন সাংস্কৃতি সাংবাদিক নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ। সাংবাদিক পেটালে যদি কিছু না হয়, তাহলেতো রাস্তা ঘাটে সাংবাদিকরা মার খাবেই। সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ দায়িত্ব সরকারকে যথাযথ ভাবে পালন করতেই হবে।
সাংবাদিকরা যাই লিখুক, সেটা কারো না কারো বিপক্ষে যায়, কেউ না কেউ ক্ষুব্ধ হয়। আর তাতেই সংক্ষুব্ধ পক্ষ মারমুখী হয়। সুযোগ পেলে গায়ে হাত তোলে, রক্তাক্ত করে, গুম করে, খুন করে।  সাংবাদিকদের কোনো বন্ধু নেই, বন্ধু থাকতেও নেই। তারা সমাজের, দেশের অন্যায়, অসঙ্গতি তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের উপর সম্মিলিত আক্রমণ দেখে মনে হয়, সাংবাদিকরা ঠিক পথেই আছেন, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারছেন। ওদের উপর পুলিশও ক্ষেপে, সন্ত্রাসী, রাজনীতিবিদ, মাদক ব্যবসায়ী সবাই চটে থাকে সব সময়। সাংবাদিকরা তো কারো সন্তুষ্টির জন্য লিখবে না। তাই সবার চুক্ষুশূল হয় একজন সাংবাদিক। সাংবাদিকরা স্বাধীন মত প্রকাশ করতে গিয়ে যদি একের পর এক সাংবাদিক হত্যার ঘটনা ঘটে কিংবা সাংবাদিকরা হামলার শিকার হন তাহলে এর চেয়ে হতাশাজনক ঘটনা আর কী হতে পারে? সর্বশেষ শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় সাংবাদিক নির্যাতন, নিগৃহের ঘটনা অত্যন্ত দু:খজনক ও নিন্দনীয়। বিষয়টি উদ্বেগজনকও। এমন ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ শঙ্কিত না হয়ে পড়ে না। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা যারই পৃষ্টপোষকতা পাক না কেন তাদের কোন ছাড় দেয়া সরকারের সমচিন হবে না।
প্রশ্ন হলো সাংবাদিকদের উপর কেন একর পর এক হামলা ঘটনা ঘটছে? কোনো সরকারের হাতেই প্রণীত হয়নি একটি সাংবাদিক সুরক্ষা আইন। এমনকি দেশে অব্যহত সাংবাদিক খুনের ঘটনা ঘটলেও কোনো খুনের বিচার প্রক্রিয়াই সুষ্ঠুভাবে এগোয়নি। সাংবাদিকরা প্রতিবাদি হওয়ায় পরে পুলিশ কিছুটা সোচ্চার হয়। আরেকটি বড় বিষয় সাংবাদিকদেও নিজেদেও মধ্যে ঐক্যেও অভাব। তাই দেশে সাংবাদিক নির্যাতন দিনদিন বাড়ছেই। ঘটনা ঘটিয়ে পার পেলে যা হয় তাই হচ্ছে। দেশে সাংবাদিক হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি একটিরও। একইভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে দিনের পর দিন সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে সাংবাদিকতা পেশা ক্রমাগতই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রথাগত দুঃখপ্রকাশ ও হামলাকারীদের শাস্তির আশ্বাস দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। একটি গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। সাংবাদিকদের পেশায় এ চলমান ঝুঁকি কমাতে রাষ্ট্র কি কোনো উদ্যোগ নেবে? সাংবাদিক সমাজের জন্য দূর ভবিষ্যতে কি কোনো উজ্জ্বল আলো অপেক্ষা করছে? বিশ্বের যেসব দেশে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না, সে দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সাংবাদিক খুন হয় আর তার বিচার হবে না তা কী করে হয়?
পরিসংখ্যানটি আঁতকে ওঠার মতো। গত দেড় যুগে ৫১ জন সাংবাদিক হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের এই দেশটিতে। সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার ঘটনা থেকে শুরু করে সাংবাদিক হত্যাকান্ডের একটি ঘটনার সঠিক বিচার হয়নি। খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকরা নিজেরাই খবর হচ্ছেন। প্রতি বছরই একাধিক সাংবাদিকের অপঘাতে মৃত্যু হচ্ছে, কিন্তু সারা জীবন সত্যের পেছনে ছুটে বেড়ানো এসব সাংবাদিকের হত্যা রহস্য হিমশীতল বরফের আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। শুধু বিচারই নয়, একটি হত্যাকান্ডেরও রহস্য প্রকাশিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে হত্যাকারীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যাপন করছে স্বাভাবিক জীবন। কেউ কেউ রয়েছে জামিনে। কেউ আবার মিডিয়াতেই কর্মময় জীবনযাপন করছে। অনেক হত্যাকান্ডের বিচারকার্য এমনকি তদন্ত কাজ, চার্জশিট ঝুলে আছে। কয়েকটি মামলার ক্ষেত্রে বছরের পর বছর সময় নিয়েও তদন্ত শেষ করতে পারেনি পুলিশ। এ দীর্ঘ সময়ে সাংবাদিক হত্যারও বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের অমার্জনীয় ব্যর্থতা। এ ব্যর্থতার দায় কোন সরকারই এড়াতে পারবে না।
রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ, আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তো দূরে থাক, কোন সাংবাদিক হত্যাকা-েরই বিচার হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে হরদম। সরকারকে এসব হত্যাকান্ডের বিচারে অবশ্যই আন্তরিক ও কঠোর হতে হবে। কোন একটি মামলার বিচারকার্য আজ পর্যন্ত সুরাহা হয়নি। বিচার প্রক্রিয়ার এই দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। ফলে তারা সাংবাদিকদের বাসগৃহে প্রবেশ করে নৃশংসভাবে হত্যা করার মতো স্পর্ধা দেখাতেও পিছ-পা হচ্ছে না। আমরা চাই, দেশে সংঘটিত প্রতিটি হত্যাকান্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক। এটি একটি দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। এখন আর মুখের কথায় কেউ আস্থা স্থাপন করতে চায় না। সাংবাদিক নির্যাতন আর হত্যাকান্ড নিয়ে কোন টালবাহানা দেশের জনগণ ও সাংবাদিক মহল মেনে নেবে না। তাই সংশ্লিষ্ট মহল এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন ও বাস্তবিক পদক্ষেপ নিয়ে অতি সত্বর মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে বিচারের সম্মুখীন করবে এটাই আমরা বিশ্বাস করি।
দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সংবাদপত্র, সাংবাদিক, সাংবাদিকতা বিষয়ে দেশের অধিকাংশ মানুষেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই। সাংবাদিক মানেই ধান্ধাবাজ, প্রতারক, ব্লাকমেইলার ও ভীতিকর কোনো প্রাণী, এমন ধারণাই পোষণ করে দেশের গরিষ্ঠ মানুষ। প্রকৃত সাংবাদিকরা এর কোনটাই নন। সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা। এটা কেবল পেশা নয়, একজন সাংবাদিক এ সেবায় থেকে মানুষকে সেবা দিতে পারেন। দেশের কতিপয় অসৎ সম্পাদক, সাংবাদিক অর্থের বিনিময়ে সারাদেশে নানা অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেও সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র দিয়ে এ পেশার সম্মান হানি করছে। এরা সাংবাদিক নন। সাংবাদিক নামধারি। এদের কতকের কারনে সাংবাদিকতা যে একটি অনন্য পেশা তা দেশের অধিকাংশ মানুষ জানে না। এখনও সংবাদপত্র জনগনের কথা বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বলেই দেশের মানুষ অনেকটা শান্তিতে আছেন। সৎ সাংবাদিকতার জায়গাটা বিলুপ্ত হলে দেশে দুর্ভোাগ নে আসবে। একটি সংবাদপত্র আতœ প্রকাশের সঙ্গে সারা দেশের হাজার হাজার সাংবাদিকের ঘাম-শ্রম ও জীবনঝুঁকি জড়িত। গভীর রাত পর্যন্ত ঘুমহীন কাজ করতে হয় অনেক সংবাদকর্মীর। অনেকটা নিশাচরের ভূমিকা তাদের। সাংবাদিকদের পারিবারিক জীবন বলতে কিছু নেই। কিন্তু কিছু অসৎ এবং ভুয়া সাংবাদিকদেও কারনে সাংবাদিকদের মূল্যায়ন সমাজে নেই বললেই চলে। পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি তো রয়েছেই। সমাজের অনেক সাংবাদিক ত্যাগী, নির্লোভী ও সৎ। তারা মানবকল্যাণে, সমাজকল্যাণে নিয়োজিত রয়েছেন। এই দিকটিও সরকারকে আমলে নিতে হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যা বন্ধ করা না গেলে সৎ, মেধাবী, যোগ্য, তথ্যপ্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এখন যে সংবাদপত্রে ঢুকছেন, তারা নিরুৎসাহিত হবেন। এমনিতেই সাংবাদিকদের পেশাগত নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা নেই, তার ওপর যদি কর্তব্য পালন করতে গিয়ে তাদের জীবনঝুঁকি বেড়ে যায় কিংবা তারা হামলা-হত্যার শিকার হন তাহলে কিভাবে সাংবাদিকতা পেশা বিকশিত ও প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা মনে করি, এ ব্যাপারে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
সাংবাদিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অথচ আমাদের দেশে আজ পর্যন্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তো দূরে থাক, কোনো সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডেরই বিচার হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে হরদম। সরকারকে এসব হত্যাকাণ্ডের বিচারে অবশ্যই আন্তরিক ও কঠোর হতে হবে। আতঙ্কের কথা হলো, সাংবাদিকরা খুন হচ্ছেন নিজের ঘরেই। খোদ ঢাকায় নিজ গৃহে সাংবাদিক ফরহাদ খাঁ দম্পতি ও সাগর-রুনি দম্পতি খুন হয়েছেন। রাজধানীতে থানার ছাদ থেকে ফেলে এক সাংবাদিককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। দিনের পর দিন এই হত্যাকাণ্ড বেড়েই চলছে। গত দেড় যুগে খুন হওয়া ৫১ সাংবাদিকের মধ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের শাসনামলে ১৯ সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকাতেই খুন হয়েছেন ১০ সাংবাদিক। বিভিন্ন তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বর্তমান সরকারের শাসনামলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আহত হয়েছেন ৩৪০ সাংবাদিক। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে খুন হয়েছে ১০ সাংবাদিক।
সাংবাদিকরা জাতির বিবেক বলে বিবেচিত। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্বসহকারে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা অনিয়ম, অসঙ্গতি কলমের ডগায় তুলে আনেন তারা। বস্তুনিষ্ঠতা ও সততার সঙ্গে পৌঁছে দেন সাধারণ মানুষের কাছে। বর্তমান বিশ্ব ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নখদর্পণে। তাই মুহূর্তের মধ্যে সংবাদ চলে আসে জনসাধারণের দোরগোড়ায়। আর এসব সংবাদ পৌঁছে দিতে প্রিন্টিং ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা তাদের সর্বোচ্চ মেধা, শ্রম, দায়িত্ব ও আন-রিক সেবা বিনিয়োগ করেন। এসব তথ্য ও অসঙ্গতি তুলে ধরে যেমন দেশের নাগরিকদের তাদের ন্যায্য অধিকার সম্বন্ধে সচেতন করে তোলেন, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদেরও বাধ্য করেন সঠিক পথ অনুসরণ করে সঠিক কাজটি করতে। এর ফলে অনেক সাংবাদিকই হয়ে ওঠেন অশুভচক্রের চক্ষুশূল। সংবাদ সংগ্রহ ও উপস্থাপনকারীর জীবন হয়ে ওঠে বিপন্ন। তবু প্রাণের ঝুঁকি জেনেও কখনও তারা থেমে থাকেন না দায়িত্ব পালনে। যে কোনো প্রতিকূল পরিসি’তিকে মোকাবিলা করে সত্যের সন্ধানে ছুটে চলেন দেশ-বিদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত। যুদ্ধ, অগ্নিকাণ্ড, যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক, ঝড়-তুফান কিংবা মাদক বা সন্ত্রাসীদের আড্ডাখানায় ভয়াবহ বিপদ মাথায় নিয়ে ঢুকে পড়েন। একজন সৎ সাংবাদিক বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন অন্তরালের অনেক অজানা তথ্য। উদ্ঘাটন করে নিয়ে আসেন ঘটনার নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা গূঢ় রহস্য। কিন্তু এর কোনোটাই একেবারে সহজসাধ্য কোনো কাজ নয়। এসব কাজে যেমন আছে সম্মান, তেমনি আছে মারাত্মক ঝুঁকিও। তাই আমরা বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকদের নানাভাবে প্রতিপক্ষের জিঘাংসার শিকার হতে দেখি। নির্যাতিত ও নিপীড়িত হতে হয় তাদের।
অবস্থাদৃষ্টে অকপটে বলতে হয়, আমাদের দেশের সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। গত দেড় দশকে একজন সাংবাদিক হত্যারও বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের অমার্জনীয় ব্যর্থতা। তাই সাংবাদিকরা হরহামেশাই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বিএনপি, আওয়ামী লীগ, তত্ত্বাবধায়ক কোনো সরকারই এ ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারে না। আমরা সাংবাদিক হত্যাকান্ড এবং নির্যাতনের সব  মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাই।
লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক,  কলামিষ্ট, গবেষক।