সকল শিরোনাম

সেবা খাতে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে কবে? কেন সাংবাদিক নির্যাতন? সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের জেল রূপগঞ্জে গাজা ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আসামের তালিকা নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই: ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী বললে পদত্যাগ করব : নৌমন্ত্রী শিশুরা আমাদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে : মনিরুল শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারকারা রাস্তায় পুলিশের নামে মামলা দিতে সার্জেটকে বাধ্য করলো শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও থামুক; সড়কও নিরাপদ হউক দু:স্থদের মাঝে বিসিএস পুলিশ পরিবারের ঈদ বস্ত্র বিতরণ ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ৬ জুন  দ্রব্যমূল্য বাড়ার মাস কী রমজান! সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে লিখিত স্থগিতাদেশ পেলে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের জন্য আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল সৌহার্দ্যপূর্ণ আন্তঃবাহিনী সম্পর্ক বজায় রাখার আহবান আইজিপির গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২৬ জুন বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের নয়, কাজের লোককে ভোট দিন: ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

কেন সাংবাদিক নির্যাতন? সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের জেল রূপগঞ্জে গাজা ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আন্দোলনও থামুক; সড়কও নিরাপদ হউক ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল বাপ্পী-মিমের প্রেম অনুরাগ প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ৬ জুন হাসান ইন্তিসার এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২৬ জুন বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের ৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার

আন্দোলনও থামুক; সড়কও নিরাপদ হউক

ছবি স্লাইড, জাতীয় সংবাদ, সকল শিরোনাম, সম্পাদকের কলাম | ১৮ শ্রাবণ ১৪২৫ | Thursday, August 2, 2018

your Profile Photo, Image may contain: 1 person, closeupমীর আব্দুল আলীম :
শিক্ষার্থীরা সড়ক নৈরাজ্য রোধে পথে নেমেছিলো; আর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীর উপরই পিক-আপ তুলে দিল নিষ্ঠুর চালক। এটা কতটা দু:সাহস! এমন দু:সাহস ওরা পায় কি করে? রাষ্ট্র কি অন্ধ? রাষ্ট্রের সবাই যখন ব্যর্থ; পথ ঘাট যখন রক্তাক্ত, তখন শিশুরা তা রোধে রাস্তায় নেমে আসে। এর বিকল্প কিইবা গত্যান্ত ছিলো তাদের। আমরা যা পারিনি তা আমাদের সন্তানেরা করে চোখে অঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। এদেশে নানা ধরনের আন্দোলন হয়, কারনে অকারনে হয়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কেউ আন্দোলন করেনা কখনো। আন্দোলন হচ্ছে, শিশুরা আন্দোলন করছে, এ আন্দোলন বছর, মাস জুড়ে চাই না। তাতে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যবসা বাণিজ্যের স্থবিরতা আসবে। শিশুদের এ আন্দোলন থেমে যাক, ওরা আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাক, পাশাপাশি আমাদের সড়ক মহাসড়কও নিরাপদ হউক এটাই কয়মনে চাই।
আমাদের আবার অনেক সমস্যা। এভাবে আন্দোলন চলতে থাকলে দেশে উস্কানি দেয়ার লোকের অভাব হয় না। রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এ আন্দোলন ব্যবহার করাতে পারেন অনেকে। আন্দোলনও থেমে যাক; সড়ক দুর্ঘটনা ও কমে যাক এটাই সবাই চায়। এ আন্দোলন চলতে থাকলে সরকারেরই বেশি ক্ষতি হবে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশ সন্ত্রাসীরা চড়াও হচ্ছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ঠিক হবে না। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর পিক-আপ তুলে দেয়ার খেশারত হয়তো অনেক বেশিই দিতে হতে পারে। তাতে শিক্ষার্থীদের সরকারের প্রতি ধারনা খারাপ হবে, তাদের অভিভাবকরাও বিগড়ে যাবেন। ওদের মনে কষ্ট দিয়ে সরকারকে কিছু করা বোধ করি ঠিক না। সরকার ভূল করলে অনেক বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে সরকারেরই।
সরকার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন থামিয়ে দিতে ভিন্ন পথ খুঁজুক।  সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে এ আন্দোলন রোধ করা যাবে না। সরকার প্রধান তথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের মত সড়ক দুর্ঘটনা রোধেও যুদ্ধ ঘোষণা করুক। সরকার ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রতি উপজেলায় কম করে ২০জন অবৈধ চালক এবং ফিটনেস বিহীন গাড়ি আটক করে আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দিক। অবৈধদেও ধড়পাকড় শুরু করুক। নিশ্চিত শিক্ষার্থীরা ঘওে ফিওে যাবে। তাতে বাকি অবৈধ চালকরা পথ ছেড়ে পালাবে। অবৈধ গাড়িও সড়ক থেকে উধাও হবে। সারা দেশে আওয়াজ উঠবে, সরকার প্রশংসিত হবে। সড়কে অরাজকতা বন্ধে আইনের কঠোরতা বাড়িয়ে দিতে হবে সরকারকে। অপ্রাপ্তবয়স্ক-অবৈধ চালকদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অবলম্বন করতে হবে। ভয় কেঅথায় জানি না। অবৈধ চালক আর গাড়ির ব্যবসায়ীদেও চেয়ে জনগনের সংখ্যা এবং শক্তি অনেক বেশি। পরিবহন ব্যবসায়ীকে পরিবহনের দায়িত্ব দেয়া আর শুটকীর নাওয়ে  (নৌকায়) বিড়ার চৌকিদার হওয়া সমান কথা। সরকার পরিবহন সেক্টরে পরিবর্তন আনুক। সড়ক খুনিদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিক এটাই আমরা চাই।
মাঝে মাঝে ভাবি এ কেমন দেশে বাস করি আমরা। আমাওে সড়কে প্রতিদিন ১০/১২ জন কওে গড়ে মানুষ মরছে সবাই কেমন ভাবলেসহীন। কারো জন্য কারো ভাবনা নেই। রক্তাকত লাশ কাউকে ব্যথিত কওে না এ কেমন দেশ। অথচ একটি নির্দেশেই সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রন হতে পারে। সেই ঘোষণা আসুক সরকারের কাছ থেকে। আসলে কিছুতেই কিছু হচ্ছে না, আর হবেও না। আমাদের সড়ক অনিরাপদই থাকে যাবে। আমরা ঘর থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আর নিরাপদে বাড়ি ফিরার আশা করতে পারি না। নিজেদের মসনদ পাকাপোক্ত করতে আন্দোলন, সভা সেমিনা হয়, মসনদ লাভে আশায় জ্বলাও পোড়াও, মানুষ খুন হয়; আমাদের সড়ক নিরাপদ হয় না। আমাদের খুনে সড়ক নিয়ে কেউ ভাবে না, কেউ কথা বলে না। প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারিগণ বেতন ভাতা বাড়ানোর জন্য নিজেদের সুখ শান্তির জন্য দিনের পর দিন অনশন করেন একজনও নিরাপদ সড়কের জন্য কথা বলেন না। প্রায়ই শিক্ষক, ডাক্তার, ব্যবসায়ী, সাংবাদি, ওকিল, নার্স সবাই নিজেদের লাভের খোঁজে রাস্তায় নানা কিসিমের আন্দোলন করেন, কেউ নিরাপদ সড়কের জন্য টু শব্দটি করেন না। মন্ত্রী আমলাগণ সার দিনই নানা ইস্যুতে মিষ্টি মিষ্টি লোক ভুলানো, মনজুড়ানো কথা বলেন, নিরাপদ সড়কের  ব্যাপারে তাদের মুখে কুলুপ আঁটা থাকা। উল্টো সড়কে আমাদের সন্তানদের পিষ্ঠ করে খুন করলে শাহজাহান খান মার্কা হৃদয়ে চোঁট লাগার মতো কথা বলেন। অফসোস, কেউ নিরাপদ সড়ক নিয়ে কথা বলেন না। তাই আমাদের সড়ক মহাসড়ক অনিরাপদই থেকে যাচ্ছে। আমাদের সড়ক গুলো দানবীয় রূপে আবিভ’ত হচ্ছে। প্রতিদিন সড়কে ১০/১২ জন করে মানুষ মরছে। এটা কি সহজ কথা! এটা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু নয়, এটা হত্যা। এদেশে খুনখারাপিতে, দাঙ্গা-হাঙ্গায়, গুম-খুনে যত মানুষ মরে তার চেয়ে বহু গুন মানুষ মারা যায় গাড়ির চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে। কি করছি আমরা, কি করছে সংশ্লিষ্টরা, আর সরকারই বা কি করছে?
আমাদের নিরাপদ রাখার কোন দায়িত্ব কি সরকারের নেই? আসলে সড়কের ব্যাপারে কেউ তেমন ভাবে না। এরশাদ সরকার, খালেদার সরকার, তত্বাবধায়ক সরকার, বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার সড়ক নিরাপদ করতে কে কি করেছেন? আপনারা কি খুজে পান জানি না। তাঁদেও সকলের কর্মের খাতা শুণ্যই রয়ে গেছে। তাঁরা কিছু একটা যদি করতেন বা করেন, তা হলে আমাদের সড়ক এত অনিরাপদ কেন? দেশে নতুন নতুন সড়ক হচ্ছে, যমুনায় সেতু হয়েছে, স্বাপ্নের পদ্ম সেতু হচ্ছে, উন্নত বিশ্বেও আদোলে ফ্লাইওভার হয়েছে, রাজধানীতে সুন্দর লেক হয়েছে, ফোয়ারা হয়েছে, উন্নত বিশ্বেও মতো মেট্রো রেলও হবে। নিরাপদ সড়কের কি হবে? কিছুই হবে না। সড়ক নিরাপদ করতে যারা দেশ চালান তাদেরতো ভাবনা থাকতে হবে? এত মানুষ প্রতি দিন মারা যাচ্ছে, খুন হচ্ছে তাতেও দিলে চোট পাচ্ছেন না কেন আপনারা। আপনারা কি দয়া মায়াহীন মানুষ? স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার কোমল মতি শিশুরা রাস্তায় পিষ্ঠ হচ্ছে, ওদের কচি মাংস থেতলে, পিষ্ঠে সড়কে এ্যবড়ে দেবড়ে যাচ্ছে, ওদেও শরিরের টকবগে রক্ত পিচ ঢালা কালো রাস্তা রাঙ্গা করে দিচ্ছে। আপনাদের হৃদয় বলে কি কিছু নেই? আপনারা এতই নিষ্ঠুর? আপনাদের ভাবনা কেন কম তা জানি। আপনারা সড়কে চলতে গেলে পুলিশ র‌্যাপ সবাই অপনাদেও জন্য সড়ক নিরাপদ করে রাখে, আপনাদেও মার্কাওয়ালা গাড়ি দেখলে দানবিয় ড্রাইভারগুলোও আপনাদের সমিহ করে আপনাদের নিরাপদ রাখে। এ জন্যই কি আপনারা নির্ভয়ে আছেন? এ জন্যই কি আপনারা ঘাপটি মেরে সাধারন মানুষের লাশ দেখে মজা নিচ্ছেন? এভাবে হয়না ম্যাডাম, এভাবে হয়না মহাশয়!! দেশের মানুষের কথা একটু ভাবুন। মানব রক্ত, কঁচি শিশুর থেতলে যাওয়া মাংম ইউটিউব ফেসবুকে দেখুন তাতে দেখে দিলমন নরম হয় কি না। আনারা সরকােেও আছেন তাতে কি? দেশে এখন প্রতিবাদ করতে রাস্তায় মানুষ নামে না তাতে কি? সবাইতো এক? সব  বিড়ালেরইতো এক রা। তাই এখন জনগন প্রতিবাদ করে কম। যারাই মসনদে যাবে তারা সবার রূপই এমন হবে, জেনে গেছে জনগন। জনগন তা ভালই বোঝে। তাই দেশে আন্দোলন সংগ্রাম কম হয়। আগের মতো জনগন আর দৌড়ে রাস্তায় নামে না।  আন্দোলন হলে তো ব্যবসা বাণিজ্য হয় না। গরিবের রুটি রুজী হয় না, তাই  জনগন ভাবে যে ভাবে চলছে সেভাবেই চলুক, মন্দ কি? এটা গণআন্দোলন কিন্তু খুব দরকার। সড়ক নিরাপদ করতে চাই একটা গণআন্দোলন। সবাই সে আন্দোলনে সামিল হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, খালেদাজিয়া, এরশাদ, মন্ত্রী, আমলা, লিক্ষক, সাংবাদিক, ওকিল, নাজিও, ওজির সবাই রাস্তায় নেমে আসুক নিরাপদ সড়কের জন্য। আমরা কজন মাঝে মাঝে চেঁচামেচি করি, ইলয়াস কোন সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে রাস্তায় নামেন তাতে কি হয়। নাথিং। ভোগাস সব। সবাই মাঠে নামুক  নিরাপদ সড়কের জন্য। রাষ্ট্র সড়ক নিরাপদ করতে ব্যবস্থা নিক।
সড়ক দুর্ঘটনা, এ যেন অলঙ্ঘনীয় ব্যাপার; মৃত্যুদূত ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মতো। ঘর থেকে বের হয়ে আবার ঘরে ফেরা যাবে কি? এমন সংশয় বরাবরই থেকে যায়। এ প্রশ্নের ইতিবাচক জবাব পাওয়াও কঠিন বাংলাদেশে। তাই প্রতিদিন গণমাধ্যমে আমরা দেখতে পাচ্ছি সড়ক দুর্ঘটনার অসংখ্য বিভৎস ছবি, দেখতে পাই স্বজন হারানোদের আহাজারি। আমাদের সড়ক যেন এখন মরণফাঁদ। এমন কোন দিন নেই, যেদিন অকালে প্রাণ ঝরছে না, প্রিয়জন হারানোর বেদনায় বাতাস ভারি হয়ে উঠছে না। দেশে যেভাবে সড়ক দুর্ঘটনা  বেড়েছে তাতে, নিরাপদ সড়ক বলে আর কিছু নেই। প্রতিদিন এমন হত্যাকান্ড ঘটলেও সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি গা-সওয়া হয়ে গেছে; সড়ক-মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে নেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। তাই বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার নামে ধারাবাহিক হত্যাকান্ড চলছে। এ অবস্থায় আজকাল আর কেউ ঘর থেকে বের হলে পৈত্রিক প্রাণটা নিয়ে ফের ঘরে ফিরতে পারবেন কিনা সে নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।
এতো দেখছি খুনীদের দেশ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রাকৃতিক নয়, মানবসৃষ্ট কারণ। তাহলে এমন মৃত্যুকে আমরা কেন খুন বলবো না? সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা পরোক্ষভাবে হত্যারই শিকার হন। কিন্তু হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার জনকাক্ষিত উদ্যোগ নেই বাংলাদেশে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা না কমে জ্যামিতিক হারেই বেড়ে চলেছে। এমন কোনো দিন নেই, যে দিন সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে না। বিগত এরশাদ সরকারের আমলে সড়ক দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সরকার দুর্ঘটনা সংঘটনকারী গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন করেন। এতে চালকের দায়িত্বে অবহেলার কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় কারো মৃত্যু ঘটলে এজন্য চালককে নরহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করার বিধান রাখা হয়।  কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে পরে তা রহিত করতে বাধ্য হয় সরকার। এরপর থেকে বিভিন্ন সরকারকে পরিবহন শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার কাছে প্রায় জিম্মি থাকতে দেখা যাচ্ছে। এভাবে দুর্ঘটনা সংঘটনকারী চালকদের শাস্তি না হওয়া, ট্রাফিক আইন লংঘন, লাইসেন্সবিহীন ও অদক্ষ চালক কর্তৃক গাড়ি চালানো, আনফিট গাড়ি রাস্তায় চালানো, সড়ক যোগাযোগে অব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কারণে ইদানিং সড়ক দুর্ঘটনা মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দুর্ঘটনার সাথে জড়িত চালকদের বিচারের কাঠগড়ায় নিয়ে আসার ঘটনা এদেশে বিরল। দেখা গেছে, প্রায় সব ক’টি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই চালকরা পার পেয়ে গেছে। কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি তাদের বিরুদ্ধে। উৎকোচ কিংবা অর্থ ভাগাভাগির মধ্যে দিয়েই সমাপ্তি ঘটেছে এসব ঘটনার।
সরকারি হিসাবে গত ১০ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে ৩৪ হাজার ৯১৮ জন। প্রতি বছর মারা যায় ৩ হাজার ৪৯১ জন। থানায় মামলা হয়েছে এমন দুর্ঘটনার হিসাব নিয়ে পুলিশ এ তথ্য দিয়েছে। বেসরকারি হিসাবে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে ২০ হাজার ৩৪ জন। প্রতিদিন গড়ে মারা যায় প্রায় ৫৫ জন। পুলিশের দেয় তথ্য ও বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান থাকার কারণ হল, দুর্ঘটনার পর পুলিশকে ৬৭ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। এ ঝামেলার কারণে অনেক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ রেকর্ডভুক্ত করে না। যা হোক, পুলিশের দেয় তথ্যানুযায়ী ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে প্রায় ২ হাজার ১৪০ জন। মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে ১ হাজার ১৮৬ এবং সামান্য আহত হয়েছে ১৫৭ জন। অন্য একটি প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী ১৯৯৪ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭২ হাজার ৭৪৮টি। মারা গেছে ৫২ হাজার ৬৮৪ জন। আহত ও পঙ্গু হয়েছে আরো কয়েক হাজার মানুষ। ২০০৯ সালের এক আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় এশিয়া, ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার ১৫টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা নেপালে বেশি, দ্বিতীয় বাংলাদেশ। সবচেয়ে কম যুক্তরাজ্যে। এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার নিবন্ধিত যানবাহনের দুর্ঘটনায় নেপালে মারা যায় ৬৩ জন এবং বাংলাদেশে ৬০ জন। যুক্তরাজ্যে এ হার মাত্র ১ দশমিক ৪ শতাংশ। ওই গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রায় ৩২ শতাংশ ১৬ থেকে ৩২ বছর বয়সের মধ্যে। ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় দেশে যানবাহন দুর্ঘটনায় বছরে ১০ হাজারেরও বেশী মানুষ মারা যায় এবং আহত ও পুঙ্গ হয়ে পরনির্ভরশীল জীবন কাটাতে বাধ্য হয় এর চাইতেও অনেক বেশী মানুষ। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতির সাম্প্রতিক এক গবেষণা তথ্যে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় ফি বছর ৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদহানি হয়। এটি দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক ৯৫ শতাংশের সমান। বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির হার উন্নত দেশসমূহের তুলনায় শতকরা ৫০ ভাগ বেশি। এক গবেষণা জরিপ হতে জানা যায়, ৪৮ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী যাত্রীবাহী বাস, ৩৭ শতাংশ দায়ী ট্রাক। এক গবেষণায় দেখা যায়, নানা কারণে দেশে প্রতি ১০ হাজার মোটরযানে ১০০টি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটছে। উন্নত দেশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক হাজার মোটরযানে দুই দশমিক পাঁচ ভাগ থেকে তিন দশমিক পাঁচ ভাগ। অন্যদিকে আমাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রতি এক হাজার যানবাহনে ১৬৩ জন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সরকারি হিসাব মতে, ১৯৯৯ সালে ৪ হাজার ৯১৬ জন, ২০০০ সালে ৪ হাজার ৩৫৭ জন, ২০০১ সালে ৪ হাজার ৯১ জন, ২০০২ সালে ৪ হাজার ৯১৮ জন, ২০০৩ সালে ৪ হাজার ৭ ৪৯ জন, ২০০৪ সালে ৩ হাজার ৮২৮ জন, ২০০৫ সালে ৩ হাজার ৯৫৪ জন, ২০০৬ সালে ৩ হাজার ৭৯৪ জন, ২০০৭ সালে ৪ হাজার ৮৬৯ জন, ২০০৮ সালে ৪ হাজার ৪২৬ জন, ২০০৯ সালে ৪ হাজার ২৯৭ জন, ২০১০ সালে ৫ হাজার ৮০৩ জন, ২০১১ সালে ৩ হাজার ৬৮৮ জন, ২০১২ সালে ৫ হাজার ৯১১ জন, ২০১৩ সালে ৪ হাজার ৮৬৫ জন এবং ২০১৪সালে  ৩ হাজার ৯৭৫ জন, ২০১৫ সালে ৮ হাজার ৬৪২ জন, ২০১৬ সালে ৭ হাজার ৪২৭ জন, ২০১৭ সালে ৮ হাজার ৬৯৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। ২০১৮তে চলতি জুন পর্যন্ত হিসাবে বিগত বছরের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। প্রতিবছরই এভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ মরছে আর তা রোধ করা যাচ্ছে না কেন? অদক্ষ ও দুই নম্বরী লাইসেন্স প্রাপ্ত চালকগণই যে এসব দুর্ঘটনার জন্যে দায়ী তা বলাই বাহুল্য। এর প্রতিকার কেউ করছে না।
দেশে সন্ত্রাস দমনে যদি বিশেষ র‌্যাব বাহিনী গঠন করা যায়, দুর্ঘটনা রোধে এ জাতীয় বাহিনী নয় কেন? এক হিসেবে দেখা গেছে, দেশে সন্ত্রাসীদের হাতে শতকরা ৩০ জন লোক মারা গেলে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় ৭০ জন। ৩০ জনের জীবনসহ অপরাপর জানমাল রক্ষায় সরকারের একটি বাহিনী থাকলে শতকরা ৭০ জনের জীবনসহ অসংখ্য আহত ও ডলারে কেনা পরিবহন রক্ষায় সরকার সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বাহিনী গঠন করছে না কেন? দেশের মানুষের জানমাল রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দুর্ঘটনা রোধে চরমভাবে ব্যর্থ সরকারকে দেশের মানুষের স্বার্থে যথাসম্ভব দ্রুত ভাবতে হবে। আমরা জেনেছি, কেবল সড়ক দুর্ঘটনায়ই দেশে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটছে। এ হিসেবে মাসে ৯০০ জন এবং বছরে ১০ হাজার ৮০০ জন মারা যাচ্ছে। তবে বিআরটিএ’র পরিসংখ্যানমতে, এ সংখ্যা দিনে ১৬ এবং বছরে পাঁচ হাজার ৭৬০ জন। আইন না মানাই হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ ক্ষেত্রে সবাইকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশসহ চলমান প্রশাসন এ আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনে তাদের ঢেলে সাজাতে হবে, অন্যথায় দুর্ঘটনা রোধে নতুন করে র্যাবের মতো দুর্ঘটনা রোধে বিশেষ বাহিনী গঠন করতে হবে। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে — ১. ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল, ২. মোবাইল ফোন ব্যবহার, ৩. অতিরিক্ত যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন, ৪. ট্রাফিক আইন না মানা, ৫. নিয়োজিতদের দায়িত্বে অবহেলা, ৬. চালকদের বেপরোয়া মনোভাব, অদক্ষতা ও অসতর্কতা এবং ৭. অরক্ষিত রেললাইন। আর এসব কারণে প্রতিদিনই ঘটছে হতাহতের ঘটনা।
দুর্ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটছে, ঘটবেও। কেন তা রোধ করা যাচ্ছে না? আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় দেশে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রুখতে হবে? যে কোনো মৃত্যুই দুঃখজনক। সে মৃত্যু যদি অকাল ও আকস্মিক হয়, তবে তা মেনে নেয়া আরও কঠিন। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একের পর এক অকালমৃত্যু আমাদের শুধু প্রত্যক্ষই করতে হচ্ছে না, এ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বিভীষিকাময় ও অরাজক পরিস্থিতিও মোকাবিলা করতে হচ্ছে, যা আমাদের কারও কাছেই কাম্য নয়। আমরা সড়ক দুর্ঘটনা রোধে পরিবহন মালিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে সমন্বিত আন্তরিক, সচেতন, দৃঢ় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আমরা আশা করি।
৥লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক,  কলামিষ্ট, গবেষক।