সর্বশেষ সংবাদ: বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের ৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার সিসি ক্যামেরার আওতায় রামপুরা ট্রাফিক জোন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা খালেদাকে জেলে রেখে নির্বাচনের কথা ভাবতে পারে না বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে বিএনপি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে

সকল শিরোনাম

দু:স্থদের মাঝে বিসিএস পুলিশ পরিবারের ঈদ বস্ত্র বিতরণ ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ৬ জুন  দ্রব্যমূল্য বাড়ার মাস কী রমজান! সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে লিখিত স্থগিতাদেশ পেলে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের জন্য আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল সৌহার্দ্যপূর্ণ আন্তঃবাহিনী সম্পর্ক বজায় রাখার আহবান আইজিপির গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২৬ জুন বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের নয়, কাজের লোককে ভোট দিন: ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের ৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার এমপি হতে শেষ চেষ্টায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে: ড. কামাল রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫টি খাল খনন করবে ওয়াসা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে খসড়া আইনের প্রস্তাব সিসি ক্যামেরার আওতায় রামপুরা ট্রাফিক জোন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা ফখরুলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন রিজভী কালবৈশাখীর কারণে রূপালী ব্যা‍ংকের লিখিত পরীক্ষা বাতিল খালেদাকে জেলে রেখে নির্বাচনের কথা ভাবতে পারে না বিএনপি


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

দু:স্থদের মাঝে বিসিএস পুলিশ পরিবারের ঈদ বস্ত্র বিতরণ ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ৬ জুন  দ্রব্যমূল্য বাড়ার মাস কী রমজান! সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে লিখিত স্থগিতাদেশ পেলে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের জন্য আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল সৌহার্দ্যপূর্ণ আন্তঃবাহিনী সম্পর্ক বজায় রাখার আহবান আইজিপির গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২৬ জুন বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের নয়, কাজের লোককে ভোট দিন: ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের ৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ?

দুর্নীতির রীতি নীতি…

সকল শিরোনাম, সম্পাদকের কলাম, সর্বশেষ সংবাদ | ১৩ মাঘ ১৪২৪ | Friday, January 26, 2018

your Profile Photo, Image may contain: 1 person, closeupমীর আব্দুল আলীম :
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে দুর্নীতির মুখরোচক গল্প এখন সবার মুখে মুখে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এমন কোনো কাজ নেই যা ঘুষ ছাড়া করা যায়। প্রশ্নফাঁস ও পাঠ্যবই কেলেঙ্কারি এবং সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারিদেও ঘুষ দুর্নীতি ভীষণ সমালোচিত হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে জানি। তিনি ক্লিন ইমেজের লোক। অতি ভদ্র, নিরহংকারী এবং মানবিক গুনাবলী সম্পন্ন মানুষ হিসাবে তার সুনাম আছে। তার স্ত্রী জোহরা জেসমি একজন শিক্ষাবিদ। তিনিও শিক্ষা নিয়ে সেবামূলক কাজ করছেন দেশ জুড়ে। কিছুদিন আগে শিক্ষা বিষয়ক এক সেমিনারীর আগে এক বৈঠকে জেসমিন ভাবিকে তাঁর স্বামীর ভালোদিকগুলো তুলে ধরারর পাশাপাশি বারবার প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি সামনে আনলে তিনি সকলের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রকৃতই একজন সৎ হলেই চলবে না। ভালোর কিছুর জন্য সকলকে সৎ এবং আন্তরিক হওয়া চাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক দুর্নীতির ঘটনায় তাই প্রকাশ পাচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রীকে যারা সহযোগীতা করবেন তারাই এখন প্রশ্নবিদ্ধ দুর্নীতিবাজ। সরিসার ভেতরেই ভুত। মন্ত্রী কোথাও দুর্নীতি করেছেন এমন কথা কেউ বলেন না। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সৎ ও সহজ সরল জীবনযাপন বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে এক ব্যতিক্রম হিসেবেই সকলের কাছে প্রতিষ্ঠিত হলেও মন্ত্রণালয়ের ভেতরের মামদ ভুতেরা তাঁকে (মন্ত্রী) বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তিনি যেবার প্রথম মন্ত্রী হন তখন মন্ত্রণালয়ে তার দপ্তরে আমি এবং আমার এক বন্ধু দেখা করতে গিয়েছিলাম। মন্ত্রী হয়েও নিরহংকার মানুষটি চেয়ার ছেড়ে হেন্ডশেক এবং বুকে জড়িয়ে ধরেন। সেদিনের (প্রায় ১০ বছর আগের) তাঁর দু’একটি কথা মনে আছে আমার। প্রতিটি কথায় দেশপ্রেম ফুটে ওঠে। তাঁর সততা নিয়ে আমিও প্রশ্ন তুলি না। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তন আনেন। ভালোও করছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন ফাঁস এবং মন্ত্রণালয় অভ্যন্তরে কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারির দুর্নীতি তাঁর সুনাম ধুলায় ভুলন্ঠিত করছে। এজন্য মন্ত্রী নাহিদ ভীষণ সমালোচিত হচ্ছেন। অনেকে বলেছেন, দপ্তর সামলাতে না পারলে তাঁর পদত্যাগ করা উচিৎ।
শিক্ষা খাতে দুর্নীতি সত্যিই দু:ভাগ্যজনক। দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ মন্ত্রণালয়ে একজন সৎ মানুষকে মন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত করেন। অভিযোগ রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন, বদলি, কর্মচারী বদলি ও সংযুক্তিকরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শাখা খোলার অনুমতি, জাতীয়করণ, এমপিওভুক্তি, সার্টিফিকেট সত্যায়ন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনের অনুমতিসহ নানা কাজে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এই সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে সেবাপ্রার্থীরা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো কাজ করতে পারেন না। সব মিলিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে মন্ত্রণালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঘুষের আখড়ায় পরিণত করেছে। এ মন্ত্রণালয়ে দিনের পর দিন এসব চললেও মন্ত্রী নাহিদ এসব অপকর্ম থামাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি। এটা মন্ত্রীর ব্যর্থতা বলা চলে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে ‘ক্লিন ইমেজে’ রেখেছেন। কিন্তু তার ডানবামে ঘুষের হাট বসানো কর্মকর্তা কর্মচারিদের সা¤্রাজ্য তিনি ঠেকাতে পারেননি। এরফলে মন্ত্রীর দপ্তরে পদায়ন পেয়ে দুর্নীতিবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
২১ জানুয়ারী শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) মোতালেব হোসেন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গ্রহণ ও বিতরণ শাখার উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিনকে ঘুষ দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ তাদের কব্জায় নেয়ার পর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, মোতালেব ও নাসির দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কি না সে বিষয়ে তিনি জানেন না। তিনি বলেন, কারো ব্যক্তিগত দুর্নীতির দায় নেবে না শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তর। নিম্নপদস্থ কর্মচারি হয়েও তাদের অবৈধ সম্পদের পাহাড়ে বিব্্রত মন্ত্রণালয়। আমরা জেনেছি, মোতালেব-নাসির-আনসার-মোহাম্মদ আলীর মতো মাত্র চার-পাঁচজনের একটি সিন্ডিকেট মন্ত্রণালয়ের মান-সম্মান ধ্বংস করেছে। এদের কারণে পুরো শিক্ষা মন্ত্রণালয় আজ সমালোচনার মুখে। অভিযোগ রয়েছে, শিামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা  মোতালেব ও উচ্চমান সহকারী নাসিরউদ্দিন। মন্ত্রীর দফতরে বসে তারা দিব্যি ঘুষের হাট বসিয়ে গড়েছেন অর্থ-বিত্তের পাহাড়। তাদের ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়টি সচিবালয়েই ছিল ওপেন সিক্রেট। আড়ালে-আবডালে বলাবলি হতো একই মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে। কিন্তু অদৃশ্য আশীর্বাদের কারণে তাদের টিকি ছোঁয়ারও সাধ্য ছিল না কারও! ঘুষের হাটের এই কারবারীরা আইনশৃঙ্খলা রাবাহিনীর কব্জায় আসায় এ নিয়ে তুমুল আলোচনা দেশজুড়ে। তোলপাড় চলছে প্রশাসনের কেন্দ্র সচিবালয়েও। উল্লেখ্য, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর আমলে প্রশ্ন ফাঁস-কেলেঙ্কারিতে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। প্রাইমারি থেকে এমন কোনো পরীক্ষা নেই যে, প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারি হয়নি। এছাড়া পাঠ্যপুস্তকে বিকৃতি হয়েছে প্রতিবছর। অভিযোগের শেষ নেই। তবে আলোচিত অভিযোগের মধ্যে আরো রয়েছেÑ সরকারি কলেজে শিকদের প্রতিটি বদলিতেই ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে। গত কয়েক বছরে শত শত কোটি টাকার লেনদেনের বিনিময়ে বদলি হয়েছে এমন ঘটনার  নজির রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় ঘুষ লেনদেন ওপেন সিক্রেট বিষয়।
দুর্নীতি! এটাতো এদেশে বহুল পঠিত এবং চর্চিত একটি শব্দ। কেবল কি শিক্ষা মন্ত্রণালয়েই দুর্নীতি হয়? দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ। সরকারের দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজদের কারনে। দুর্নীতির সর্বগ্রাসী থাবা থেকে কীভাবে মুক্ত হওয়া যায়,এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমাদের বুঝতে হবে যে, দেশে কেন দুর্নীতি হয় বা দুর্নীতি বিস্তারের প্রক্রিয়া কীভাবে বৃদ্ধি পায়। সার্বিকভাবে দেখলে দুর্নীতির ব্যাপকতার সাথে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি সম্পর্ক আছে। একথার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বলতে হয় যে, কেবল মূল্যবোধের অবক্ষয় বাংলাদেশের দুর্নীতির ব্যাপক প্রসারের প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। কেননা দুর্নীতি পৃথিবীর সব দেশেই কম-বেশি হয়। কিন্তু বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা জনগণের মনে যে পরিমাণ হতাশার সৃষ্টি করে, তা তুলনাহীন। দুর্নীতি কেবল ওপর-মহলে হয়, তাই নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণকে দুর্নীতির প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাধ্য করা হয়। এই অংশগ্রহণের কারণ সব ক্ষেত্রেই শুধু লোভ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই হচ্ছে ন্যূনতম জীবনযাপনের প্রচেষ্টা। এই অসহায়ত্বের সাথে যুক্ত হয়েছে চোখের সামনে ঘটে যাওয়া দৃষ্টান্তের, যেখানে দুর্নীতির সাথে সংশ্লিষ্টদের শাস্তির সুযোগ নেই বরং জনগণকে মূল্য দিতে হয় সৎ থাকার জন্য।
ঘুরে ফিরেই প্রশ্ন জগে এদেশে ঘুষ দুর্নীতি বন্ধ হবে কবে? সমাজের প্রতিটি স্তরে ঘুষ, দুর্নীতি ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এ ব্যাধি থেকে নিস্তার পাওয়ার পথ হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করা এবং উন্নয়ন ঘটানো। এ জন্য আমাদের রাজনীতিক, মন্ত্রী, আমলা আর দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনেরও কোনো বিকল্প নেই। আরেকটি উদাহরন না টানলেই নয়। আমাদের আইনমন্ত্রী ক’মাস আগে বলেছেন, ‘আদালতের ইটেও ঘুষ খায়।’ অপ্রিয় হলেও সত্য কথা বলার জন্য মন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এমন অবস্থায় বলতে হয় “ বিচারপতি তোমার বিচার করবে কারা?” যেখানে দেশ এবং রাজনীতিতে সত্যের আকাল সেখানে মন্ত্রীবচন বাণীর মতোই মনে হয়েছে আমার।
রাষ্ট্রের অন্যতম জায়গা এই বিচার বিভাগ। এই বিচার বিভাগকে নিয়ে একজন মন্ত্রীর এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায় দেশের ঘুষ দুর্নীতি কোন স্তরে রয়েছে। চলতি বছর টিআইবি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল, পুলিশ, বিচার বিভাগ ও ভূমি সেবায় উদ্বেগজনক হারে দুর্নীতি বেড়েছে বলে দেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন। বাংলাদেশে দুর্নীতি বেড়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতির শীর্ষস্থানে রয়েছে। ৯৩ শতাংশের ধারণা, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ দুর্নীতিপ্রবণ খাত বা প্রতিষ্ঠান হলো-রাজনৈতিক দল ও পুলিশ। আর ৮৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এর পরের খাতই হলো বিচারব্যবস্থা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকারি খাতে দুর্নীতি খুবই গুরুতর সমস্যা। অতিত নিকটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতির দুর্নাম ঘুচাতে সবার আগে রাজনীতিবীদদের দুর্নীতির জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। রাজনীতিবীদরা দুর্নীতিতে না জড়ালে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি কমে যাবে। অফিস আদালত, সচিবালয়, মন্ত্রনালয়ে আতংক তৈরী হবে। দুর্নীতি অনেকটাই রোধ হবে।
পৃথিবীর সবদেশেই কম বেশি দুর্নীতি আছে, এই কথাটির আপেক্ষিক সত্যতা মেনে নিয়েও, বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থায় দুর্নীতির ব্যাপকতাকে অস্বীকার করার কোনো অজুহাত নেই। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যে এই দুর্নীতি যা আগেই বলেছি, জনগণের মনে ব্যাপক হতাশাবোধের জন্ম দিয়েছে। এই হতাশাবোধের মূল কারণ হচ্ছে যে, দেশের রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যকর ভূমিকা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম জনগণকে আশ্বস্ত করতে পারছে না। একটি গণতান্ত্রিক এবং স্বাধীন সমাজ ব্যবস্থার প্রধানতম ভিত্তি হওয়ার কথা এসব প্রতিষ্ঠানের। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অগ্রগণ্য হচ্ছে শিক্ষা ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, সংবাদ মাধ্যম, সরকারি ও বেসরকারি আমলাতন্ত্র, জাতীয় সংসদ, সরকারি ও বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তিখাত। আমরা বিগত কয়েক দশক ধরে এসব প্রতিষ্ঠানকে ক্রমে ধ্বংস বা অকার্যকর করার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে চালিত করেছি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে যে মূল উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে দুর্নীতি।
পুরান দিনের কথা একটু না বললে নয়। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে ঔপন্যাসিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার রচিত ‘মুচিরাম গুড়’ নামক প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘বাঙ্গালা দেশে মনুষ্যত্ব বেতনের ওজনে নির্ণীত হয়। কে কত বড় বাঁদর তার লেজ মাপিয়া ঠিক করিতে হয়।’ তখনকার কেরানী আর চাপরাশিদের চুরিচামারি করে সামান্য ঘুষ গ্রহণের নমুনা দেখেই তিনি লিখেছেন ‘এমন অধঃপতন আর কোনো দেশের হয় নাই।’ ভাগ্যিস বেঁচে নেই সেই সুপ্রসিদ্ধ ঔপন্যাসিক। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো বর্তমান ভয়াবহ পরিস্থিতিতে এদেশের দুর্নীতিবাজ ও ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে তার লেখনিতে মহাপ্রলয় ঘটিয়ে ছাড়তেন। হালে দেশে দুর্নীতির আর ঘুষের অবাধ স্বাধীনতায় সাধারণ মানুষ হতাশা করেছে। আমরা ভাগ্যাহত এ কারণে এ দেশের জ্ঞান পাপিরা শিক্ষার পাহাড় মাথায় নিয়ে নির্বিচারে নির্লজ্জ ঘুষ গ্রহণ করে চলেছে। আরো হতবাক হই যখন দেখি দেশের নীতিনির্ধারক রাজনৈতিক, আমলা, মন্ত্রী, এমপিদের হরেদরে ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ পত্র-পত্রিকায় দেখে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত কবিতার দু’টি চরণ মনে পড়ছে আমার ‘তিনভাগ গ্রাসিয়াছো একভাগ বাকী/সুরা নাই পাত্র হাতে কাঁপিতেছে সাকী। তিন বছর আগ পর্যন্ত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বাৎসরিক প্রতিবেদনে পাঁচ বছর এক নাগাড়ে বাংলাদেশকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে অভিহিত করেছে। এমনিতেই দেশের সব মানুষই সমাজে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির দৌরাত্ম্যের সাথে কমবেশি পরিচিত, কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে দুর্নীতির দায়ে অপদস্থ হওয়ায় দেশের সব সচেতন মানুষের মনে এক ব্যাপক গ্লানিবোধ সঞ্চারিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাংলাদেশের কিংবা ওইসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিদের কেমন যেন পালিয়ে থাকার মতো অবস্থা। পরিস্থিতি এতই নৈরাশ্যজনক যে, রাষ্ট্র এবং সুশীল সমাজ দুর্নীতির এই বিস্তার প্রতিরোধে ক্রমাগত উদ্যমহীন হয়ে পড়েছে। পরিবারগুলোও তার বাইরে নয়। স্ত্রী প্রশ্ন করছে না, স্বামীর হঠাৎ টাকা প্রাপ্তির উৎস কি? প্রশ্ন করছেন না পিতা-মাতা বা সন্তানরাও। প্রার্থনাগারের হুজুরও যেন ‘ছলে বলে কৌশলে’ টাকার পাহাড় গড়া ব্যক্তিটির মঙ্গল কামনায় বারবার কেঁদে ওঠেন মোনাজাতে।
দুর্নীতির এই সর্বগ্রাসী থাবা থেকে কীভাবে মুক্ত হওয়া যায় এটাই এখন ভাবন? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আমাদের আগে কেন দুর্নীতি হয় বা দুর্নীতি বিস্তারের প্রক্রিয়া কীভাবে বৃদ্ধি পায় তা আগে খুঁজে বের করতে হবে। সার্বিকভাবে দেখলে দুর্নীতির ব্যাপকতার সাথে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের একটি সম্পর্ক আছে। একথার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে বলতে হয় যে, কেবল মূল্যবোধের অবক্ষয় বাংলাদেশের দুর্নীতির ব্যাপক প্রসারের প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করতে পারে না। জনগণের কাছে এই ধারণা ক্রমেই দৃঢ় হয়েছে যে, সমাজে নীতিবান হয়ে থাকার মাঝে কোনো গৌরব নেই বরং আছে বহু ভোগান্তি। সমাজের সুশীল অংশেও ন্যায় অন্যায়ের সংজ্ঞা পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে বেআইনি পথে থাকার সুবিধা রয়েছে অনেক। জনগণের মনে এই ধারণা যত ক্রমবিকাশমান হচ্ছে, হতাশা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে বিরূপতা তত বেশি বেড়ে যাচ্ছে। এই হতাশার ফল ধরে আমরা হয়ে যাচ্ছি বছরের পর বছর দুর্নীতিতে শীর্ষস্থানীয় একটি দেশ।
এভাবে চলতে পারে না। আর চলতে দেয়া ঠিক হবে না। দুর্নীতির যে ধারা আমরা সৃষ্টি করেছি, সেই ধারণাকে বদলাতে হবে আমাদেরই। এদেশ আমাদের সবার, তাই আমাদের সবার মিলিত প্রতিরোধে সমাজের সব অনাচার দূর করা সম্ভব।এ ক্ষেত্রে সরকারেরও সঠিক ভূমিকা থাকতে হবে। আর এসব বিষয়ে সরকার জনতার ন্যায্য সমর্থন পাবে বলেই আমার বিশ্বাস। বর্তমান সরকারের সাফল্যের অনেক নজির আছে তা না স্বীকার করার জো নেই। শত কিছুর পরও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায়নি কখনো। তবে গত দুই বছরে মন্ত্রী-এমপি ও তার সরকারের প্রশ্নবিদ্ধ দুর্নীতির তালিকা কম নয়। এ ব্যাধি থেকে নিস্তার পাওয়ার পথ হচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্রের বেশকিছু ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার সাধন করা এবং উন্নয়ন ঘটানো। এ জন্য আমাদের রাজনীতিক, মন্ত্রী, আমলা আর দেশের মানুষের মানসিকতার পরিবর্তনেরও কোনো বিকল্প নেই।
৥ লেখক : সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।