সকল শিরোনাম

এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লার গণসংযোগ একনেকে ১৫টি প্রকল্পের অনুমোদন সিনহাকে আদালতের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: আইনমন্ত্রী ‘বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করে না’ রূপগঞ্জে দুই শতাধিক গ্রাজুয়েটকে প্রশিক্ষন ডেমরায় মাদক,সন্ত্রাস, জঙ্গি, ইভটিজিং ও নিরাপদ সড়ক বিষয়ক আলোচনাসভা ২৯ সেপ্টেম্বর কি হবে? সেবা খাতে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ হবে কবে? কেন সাংবাদিক নির্যাতন? সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের জেল রূপগঞ্জে গাজা ও ইয়াবাসহ শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার আসামের তালিকা নিয়ে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই: ভারতীয় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী বললে পদত্যাগ করব : নৌমন্ত্রী শিশুরা আমাদের চোখ-কান খুলে দিয়েছে : মনিরুল শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারকারা রাস্তায় পুলিশের নামে মামলা দিতে সার্জেটকে বাধ্য করলো শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও থামুক; সড়কও নিরাপদ হউক দু:স্থদের মাঝে বিসিএস পুলিশ পরিবারের ঈদ বস্ত্র বিতরণ ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ৬ জুন  দ্রব্যমূল্য বাড়ার মাস কী রমজান! সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে লিখিত স্থগিতাদেশ পেলে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের জন্য আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

সিনহাকে আদালতের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে: আইনমন্ত্রী রূপগঞ্জে দুই শতাধিক গ্রাজুয়েটকে প্রশিক্ষন কেন সাংবাদিক নির্যাতন? সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছরের জেল প্রধানমন্ত্রী বললে পদত্যাগ করব : নৌমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারকারা রাস্তায় পুলিশের নামে মামলা দিতে সার্জেটকে বাধ্য করলো শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থীদের ওপর ভর করছে বিএনপি: কাদের ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২৬ জুন দলের নয়, কাজের লোককে ভোট দিন: ওবায়দুল কাদের রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫টি খাল খনন করবে ওয়াসা আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে বিএনপি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে নারী ও শিশু নির্যাতন কমছে না কেন?

শীতে কাঁপছে দেশ

শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৩ পৌষ ১৪২৪ | Saturday, January 6, 2018

বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। সকালে প্রচ- কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারদিক। দিনের মাঝামাঝি সময়ে সূর্যের দেখা মিললেও কমছে না সারাদেশে জেঁকে বসা শীতের তীব্রতা। সেই সাথে ৩ দিন ধরে বইছে কোথাও মৃদু কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ।

এদিকে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। নাকাল হয়ে পড়েছে বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তীব্র শীতে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আর বিপাকে পড়েছে দৈনন্দিন খেটে খাওয়া কর্মজীবীরা। শৈত্যপ্রবাহে ঘন কুয়াশা ও প্রচ- ঠা-ায় দেখা দিয়েছে শীতজনিত নানা রোগ-বালাই। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরোর বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসল।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকার আবহাওয়া কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলেন, দেশের শ্রীমঙ্গল অঞ্চলসহ রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আগামী ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকবে।

এদিকে শীত জেঁকে বসেছে খোদ ঢাকাতে। পাশাপাশি ঘনকুয়াশার কারণে ব্যাহত হচ্ছে জীবনযাত্রা। গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সাড়ে ৭ ঘণ্টা সকল আন্তর্জাতিক বিমান উঠানামা বন্ধ রাখা হয়।

এদিকে বিমানের মতো ঘন কুয়াশায় পদ্মার শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌপথে প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। বিআইডবিস্নউটিসি’র শিমুলিয়া ঘাটের এজিএম খন্দকার শাহ নেওয়াজ জানান, গতকাল শুক্রবার ভোর ৫টায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। হঠাৎ কুয়াশা শুরু হওয়ায় যানবাহনসহ ৫টি ফেরি মাঝ নদীতে আটকা পড়ে। এছাড়া দুই ঘাটে আটকা পড়ে দেড় শতাধিক গাড়ি। কুয়াশা কেটে গেলে বেলা ১১টায় আবার ফেরি চলাচল শুরু করা হয়।

অন্যদিকে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথেও প্রায় আড়াই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আবার ফেরি চলাচল শুরু করে। দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সকাল সাড়ে ৭টায় কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। হঠাৎ কুয়াশা শুরু হওয়ায় মাঝ নদীতে আটকা পড়ে ৪টি ফেরি। সকাল ১০টায় কুয়াশা কেটে গেলে আবার ফেরি চলাচল শুরু হয়।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষে মুখপাত্র একেএম রেজাউল করিম জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে গতকাল শুক্রবার ভোর ২টা ৪৫ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ১১ মিনিট পর্যন্ত আমরা বিমান উঠানামা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, এ সময় শারজাহ থেকে এয়ার এরাবিয়ার দু’টি এবং বাংলাদেশ বিমানের একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে শাহজালালে অবতরণ করতে না দিয়ে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দুবাই থেকে আগত বাংলাদেশ বিমানের একটি এবং কুয়ালালামপুর থেকে আগত ইউএস বাংলা এয়ার লাইন্সের একটি ফ্লাইটকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কুয়ালালামপুর থেকে আগত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের আরো একটি ফ্লাইটকে মায়ানমারের মান্দালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল খুলনা বিভাগের যশোরে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল একই বিভাগের মংলায় ২৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে গত বৃহস্পতিবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

ঢাকা বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ফরিদপুরে ০৯ দশমিক ২ ডিগ্রি। ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি। সিলেট বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল শ্রীমঙ্গলে ০৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি। রাজশাহী বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ঈশ্বরদীতে ৮ ডিগ্রি। রংপুর বিভাগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ০৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ০৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আমাদের দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরে গতকাল শুক্রবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই এ পর্যন্ত এই জেলায় এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জুর হোসেন জানান, দিনাজপুরে গত ৫ দিন ধরে ১১ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে তাপমাত্রা উঠানামা করছে। হঠাৎ করেই কমতে শুরু করেছে তাপমাত্রা। শুক্রবার জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বৃহস্পতিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তিনি জানিয়েছেন, গত ৩ দিন ধরে এই অঞ্চল দিয়ে বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ। তাই এই তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

ঘন কুয়াশার কারণে সকালে ১০ ফুট দূরেও কোনো কিছু দেখা যাচ্ছে না। সড়কে যানবাহন হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। শীতবস্ত্রের আশায় গরিব ছিন্নমূল মানুষ চেয়ে আছে। এদিকে প্রচ- শীতের কারণে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগ-বালাই। হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়েরিয়া, আমাশয়, হাঁপানি, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা।

দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল ওয়াহেদ জানান, এই শীতে শিশুদের গরম কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে রাখার এবং শিশুকে যাতে শীত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

ঘন কুয়াশা ও শীতে বোরো বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। দিনাজপুরের সদর উপজেলা উলিপুর এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, শীতের কারণে তার বোরো বীজতলা ও আলু খেতে রোগ দেখা দিয়েছে। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে ফসলে ওষুধ দেয়া হচ্ছে।