সকল শিরোনাম

৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার এমপি হতে শেষ চেষ্টায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে: ড. কামাল রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫টি খাল খনন করবে ওয়াসা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে খসড়া আইনের প্রস্তাব সিসি ক্যামেরার আওতায় রামপুরা ট্রাফিক জোন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা ফখরুলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন রিজভী কালবৈশাখীর কারণে রূপালী ব্যা‍ংকের লিখিত পরীক্ষা বাতিল খালেদাকে জেলে রেখে নির্বাচনের কথা ভাবতে পারে না বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে বিএনপি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হতে পারে না নারী ও শিশু নির্যাতন কমছে না কেন? ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ঢাকায় বিপিও সামিট উন্নয়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে : মেনন সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আশ্বাসের পরও চালের দাম কমছে না অস্বস্তিতে ক্রেতারা স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে জাগ্রত করতে মাতুয়াইলে আলোচনা সভা উন্নয়নের নামে নদী খাল ভরাট করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী এখনও ৩৫ হাজার কোটি টাকা ফেরৎ দেয়নি পাকিস্তান! উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা আবারো বাড়ছে গ্যাসের দাম মুচলেকা দিলেই সময় পাবে বিজিএমইএ ৪টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করবেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিকল্পে জোবাইদা রহমান, আ.লীগেও ভাগ বসাতে তৎপর


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার যৌন হয়রানি প্রতিরোধে খসড়া আইনের প্রস্তাব সিসি ক্যামেরার আওতায় রামপুরা ট্রাফিক জোন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা খালেদাকে জেলে রেখে নির্বাচনের কথা ভাবতে পারে না বিএনপি নারী ও শিশু নির্যাতন কমছে না কেন? উন্নয়নে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে : মেনন উন্নয়নের নামে নদী খাল ভরাট করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী এখনও ৩৫ হাজার কোটি টাকা ফেরৎ দেয়নি পাকিস্তান! উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যা খালেদা জিয়ার বিকল্পে জোবাইদা রহমান, আ.লীগেও ভাগ বসাতে তৎপর বিভিন্ন কলাকৌশলে বেগম জিয়ার মুক্তিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে : ফখরুল খালেদা জিয়া দেশনেত্রী থেকে দেশের মানুষের মা হয়েছেন : নজরুল ইসলাম

পারমাণবিক যুদ্ধ যেকোনো সময় : ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হবে বিশ্ব

ছবি স্লাইড, শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২২ পৌষ ১৪২৪ | Friday, January 5, 2018

পারমাণবিক যুদ্ধ এর ছবি ফলাফলচৌধুরী ফজলে রাব্বী :

উত্তর কোরিয়ার একের পর এক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রিত প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপ গুয়ামে উত্তর কোরিয়া কর্তৃক হামলার হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে কোরীয় উপদ্বীপে বেশ কয়েক মাস ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তর কোরিয়ার একের পর এক সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা যুক্তরাষ্ট্রসহ এর মিত্রদেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রনেতাদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে। এর আগে উত্তর কোরিয়ার বিরুতবে আমার মনে হয় না চীন যুক্তরাষ্ট্রের এ আহ্বানে সাড়া দিবে। কারণ ট্রাম্পের সফরের সপ্তাহ না পেড়োতেই চীন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান বন্ধুত্ব অটুট রাখার ঘোষণা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার বাকযুদ্ধ নতুন কোন বিষয় না। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের এ বাকযুদ্ধ এখন বিনোদনের খোরাক। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়াও জবাবে পাল্টা হুমকি দিয়েছে। বাস্তবে কোন অঘটন ঘটেনি। কিন্তু উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি-ধমকি উপেক্ষা করে যেভাবে তাদের পারমাণবিক কর্মকা- অব্যাহত রেখেছে তাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এর মিত্রদেশগুলো কতটা ধৈর্যের পরিচয় দেয় সেটা এখন একটা বড় প্রশ্ন। এ বছরে উত্তর কোরিয়া ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে এবং সাফল্যের সঙ্গে একটি হাইড্রোজেন বোমাও ফাটিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার এমন মুখোমুখি অবস্থানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, বিশ্ব কি তাহলে নতুন করে পারমানবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হতে যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়া চলতি বছরের জুলাইয়ে আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে দেশটির ওপর নতুন করে কঠোর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ। এর আগেও কয়েকবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেশটির ওপর এমন অবরোধ এসেছে। বরাবরই উত্তর কোরিয়ার প্রতি জাতিসংঘের পক্ষপাতিত্ব আচরণ লক্ষ্য করেছি। জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষার নিন্দা করলেও, তাদের ওপর অবরোধ জারি করলেও দক্ষিণ কোরিয়াতে যে একের পর এক পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ গড়ে তোলা হচ্ছে এই বিষয়ে সংগঠনটি চুপ। জাতিসংঘের এবারের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে উত্তর কোরিয়া প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত দ্বীপ ‘গুয়ামে’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছিল। পরবর্তীতে উত্তর কোরিয়া গুয়ামে হামলা স্থগিত করলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুদেশের মধ্যে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল তা অব্যাহত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া যেভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছে এবং হুমকি-ধমকি দিচ্ছে তাতে যে কোন সময় এ অঞ্চলে যুদ্ধ বেধে যেতে পারে। এর আগেও ১৯৯৪ সালের দিকে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কমপ্লেক্সে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষককে প্রবেশে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। কূটনৈতিকভাবেই তখন তা সমাধান করা হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া বহুবার যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কখনো হামলা করার দুঃসাহস দেখায়নি। তবে এবার যে কী হয় তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন যেমন পাগলাটে স্বভাবের তাতে দুই নেতা যে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না এমনটা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া একের পর এক পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটি গত ৩ সেপ্টেম্বর তার সবচেয়ে বড় পরমাণু বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৯৪৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাপানের হিরোশিমায় যে পরমাণু বোমা ফেলেছিল, উত্তর কোরিয়ার এই বোমাটি তার চেয়ে ১৬ গুণ ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন। সুতরাং উত্তর কোরিয়া এখন বিশ্বে অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এ বিষয়ে আর কোন সন্দেহ নেই।

উত্তর কোরিয়ার সাথে আমেরিকার শত্রুতা জন্মগত। কোরিয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপানিদের দখলে ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান হেরে গেলে কোরিয়া দুই ভাগে বিভক্ত হয়। তখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনে উত্তর কোরিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ সমর্থনে দক্ষিণ কোরিয়ায় গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিকট থেকে অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির জন্য প্রচুর পরিমাণ সাহায্য লাভ করে। যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়াকে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত করতে সর্বাত্মক সাহায্য প্রদান করে এবং উত্তর কোরিয়া দখলের জন্য দক্ষিণ কোরিয়াকে সর্বাত্মক সহযোগিতা ও ইন্ধয় জোগায়। একের পর এক ষড়যন্ত্র করেছে কোরীয় দ্বীপপুঞ্জের উত্তরাংশের এই রাষ্ট্রটিকে কেন্দ্র করে। কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু হয়নি। আমেরিকার নির্লজ্জ ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে দেশটি এখন এমন এক জায়গা দাঁড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য হচ্ছে উত্তর কোরিয়াকে সমীহ করে কথা বলতে।

উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে বিরত রাখার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট এশীয় সফরের অংশ হিসেবে সম্প্রতি চীন সফরে গেছেন। উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় মিত্র প্রতিবেশী চীন। চীনের অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য সহায়তাতেই উত্তর কোরিয়া এতদিন ধরে টিকে আছে। বর্তমানে দেশটির বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় চীনের সঙ্গে। উত্তর কোরিয়াকে অর্থনৈতিক চাপে ফেলতে হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চীনের সহায়তা প্রয়োজন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে চীন কতটুকু সাড়া দিবে সে প্রশ্ন করা যেতেই পারে। প্রতিবেশী দেশ চীনের জন্য কোরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা খুব বেশি জরুরি। এ অবস্থা বিবেচনা করে কিছু বিষয়ে চীন হয়ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমত হতে পারে। তবে চীন কখনোই চাইবে না উত্তর কোনিয়া ধ্বংস হয়ে যাক। কারণ উত্তর কোরিয়া ধ্বংস হলে এমন এক অবিভক্ত কোরিয়া সৃষ্টি হবে, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যরা একেবারে চীনের সীমানায় চলে আসবে। আবার উত্তর কোরিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত হলে কোটি কোটি মানুষ চীনে এসে আশ্রয় নেবে। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এখন নিজেদের ও তার মিত্রদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে উত্তর কোরিয়ার সাথে হয়ত যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না। এর পিছনে অর্থনীতিও একটা বড় কারণ। কোরীয় দ্বীপে যুদ্ধ শুরু হলে বাণিজ্য খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দক্ষিণ কোরিয়া। সাপ্লাই চেইন হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার গুরুত্ব অনেক। মধ্যবর্তী পণ্যের বড় রফতানিকারক দক্ষিণ কোরিয়া। এছাড়া এসএমএল হোল্ডিংস এনভি কোম্পানির বৈশ্বিক আয়ের এক-চতুর্থাংশ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসে। অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নেতিবাচক থাকলে দেশটি থেকে বিদেশি কোম্পানিগুলো ব্যবসা গুটিয়ে নিবে। বিনিয়োগ হ্রাস পাবে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব বাণিজ্যে। মোদ্দা কথা কোরীয় উপদ্বীপের চলমান পারমাণবিক উত্তেজনা, পারস্পরিক বাকযুদ্ধ শুধু পূর্ব এশিয়ার জন্যই হুমকি নয়, বরং তা সমগ্র বিশ্বশান্তি, অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব পক্ষ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের এমনটাই প্রত্যাশা।

[লেখক : শিক্ষক]