সকল শিরোনাম

রূপগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের চেষ্টা, বাঁধা দেওয়ায় হত্যার হুমকি দেশে নির্বাচনী দামামা যন্ত্রণাদায়ক ইনজেকশন ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে থাকবে ডায়াবেটিস! সামরিক ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশ পাগল নই যথেষ্ট সুস্থ, দাবি ট্রাম্পের হার্ট ভাল রাখে,ক্যান্সারের প্রবণতা কমায় অলিভ অয়েল রাজধানীতে ফানুস ওড়ানো নিষেধ বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি’র সমাবেশ অনুষ্ঠিত শীতে কাঁপছে দেশ চীনা সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির নির্দেশ বিটুমিনের মান : দ্বন্দ্বে জড়ালো সওজ ও ঠিকাদার নির্বাচনের বছরটা কেমন যাবে? পারমাণবিক যুদ্ধ যেকোনো সময় : ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হবে বিশ্ব ‘মিস ইন্ডিয়া আসলে যৌনতা আর শরীর বিক্রির প্রতিযোগিতা’ ঢাকায় ভোট ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি যেমন দেখতে চাই ২০১৮ ফেরেশতা নই আবার অন্য কিছুও নই, আমি মানুষ-তারানা ইরানে সংঘর্ষে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে ‘শত্রুদের’ দুষলেন খামেনি ৪৫ বছরে ২১ বার লোগো পরিবর্তন রূপালী ব্যাংকের স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায়নি ৩৪ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাওনের মামলার তদন্ত করবেন গোয়েন্দারা ‘ভেতরে ক্ষত অনুভব করি’ ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ডিগ্রি কলেজের থেকেও দুর্বল’ বিনে পয়সায় জাপানে পড়ালেখার সুযোগ পুরুষদের ডায়াবেটিসের ১০ উপসর্গ


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

রূপগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলের চেষ্টা, বাঁধা দেওয়ায় হত্যার হুমকি পাগল নই যথেষ্ট সুস্থ, দাবি ট্রাম্পের রাজধানীতে ফানুস ওড়ানো নিষেধ শীতে কাঁপছে দেশ পারমাণবিক যুদ্ধ যেকোনো সময় : ধ্বংসযজ্ঞের সাক্ষী হবে বিশ্ব ঢাকায় ভোট ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি হেঁটেই গাড়ির আগে যেবে মানুষ। বৈশ্বিক উষ্ণতায় গ্রিন হাউস প্রভাব ব্যাংক সেক্টরের দুর্যোগের এবং কিছু কথা নেতা কই? সহজেই বিদেশ ভ্রমণের ইচ্ছা পূরণ করুন….. একাদশ নির্বাচনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি আ’লীগের নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা .রূপগঞ্জে পিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অন্ত:নেই আগামী নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ এমপিরা মনোয়ন পাবেন না : কাদের রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে আসিয়ানকে ভূমিকা নেওয়ার আহবান

নেতা কই?

শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম | ২০ পৌষ ১৪২৪ | Wednesday, January 3, 2018

---নির্বাচন হবে বাংলাদেশে। নেতা কই? কারা জানি আহাজারি করে বলছে, নেতা নেই, সারা বাংলাদেশে, কেননা ডাকসুর নির্বাচন হয় না। অনেকদিন ধরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন হচ্ছে না। তাই তরুণ প্রজন্ম থেকে বড় নেতার জন্ম হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনেকটা এ রকম। ডাকসুতে নির্বাচন হয় না বলেই তরুণ নেতৃত্ব আসছে না। ফলে দেশে নেতৃত্ব শূন্যতা দেখা দিয়েছে। ভালো ও মেধাবী নেতার অভাবে দেশে রাজনীতিতে অরাজকতা দেখা দিয়েছে। নিতান্তই মূর্খ ও অযোগ্যরা নেতা নেত্রী হচ্ছে। তাই ডাকসু নির্বাচনের জন্য বিরাট চাপ দেয়া হচ্ছে। অনশনও করা হয়েছে। বর্তমান উপাচার্য ডাকসুর নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আশ্বাসও দিয়েছেন। তোড়জোড়ও হচ্ছে।

প্রশ্ন হলো, ডাকসুর নির্বাচন জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন আছে কিনা? অতীতে দেখা গেছে বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ছাত্রাঙ্গ দলকে ডাকসু অধিকার করার প্ররোচনা দিত। যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাবে তারাই ডাকসু দখল করবে। তারও আগে পূর্ব পাকিস্তান আমলের শেষদিকে দেখা গেছে, ডাকসুর নেতানেত্রীরা জনগণকে সংগঠিত করার কাজে সাফল্য পেয়েছেন। গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আর ডাকসুর কোনো উজ্জ্বল ভূমিকা নেই। পার্টির লেজুড়বৃত্তি করেছেন ডাকসুর নেতারা। এমনকি খুনোখুনিও করেছেন। জাতীয় রাজনীতিতে কোনো ভ‚মিকাই রাখতে পারেনি। স্বাধীনভাবে ডাকসুর নেতারা কোনো সিদ্ধান্তও নিতে পারেনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যেমন দেখা গেছে, জাতীয় রাজনৈতিক দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ছাত্র নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এমনটা আর এখন হয় না। হবেও না। তাহলে ডাকসুর জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা কি?

একদল জাতীয় নির্বাচনের আগেই ডাকসুসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের জন্য প্রকাশ্যে এবং গোপনে আন্দোলন করে যাচ্ছে। এমন ধারা আন্দোলনের উদ্দেশ্য সন্দেহজনক। এখন আর ছাত্রছাত্রীরা সবাই আর সুবোধ বালক বালিকা নয়। তাদের একটা বড় অংশ অস্ত্রধারী। তারা মুহূর্তের সিদ্ধান্তে খুনোখুনি করতে পারে। এদের নির্বাচন হওয়া মানে বেশ কিছু ছেলেমেয়ে খুন হয়ে যাওয়া। তাতে কার লাভ হবে?

প্রশ্ন হলো, ডাকসু কি নতুন নেতৃত্বের জন্ম দেয়? প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের ছাত্র অঙ্গ সংগঠনের নেতানেত্রীদের মধ্য থেকেই নতুন নেতার জন্ম হচ্ছে। হিসাব করা হয় তারা ছাত্র সংগঠন করত কিনা? কোন পদে ছিল? ইত্যাদি। আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টিরও একই অবস্থা। সিপিবিও ওইভাবে হিসাব করে। তবে তাদের অন্য হিসাবও আছে। কিন্তু তথাকথিত গণতান্ত্রিক দলগুলোর হিসাব একই রকম। এই হিসেবে ডাকসু থাকে না। নেতা হওয়ার জন্য এখন আর ডাকসুগিরি করতে হয় না। বড় নেতাদের পেছনে ঘুরঘুর করলেই হয়। বাংলাদেশের বড় নেতারা যারা আদর্শস্থানীয় তারা কেউই ডাকসুগিরি করে নেতা হননি। যেমন মওলানা ভাসানীর কথা বলা যায়। তিনি মাটি থেকে উঠে এসেছিলেন। সারা জীবন মাটির গন্ধ গায়ে লাগিয়ে রাজনীতি করেছেন এবং মাটির গন্ধ গায়ে নিয়েই মাটিতেই চিরশায়িত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুও এ হিসেবে আদর্শ রাজনৈতিক নেতা। তিনিও মাটি থেকেই উঠে এসেছিলেন। জীবনভর গায়ে মাটির গন্ধ নিয়েই রাজনীতি করেছেন এবং মাটির গন্ধ গায়ে নিয়েই মাটিতেই চিরশায়িত হয়েছেন। মাটি ছাড়বেন না বলেই বঙ্গভবনে না থেকে ৩২ নম্বরে থেকে শহীদ হয়েছেন। বড় নেতা আর কে আছে? যার কথা বলা যায়? ডাকসুর নেতানেত্রীদের মধ্যে যারা বড় নেতা হয়েছেন, তারা কতজন আদর্শস্থানীয়? কতজন শুদ্ধাচারী? গদিতে আরোহণ করা মাত্রই তারা ‘সুগন্ধধারী’ হয়ে যান। মাটির গন্ধ হারিয়ে আতর-লোবানের গন্ধ লাগিয়ে কস্তুরী ঘটিত গন্ধ আড়াল করার কসরত করেই যাচ্ছেন। ডাকসুগিরি করার অহঙ্কার এতদূর নিচে নামিয়ে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়ার জন্য বাপ-মায়ের টাকার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় টাকা খরচ করে। যারা রাজনীতি করে তারা সাধারণত পড়ে না। কোনো বাপ-মাই চান না তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া বাদ দিয়ে রাজনীতি করে তাদের মেধা নষ্ট করুক। সরকারের দায়িত্ব ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া নিশ্চিত করা এবং অকল্যাণকর রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত না হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখা। ছাত্র রাজনীতিরর নামে মৌলবাদীদের রাজনীতি করছে এখন ছেলেমেয়েরা। বিশ্ববিবদ্যালয়গুলো মৌলবাদী কর্মী ও নেতার জন্ম দিচ্ছে। দেশের জন্য এটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। আপাতত ছাত্ররাজনীতি স্থগিত করা উচিত।
স্বৈরাচারী আচরণ বলে বদনাম দেয়া হবে। যদি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া হয়, তবে ওই বদনাম ধোপে টিকবে না এ কারণে যে, বড় রাজনৈতিক দলের ছাত্র অঙ্গ সংগঠন বহাল থাকবে। কেবলমাত্র প্রতিষ্ঠান যে নির্বাচন করত তাদের ব্যবহারিক রাজনৈতিকতা শেখানোর জন্য সেটিই কেবলমাত্র বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি না বুঝে যারা বেশি কথা বলে তাদের ভাবসাব বোঝা দুষ্কর। যারা কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর লাশ ফেলে দিয়ে গণবিক্ষোভ তৈরি করে আওয়ামী লীগকে ফেলে দিতে চায়, তাদের ডাকসু-ফাকসু নির্বাচনের দাবির কারণ বোঝা যায়। কিন্তু সরাসরি রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় না, প্রতিষ্ঠানের তথাকথিত কর্ণধার, তারা কেন ছাত্র সংসদের নির্বাচন চায় তা বোঝা যায় না। বরঞ্চ তাদের উচিত ছিল এ কথা বলা যে, এখন সময় হয়নি। যতক্ষণ ছাত্রছাত্রীদের হাতে অস্ত্র থাকবে ততক্ষণ নির্বাচন হবে না।

যারা ভাবছে ডাকসু নির্বাচনে খুনোখুনি করে বিশেষ জাতীয় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সরকারকে পথে নামাবে তারা বড়ই ভুল করছে। দু’চারজন লোক কিংবা দু’চারজন ছাত্রের লাশ ফেলে দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফেলে দেয়া সম্ভব না। ওই ধরনের খুনোখুনিতে আওয়ামী লীগের কোনো কেশকম্পিত হবে না। জ্বালাও পোড়াও ও লাশ ফেলার কুৎসিৎ রাজনীতি অনেক হয়েছে। তাতে আওয়ামী মনোভাব বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো প্রভাব পড়েনি। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শক্তি প্রবল। শক্তিতে শক্তিতে লড়াই আওয়ামী লীগের পছন্দ। তারা যে কোনো ডুয়েলে জিতবে। এভাবে ষড়যন্ত্রমূলক রাজনীতি না করে শুদ্ধ গণতন্ত্রের চর্চা বাড়িয়ে দেয়া যায়। শুদ্ধ গণতন্ত্রের চর্চাই কেবল রাজনীতিতে প্রশান্তি আনতে পারবে। কোনো কোনো রাজনীতিক মনে করেন এই বয়সে যদি ক্ষমতায় যেতে না পারে, তবে আর কবে যাব? তারা নিজেদের সাফল্য ও ব্যর্থতার হিসাব মেলাতেই ব্যস্ত। তাদের আদর্শ গণকল্যাণকর কিনা সে হিসাব তারা করছে না। সারাজীবন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরব? গদিতে করে আরোহণ করব। তাদের আফসোস শেষ হয় না। একবারও ভাবে না, জনসাধারণ তাদের চায় কিনা? জনসাধারণ চাইলে অবশ্যই তারা ক্ষমতায় যেতে পারবে। তার জন্য খুনোখুনিও দরকার নেই, ষড়যন্ত্রেরও দরকার নেই।

আওয়ামী লীগের কেউ কেউ অতি উৎসাহী হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্বাচনের কথা বলছে। যখন সমস্যা হবে তখন তাদের কেউ দায় নেবে না। দায় নেয়ার ক্ষমতাও তাদের নেই। তবে স্টেটম্যানের দায়িত্ব অনেক। তাকে সাতপাঁচ ভেবেই কাজ করতে হবে। জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো অহেতুক ঝঞ্ঝাট তৈরি করা ঠিক হবে না। ষড়যন্ত্রকারীরা অনেক ফায়দা ফিকির করবে। চোখ কান খোলা রাখতে হবে। নিছক খেয়ালের বশে ছেলে ছোকরাদের নিয়ে নির্বাচনের নামে তামাশা করে অহেতুক প্রাণহানি যে অপরাধ তা অনুধাবন করতে হবে। আর যারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তাদের শনাক্ত করতে হবে। পারলে আইনের আওতায় আনতে হবে। ষড়যন্ত্র অঙ্কুরে বিনষ্ট করলেই সবার জন্য ভালো হয়।

ড. ইশা মোহাম্মদ : শিক্ষক, কলাম লেখক।