সকল শিরোনাম

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! ‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের! প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েছেন ‘দ্য রক’ সবুজ খেলে শরীরে যা বদলে যাবে! ব্যাংকিং খাতে অর্থমন্ত্রীর ‘পাপ কর’! ভোটের দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ভ্যাটের বাজেট দিয়ে ফেলেছেন : ইশতিয়াক রেজা হেফাজত এখন ‘গলার কাটা’ আ.লীগের, ভেতরে-বাইরে সমালোচনা বাড়ছে! শূকরের মাংসে ভ্যাট তুলে দিলেন অর্থমন্ত্রী: মানুষকে বোকা বানালেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রহসন : ড. শামসুল


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের! প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েছেন ‘দ্য রক’ সবুজ খেলে শরীরে যা বদলে যাবে! হেফাজত এখন ‘গলার কাটা’ আ.লীগের, ভেতরে-বাইরে সমালোচনা বাড়ছে!

দুই নগরে নৌকা চাই…

ছবি স্লাইড, শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৪ | Saturday, July 8, 2017

---মীর আব্দুল আলীম :

সামান্য বৃষ্টির পানিতে রাজধানী ঢাকা এবং বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ডুবে যায়। স’বির হয়ে পড়ে কর্মব্যস- এই দুই শহরের জনজীবন। শুধু যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে তা নয়,একই সঙ্গে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নগরবাসীকে। জলজটের সঙ্গে নগরীতে আছে যানজটও। জল আর যানের চাপে মানুষ চলতে পারে না। নৌকায় করে কোথাও কোথাও নগরবাসীকে চলতে হয়। এ দুর্ভোগ কি লাঘব হবার নয়? জলাবদ্ধতার যা অবস’া তাতে করে দুই নগরে সিটিকর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নৌকার ব্যবস’া করা দরকার!

প্রশ্ন হলো-এভাবে কি নগর জীবন চলে? কি বৈশাখ, কি আষাঢ় জলাবদ্ধতায় ডোবে ঢাকা; আর চট্টগ্রাম নগরীও থাকে পানির তলায়। ভরসা কোথায়? আদৌ কি এই দুই নগরের জলাবদ্ধতা দূর হবে? ঢাকার দুই এবং চট্টগ্রামের এক সিটির নাগরিকদের সেবায় তিনজন বেশ জনপ্রিয় নগরপিতা পেয়েছে। নগরপিতারা জলাবদ্ধতা নিরসনে কী করছেন? পরিকল্পিত নগরায়ণ হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; ড্যাব বাস-বায়ন হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না; নগরের খালগুলো দখলমুক্ত হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না। কয়েক মাস ধরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে ড্রেনেজ নির্মাণ কাজ করছে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশন। এসব ড্রেনগুলো পরিকল্পনামাফিক হলে রাজধানী ঢাকার জলাবদ্ধতা কিছুটা কমতে পারে। এদিকে রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত খাল আছে; অসি-ত্ব নেই। খালগুলো কোথায় আছে তাই জানে না নগরবাসী। দখল হয়ে গেছে অনেক খাল। এসব খাল নয়া নগরপিতাদের দখলমুক্ত করতে হবে। প্রশ্ন হলোথ রাজধানী ঢাকায় ড্যাব বাস-বায়ন হলে ভূমিদস্যুদের কি হবে? ১ টাকার পুকুর আর জমি কিনে ১০০ টাকায় বেচার স্বপ্ন যে তাহলে তাদের বেহেশতে যাবে। নগরের খালগুলো তো রাঘব-বোয়ালদের দখলে আছে। এগুলো দখলমুক্ত করে এ সাধ্য কার? তাই যে যাই বলি, নিরাশার কথা এই যে, নগরজীবনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ সহসাই লাঘব হবে না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে, সক্রিয় হতে হবে, শক্তিশালী হতে হবে, সৎসাহস নিয়ে কাজ করতে হবে। তবেই নগরজীবনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ লাঘব হবে।

বছরের পর বছর ধরে এ অবস’া চলে আসছে। গত দেড়-দুই দশকে অনেক আশার বাণী শোনানো হয়েছে এই দুই নগরের বাসিন্দাদের। কিন’ কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ জলাবদ্ধতাকে সারাদেশের বাস-বতা হতে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো উপায় নেই। তবে সামগ্রিক বিচারে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই নগরীর অবস’া যে খুবই উদ্বেগজনক তা অনস্বীকার্য। আমরা আশা করি, সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং স’ায়ীভাবে নগরবাসীর দুঃখ লাঘবে যথোচিত ব্যবস’া গ্রহণ করবেন। আমরা যারা নগরে বাস করি তারাও সচেতন নই। রাজধানী এবং বন্দরনগরীর সৃষ্ট জলাবদ্ধতার পেছনে দায়ী বিষয়গুলো সম্পর্কে সবাই কমবেশি জানি, বুঝি এমনকি নিয়মিত দেখিও। কিন’ কারও মধ্যে সচেতনতা কাজ করে না। ফলে দেখা গেছে, এখনো মানুষ ঘরের জানালা দিয়ে পলিথিনের ব্যাগে করে রাতের আঁধারে ময়লা-আবর্জনা রাস-ায় ছুড়ে ফেলে, যেগুলো গিয়ে স’ান নেয় কোনো একটি পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ কিংবা নালার মুখে। এতে পানি নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা। জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পেছনে আরেক অভিশাপ বলা যেতে পারে নির্মাণাধীন ভবনগুলো থেকে তৈরি উপজাতগুলোকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভবন তৈরির কাঁচামাল এনে জড়ো করা হয় রাস-ার ওপর। তার পর সেখান থেকে নিয়ে তৈরি করা হয় স’াপনা।

ক’দিকে টানা বৃষ্টির ফলে পানি সরতে না পেরে জল-কাদায় একাকার হয়ে গেছে রাজধানী ঢাকা আর বন্দও নগরি চট্রগ্রাম। আছে ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনাও। টানা বৃষ্টির ফলে এ দুই নগরির বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। আর এতে বাসাবাড়ি থেকে বের হয়েই ভোগানি-তে পড়ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে যারা সকালে অফিসের জন্য বের হন, তারা পড়ছেন মহাবিপাকে। সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর অনেক রাস-াই পানিতে তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টি, তার ওপর জলাবদ্ধতায় বিভিন্ন রাস-ায় সৃষ্টি হয়েছে অসহনীয় যানজটের। রাজধানীর মৌচাক-মালিবাগ এলাকাসহ কারওয়ান বাজার, শানি-নগর, বেইলি রোড, মগবাজার, রাজারবাগ এলাকা আর চট্রগ্রামের হালি শহর, জিইসি, পাহাড়তলী, সদরঘাট ছাড়াও অনেক রাস-ায় হাঁটু পানি জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ ছাড়া ফুটপাতেও পানি জমে গিয়েও মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বিঘ্‌িনত হচ্ছে। সকালে কর্মস’লের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এর মধ্যে নগরীর অনেক জায়গায় চলছে রাস-া খোঁড়াখুঁড়ি আর ফ্লাইওভারের কাজ। বৃষ্টির পানিতে ওসব জায়গা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলে আরও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। বৃষ্টির কাদা পানি আর বেহাল রাস-াঘাট বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় নগরবাসীর দুর্ভোগের মাত্রা।

বর্ষাকাল চট্টগ্রাম ও ঢাকা মহানগরীর জনগোষ্ঠীর জন্য এক মহাদুর্ভোগের কাল হিসেবেই আভির্ভূত হয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) নগরবাসীকে জলাবদ্ধতাজনিত দুঃসহ কষ্ট থেকে রেহাই দিতে এখনো কোনো আন-রিক উদ্যোগ নেয়নি। উপরন’ এসব সেবাদানকারী সংস’ার কিছু তৎপরতা জলাবদ্ধতাকে দীর্ঘস’ায়ী করছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাজনিত দুর্ভোগ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে গত মেয়র নির্বাচনে জনগণ বর্তমান মেয়র মঞ্জুকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছিল। কিন’ গত চার বছরে কিঞ্চিত সুফলও আসেনি। চউক চেয়ারম্যান চট্টগ্রামে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দেয়ার কথা উচ্চকণ্ঠে বললেও নগরীর রাস-া-ঘাটের বেহাল দশার অবসান ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কি কি কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস-বায়ন করেছেন তা স্পষ্ট নয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেও নগরবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মূলত চসিক ও চউকের ব্যর্থতার কারণেই বর্ষার প্রথম ভারী বর্ষণেই তলিয়ে গেছে বন্দরনগরীর বিস-ীর্ণ এলাকা। ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়কসহ অলিগলি কোমর ও হাঁটু পানিতে ডুবে গেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, একটানা ভারী বর্ষণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে পানি জমে ডুবে গেছে নগরের প্রায়ই রাস-া-ঘাট। প্রায় সব রাস-ায় হাঁটুপানি। কিছু কিছু এলাকা কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ির নিচতলা ও দোকানে পানি ঢুকে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এই পরিসি’তির জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন দায় এড়াতে পারে না। সিডিএর অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সিটি করপোরেশনের খালগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার না করা এবং নালা-নর্দমার ময়লা অপসারণে ব্যর্থতাই এ দুর্দশার প্রধান কারণ। নগরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হওয়ার জন্য মূল খাল রয়েছে ১৬টি। কিন’ নগরের প্রাথমিক ১৬টি খালের সব কটির অধিকাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেদখল হয়ে গেছে। এ ছাড়া এসব খাল সময়মতো সংস্কার ও খনন করা হয়নি। কিছু কিছু খালের মাটি তোলা হলেও তা রাখা হয়েছিল পাড়ে। পরে বৃষ্টির পানিতে ওই মাটি আবার খালে পড়ে। নগরীতে ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে এমনিতেই বহু নালা-নর্দমা খাল ভরাট হয়ে গেছে, তার ওপর সংস্কার নেই পুরনো খাল ও নালার। পানি ধারণক্ষম বহু পুকুর ভরাট করে দালানকোঠা ও দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি সরতে পারছে না। সহজে পানি সরে যাওয়ার ব্যবস’া না থাকায় ভারী বৃষ্টিতে হঠাৎ এমন জনদুর্দশার সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জলাবদ্ধতা নিরসনে চার বছরে ব্যয় করেছে ১৪৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৪১ কিলোমিটার নালা-নর্দমা থেকে মাটি উত্তোলন ও অপসারণ করা হয়। এ সময় নগরে নালা-নর্দমা নির্মাণ করা হয় ১২১ কিলোমিটার। এতে ব্যয় হয় ২১ কোটি। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন খালে ২৯ কোটি টাকায় ৩২ কিলোমিটার প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া সাড়ে আট কোটি টাকায় বহদ্দারহাটের শুলকবহর থেকে ডোম খাল পর্যন- সংযোগ খাল তৈরি করা হয়। ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরের বহদ্দারহাট ও মহেশখাল নামে দুটি প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন’ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হলেও এর সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।

জল নিষ্কাশনের পথগুলো উন্মুক্ত রাখলে এ জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হতো না। এ বিষয়ে ডিসিসি ও চসিকসহ সংশ্লিষ্ট সংস’াগুলো দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। আমরা মনে করি, এ দুই মহানগরে পানি নিষ্কাশনের নাজুক অবস’ার কারণেই এমনটি হয়েছে। পুকুর-জলাশয় নদী-নালা ভরাট ও বেদখল হয়ে যাওয়ার সঙ্গে যোগ হয়েছে মহানগরের পয়ঃনিষ্কাশনের খাল দখলের প্রতিযোগিতা। চট্টগ্রামের প্রধান খাল চাক্তাই খালের বিভিন্ন অংশ ভূমিগ্রাসীদের দখলে চলে যাওয়া এবং ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাওয়া। তা ছাড়া বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগ ব্যবহারে তেমন বাধা না থাকায় পরিবেশ ধ্বংসকারী পলিব্যাগে সয়লাব হয়ে গেছে পুরো মহানগর। পলিথিনগুলো নালা-নর্দমা ভরাট করে পানি নিষ্কাশনে বাধার সৃষ্টি করে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও নালা-নর্দমা পরিষ্কারের দায়িত্ব পালন করেনি। এখনো তারা এ ব্যাপারে নির্লিপ্ত রয়েছে। তাদের চরম গাফিলতির কারণেই নগরের বিভিন্ন এলাকা সামান্য বৃষ্টিতেও ডুবে যায়। এ সময় দুর্গত মানুষ অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হয়। ক্ষতি হয় কোটি কোটি টাকার সম্পদের। কিন’ প্রশ্ন হচ্ছে, নগরে মারাত্মক জলাবদ্ধতার কারণে চরম গণদুর্ভোগের পরও কর্তাব্যক্তিদের চৈতন্যোদয় হয়নি কেন? কেনই বা নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস’া সচল করতে নেয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। এখনো কেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সিডিএসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কুম্ভকণের্র ঘুমে আচ্ছন্ন। এর অবসান হওয়া জরুরি। সহসাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার ও অবৈধ স’াপনা উচ্ছেদ করে, খাল-নদী খনন এবং বেদখলে যাওয়া অংশ উদ্ধার করে নগরীর জলাধারগুলো উদ্ধার ও রক্ষার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

যতটুকু দেখা যায়, ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামের দুর্ভাগ্য এখনো কিছু কম। চট্টগ্রামে এখনো কিছু খাল রয়েছে যেগুলো পুনঃখনন করলে হয়তো সেগুলো পুরনো চেহারায় ফিরে আসতে পারে। আর উন্নয়নবিদ-পরিকল্পনাবিদরা যদি দয়া করে ড্রেনেজের বিষয়টা ভাবেন তাহলে পরিসি’তি রক্ষা পেলেও পেতে পারে। পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন মোতাবেক জানা যাচ্ছে, এ শহরের উন্নয়নে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ৩৫টি প্রকল্প হাতে নেয়া হলেও, প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা নিয়েই কোনো প্রকল্প নেই। যদিও এর আগে প্রকল্পকেন্দ্রিকও অনেক অনিয়মের অভিযোগ লক্ষ্য করা গেছেথ যেখানে সময়ক্ষেপণ, অনিয়ম ও প্রকল্পর বাস-বায়ন হুমকির মুখে পড়েছে। আর এ ক্ষেত্রে জলাবদ্ধতার মতো একটি ভয়াবহ সমস্যা নিয়ে কোনো প্রকল্পই না থাকা দুঃখজনক। আমরা মনে করি, যে কোনো মূল্যেই হোক এ পরিসি’তি নিরসন করতে হলে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ২০১০ সালে জলাবদ্ধতা নিরসনে অঙ্গীকার করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন এম মনজুর আলম। গত ৪ বছরে এ খাতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা খরচ হলেও জলাবদ্ধতা নিরসন হয়নি। এ ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা ও তার বাস-বায়নে গড়িমসি রয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তার যৌক্তিকতা অস্বীকারের উপায় নেই। উন্নয়নের সঙ্গে জলাবদ্ধতার সম্পর্ক নির্ণয় খুব কঠিন নয়। কারণ এ উন্নয়ন হচ্ছে অপরিকল্পিত উন্নয়ন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরিণামদর্শী উন্নয়ন। রাজধানী ঢাকা বহু আগেই এর শিকার। ঢাকার সব খাল ও ঝিল আমরা অনেক আগেই ভরে ফেলেছি। প্রভাবশালীরা যে যা পারে দখল করেছে। প্রাকৃতিক বা মুঘল আমলের খনন করা খাল ভরাটের পাশাপাশি পরিকল্পিত জলনিষ্কাশন বা ড্রেনেজ ব্যবস’াও নেই। এখন এক পসলা বৃষ্টিতেই রাস-াঘাট সয়লাব। ঢাকার পরম সম্পদ চারটি নদীও দখলে-দূষণে শেষ হওয়ার পথে। রাজধানী ঢাকাকে অপরিকল্পিতভাবে বাড়িয়ে ফেলতে আমরা ‘ড্যাপ’ মানব না, পানি সরে যাওয়ার কোনো স্বাভাবিক পথ রাখব না, পানিকে ধারণ করার কোনো প্রাকৃতিক জলাশয়েরই অসি-ত্ব থাকবে না। ঢাকার পর এবার চট্টগ্রাম সংহার আমাদের। চট্টগ্রাম শহরে ১৬টি খাল বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের কাজ করত। অধিকাংশই কুক্ষিগত হয়েছে ক্ষমতাবানদের। তাদের দাপটে অসহায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রায় তিরিশ বছর ধরে চাক্তাই খাল নিয়ে কত আহাজারি। খননের প্রকল্পও তো হলো। শুধু কাজের কাজ হলো না।

পৃথিবীর বহু দেশে নগরায়ণের পরও নদীরক্ষা ও নিষ্কাশন সুব্যবস’ার নজির আছে। তাহলে আমরা কেন পারছি না? এজন্য আমাদের সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি, সরকার, স’ানীয় প্রশাসন, স’ানীয় সরকার, ওয়াসা প্রভৃতি সংস’ারও দায়ভার আছে। তবে এসব সংস’ার কাজের মধ্যে সমন্বয়ের ব্যবস’া নেই। ‘নগর সরকার’ বিষয়টি নিয়ে বহু বছর ধরে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে। কিন’ নগর সরকারে দেখা মিলছে কই? নগর সরকার গঠন করে সব নগরের জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। কিন’ রাজনৈতিক নেতাদের একাধিপত্যের লালসার কাছে জলাবদ্ধতা নিরসনের স্বপ্ন কি বাস-বায়ন হবে? অবশ্যই হবে। এ জন্য সব অপশক্তির লাগাম টেনে ধরে ড্যাব বাস-বায়ন করতে হবে, পরিকল্পিত নগরায়ণ করতে হবে, নদী, খালগুলো দখলমুক্ত করতে হবে। তা হলেই নগরের জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে।

লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।