সকল শিরোনাম

দূষিত বায়ুর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়! ৭ মার্চের জনসভা সফল করতে নানা উদ্যোগ আ.লীগের দেশে আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা দেখছেন এরশাদ আমার কর্মকান্ডে মানুষের ক্ষতি হলে অবসর নিব ডিসেম্বর নয়, এখনই পদত্যাগ করুন: অর্থমন্ত্রীকে বাবলু বিএনপি হচ্ছে রাজনীতির বিষবৃক্ষ, সংসদে তথ্যমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ‘কথাবার্তা মহাসড়কের মতো বেসামাল’: রিজভী অযত্ন অবহেলায় অরক্ষিত ডেমরার শহীদ মিনার `শেখ হাসিনার হাত থেকে পার পাওয়ার উপায় নেই কারও’ রাজনৈতিক দলগুলো ছাত্রদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে: এরশাদ খালেদা জিয়ার বিষয়ে কিছুই করার নেই: ইসি বিশ্ব ভালবাসা দিবসে যানবাহন চালকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো রামপুরা ট্রাফিক জোন ম্যাডামকে কোনো ডিভিশন দেওয়া হয়নি: মওদুদ ৩২ ধারা বাতিল না করলে তথ্যমন্ত্রী পদত্যাগ চান সাংবাদিক নেতারা খালেদা জিয়াকে একটি স্যাঁতসেঁতে ঘরে একা রাখা হয়েছে, এটা অমানবিক : ফখরুল ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে, টাকা আত্মসাৎ হয়নি : ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বিএনপির আন্দোলন ও পুলিশের অবস্থান ইতিবাচক : ড. বদিউল আলম মজুমদার যে কারণে বিএনপির আন্দোলনে তেজ নেই আসছে তৌহিদ এলাহীর ‘বইকাটা’ বিদেশি গণমাধ্যমগুলোতে ব্রিফ করছে বিএনপি রাজধানীর প্রবেশদ্বার ডেমরায় নিত্য যানজট : ট্রাফিকের নানা উদ্যোগ দেশে এখন বন্য আইন চলছে : মান্না একজন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি: কাদের আপিল করলে খালেদার সাজা বেড়ে ১০বছর হতে পারে: নৌমন্ত্রী


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

দূষিত বায়ুর দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়! অযত্ন অবহেলায় অরক্ষিত ডেমরার শহীদ মিনার `শেখ হাসিনার হাত থেকে পার পাওয়ার উপায় নেই কারও’ বিশ্ব ভালবাসা দিবসে যানবাহন চালকদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানালো রামপুরা ট্রাফিক জোন একজন দন্ডপ্রাপ্ত ব্যাক্তিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপি: কাদের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদন ‘ক্ষমতায় থাকলে সব মাফ আর বিরোধী দলে থাকলেই সব অপরাধ’ রূপগঞ্জে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল শাহরুখের বাড়ি দখলে নিল সরকার পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির পেছনে সিন্ডিকেট ছিল না স্বপ্নবাজের স্বপ্ন… আয় থেকে জীবনের শিক্ষা আবারো শুভেচ্ছাদূত মিম সামরিক ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশ

ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত

ছবি স্লাইড, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৪ আষাঢ় ১৪২৪ | Saturday, July 8, 2017

বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব ও রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক একটি জরিপে জানা যায়, ঢাকার প্রায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্ত। প্রায় একদশক ধরে বাংলাদেশে রোগটি দেখা দিলেও এবারের মতো প্রকোপ দেখা যায়নি।

 

এই রোগে প্রচ- জ্বর থেকে ওঠার পরও শরীরে ব্যথা থেকে যায় দীর্ঘদিন। সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা ভোগান্তির কারণ হয়েছে চিকুনগুনিয়া। বিবিসি বাংলা।

 

চিকুনগুনিয়া ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন, বিশেষ করে যাদের প্রতিদিনকার আয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।

 

ঢাকার গ্রিনরোডের এক মুদি দোকানদার মো. মকবুল বলছেন, আমি চিকুনগুনিয়া রোগে ১৫ দিন বিছানায় ছিলাম। দোকান চালাতে পারিনি, আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। ঋণ করে এতদিন চলেছি, প্রায় ১৫ হাজার টাকা দেনা হয়ে গেছি।

 

একটি দোকানের বিক্রয়কর্মী ফাইজুল বলছেন, একবার জ্বর হয়ে যাওয়ার পর এখন আবার শরীর খারাপ হয়েছে। অনেকদিন কাজে কামাই করেছি, গত দুদিন ধরে কাজে যেতে পারছি না। একদিন যেতে না পারলে বেতন কেটে রাখে।

 

এ রোগের শিকার হওয়ার পর অনেকদিন নিজের কাজে যেতে পারেননি ঢাকার গ্রিনরোডের মাজেদা বেগম। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন তার স্বামীও।

 

মাজেদা বেগম বলেন, আমি বাসায় কাজ করি। জ্বর হওয়ার পর দশ-বারোদিন কাজে যেতে পারিনি। একটু ভালো হয়ে তিন-চারদিন গেছি। এরপর আবার যেতে পারিনি। এ জন্য আমার দুটি কাজ চলে গেছে।

 

তবে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষ।

 

একদিন সকালে হঠাৎ করেই এনজিওকর্মী রুথ লিপিকা হিরা বুঝতে পারেন, তিনি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত। পনেরো দিন অসুস্থ থাকার পর, এখনো তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

 

তিনি বলছেন, একদিন সকালে উঠে বুঝতে পারি, আমার প্রচ- জ্বর এসেছে, শরীরে ব্যথা। এরপর ১৫ দিন বিছানায় পড়ে থাকতে হয়েছে। পরে মুখে র‌্যাশ উঠেছে। এখনো শরীরে অনেক ব্যথা, হাঁটুতে ব্যথা হয়।

 

রুথ লিপিকা হিরা বলছেন, যেদিন অসুস্থ হলাম, সেদিন অফিসে জরুরি মিটিং ছিল। কিন্তু ছুটি নিতে হয়েছে। আর এখন কাজে ফিরে এতদিনের সব কাজ একসঙ্গে করতে হচ্ছে।

 

তবে শুধু যারা আক্রান্ত হয়েছেন তারাই নন, পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ায় ঝড় যাচ্ছে পরিবারপ্রধানদের ওপর দিয়েও। এ রকম একজন মো. আলম, যার স্ত্রী ও দুই মেয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

 

মো. আলম বলছেন, বাড়ির লোকজন সবাই অসুস্থ। আমি তাদের দেখব নাকি কাজে যাব, তাই বুঝছি না।

 

ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক, ডা. নাজিয়া হক বলছেন, গত কয়েকমাসে অন্য জ্বরের রোগীর তুলনায় চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীই তাদের কাছে বেশি আসছে। ডেঙ্গু রোগের বাহন এডিস মশাই চিকুনগুনিয়া রোগেরও কারণ। এখনো এ রোগের পুরোপুরি প্রতিকার আবিষ্কৃত হয়নি।

 

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক মিরজাদি সাবরিনা ফোরা বলেন, ২০০৮ সাল থেকে রোগটি বাংলাদেশে শনাক্ত হলেও, এ বছরই সবচেয়ে বেশি প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। তিনি বলছেন, মোবাইল নাম্বারের ভিত্তিতে আমরা ৪ হাজার মানুষের মধ্যে একটি জরিপ করেছি। এখনো সেই জরিপের ফল চূড়ান্ত হয়নি, পর্যালোচনা চলছে, তবে একটি ধারণা দিতে পারি। এ চার হাজার লোকের মধ্যে ৩৫৭ জন চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হয়েছেন। এ থেকে হয়তো ধারণা করতে পারেন, কত শতাংশ মানুষ রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে।

 

তাদের ধারণা, বৃষ্টি যতদিন থাকবে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ রোগের প্রকোপ থাকতে পারে।

 

চিকিৎসকরা বলছেন, ততদিন মশা থেকে সতর্কতাই, যেমন মশারি বা ওষুধ ব্যবহার করাই হবে এ থেকে রার সবচেয়ে ভালো উপায়।

 

বৃষ্টির পর যাতে পানি জমে থাকতে না পারে, যেখানে মশা ডিম পাড়তে পারে, সেদিকেও নজর দিতে তারা পরামর্শ দিয়েছেন।