সকল শিরোনাম

.রূপগঞ্জে পিএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অন্ত:নেই স্বপ্ন-সুখের সংসার করা হলোনা রিমুর : ডেমরায় প্ররোচনায় পড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ডেমরায় পঙ্গুদের মাঝে হুইল চেয়ার ও ক্রাচ বিতরণ শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী শাসক ধর্মের নামে একটি কুচক্রিমহল শিক্ষিতযুবকদের ভুলপথে নেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে: হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি আল-রাফি হাসপাতালের উদ্যোগে চিকিৎসকদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুভ জন্মদিন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা -নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা: আদালতে স্বীকারোক্তি ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে আসিয়ানকে ভূমিকা নেওয়ার আহবান থমকে গেছে বিএনপি ঈদে আসছে রনি’র মিউজিক ভিডিও “কোরবানি” সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

স্বপ্ন-সুখের সংসার করা হলোনা রিমুর : ডেমরায় প্ররোচনায় পড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ডেমরায় পঙ্গুদের মাঝে হুইল চেয়ার ও ক্রাচ বিতরণ শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী নারী শাসক ধর্মের নামে একটি কুচক্রিমহল শিক্ষিতযুবকদের ভুলপথে নেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে: হাবিবুর রহমান মোল্লা এমপি আল-রাফি হাসপাতালের উদ্যোগে চিকিৎসকদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুভ জন্মদিন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা -নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত থমকে গেছে বিএনপি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড

যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি!

ছবি স্লাইড, শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ৬ আষাঢ় ১৪২৪ | Tuesday, June 20, 2017

 ---মীর আব্দুল আলীম :

ঢাকাকে বলা হয় যানজটের শহর। রোজা আর ঈদ ছাড়াও বার মাসই এ শহরে যানজট লেগে থাকে। বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর মধ্যে ঢাকার মতো আর কোথাও বিরক্তিকর যানজটের আবির্ভাব হয় কি না আমাদের জানা নেই। যানজটের কারণে ঢাকা আজ এক গুরুতর অসুস’ নগরী। যাতায়াত দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে নিরবচ্ছিন্ন যানজটে। যানজট সমস্যার সমাধানের জন্য নগরীর বিভিন্ন জায়গায় ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে। এত কিছুর পরও যানজট সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি এখনো লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যানজট রাজধানী ঢাকার দেড় কোটি মানুষের মেগাসিটিকে স’বির করে দিচ্ছে। প্রতিদিন যানজটে লাখো মানুষের হাজার হাজার কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী ক্রমান্বয়ে অচল নগরীতে পরিণত হচ্ছে। জনসংখ্যার তুলনায় রাস-ার স্বল্পতা এবং স্বল্পগতির অযান্ত্রিক যানবাহনের আধিক্যকে এ স’বির অবস’ার জন্য দায়ী করা হয়। রাজপথে রিক্সার আধিক্য, ট্রাফিক আইন না মানা, পরিকল্পনার অভাব, ফুটপাত দখল, প্রাইভেট কারের সংখ্যা স্পুটনিক গতিতে বৃদ্ধি পাওয়াও যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ। তবে সামপ্রতিক সময়ে যানজটের কারণ হিসেবে ভাঙাচোরা রাস-া এবং কারণে-অকারণে রাস-া খোঁড়াখুঁড়িকেও দায়ী করা হচ্ছে। যেখানে-সেখানে পার্কিং, ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো ইত্যাকার সমস্যা তো বহু পুরনো। কিছুতেই রাজধানীর যানজট সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। যানজট পরিসি’তি দিনই দিনই জটিল হচ্ছে।

রাজধানীতে যানজটের কারণে বছরে বাণিজ্যিক ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন এর পরিমাণ ৮৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতি কর্মদিবসে নষ্ট হচ্ছে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা, যা একজন মানুষের ক্ষেত্রে ৩ ঘণ্টা। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট থেকে রাজস্ব গচ্চা যাচ্ছে ২ হাজার কোটি টাকা। যানজটের কারণে রাজধানীতে পরিবহন প্রবেশ করতে না পারায় প্রতিদিন বিভিন্ন খাত থেকে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আয় নষ্ট হচ্ছে। সব মিলিয়ে যানজটের কারণে দিনে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা ১২ ঘণ্টায় রাজধানীতে চলাচলকারী যানবাহনকে যানজটের কারণে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়। এর মধ্যে প্রতিদিন ঢাকার রাস-ায় নামছে প্রায় ২০০ বিভিন্ন ধরনের পরিবহন। ২০৩০ সালে ঢাকায় জনসংখ্যা হবে ৩০ কোটি। এ প্রেক্ষাপটে যানজট নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার সময় এখনই। রাজধানী ঢাকাকে সবার জন্য বসবাসের উপযোগী করতে হলে যথাযথ সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস-বায়ন জরুরি। যানবাহন এবং যানজট যে শহরের সচলতা শুধু কমিয়ে দিচ্ছে তাই নয়, আর্থিক ক্ষেত্রেও অভিঘাত হানছে। এখন যে পরিসি’তিতে দাঁড়িয়ে আছে ঢাকা শহর সে পরিসি’তি অপরিবর্তিত থাকলে এ শহর অসচল হয়ে পড়বে।

কী অবাক করা কথা! বিআরটিএতে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, প্রতিদিন ঢাকার রাস-ায় কতগুলো গাড়ি নামছে। কিন’ প্রতিদিন কি ঢাকার রাস-া বড় হচ্ছে? তবে গাড়ি যারা নামাচ্ছে তারা প্রয়োজনেই নামাচ্ছে। এগুলো ব্যবহার করছে। মানুষ এসব গাড়ি তাদের প্রয়োজনেই ব্যবহার করছে। এত গাড়ি আছে, প্রতিদিন এত নতুন নতুন গাড়ি নামছে, এর পরও পাবলিক বাসে মানুষ সিট পাচ্ছে না। ঠেলাঠেলি করে এমনকি গেটে ঝুলে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে এ নগরীতে চলাফেরা করছে। আর এ ধরনের অগণিত গাড়ির বহরে ভরে যাচ্ছে নগরীর রাস-াগুলো। গাড়ির ভেতরে যেমন ভিড় মানুষের, বাইরেও তেমনি ভিড় গাড়ির। ফুটপাতগুলোয়ও কিলবিল করছে মানুষ। যানজট এবং জলজটের যেন এক অবিচ্ছেদ্য সহাবস’ান। এটিই আজ ঢাকা মহানগরীর বাস-বতা।

আসলে আমাদের দেশটার কোনো গতি নেই; আছে দুর্গতি। যানজটের যে অবস’া তাতে দোলনা থেকে কবর পর্যন- ঢাকার মানুষকে মোটমাট কত বছর রাস-ায় আটকে থাকতে হয়? এক হিসাবে তা সাড়ে সাত বছর। অস্ট্রেলিয়ার যাত্রীরা যাতায়াতে সপ্তায় ব্যয় করেন ৩ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট। ঢাকায় প্রতিদিনই লাগে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু এখন ৬৮ বছর। এ হিসেবে দোলনা থেকে কবর পর্যন- যাতায়াতের সময়ের আনুমানিক যোগফল হবে কমসে কম সাড়ে সাত বছর। এটা গায়েবি গজব নয়, মনুষ্যসৃষ্ট আজাব। এ আজাব থেকে আমরা মুক্তি চাই।

আমাদের যতটুকু সড়কপথ আছে তাতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নানাবিধ পদক্ষেপ নিলে যানজট ৮০ ভাগ কমিয়ে আনা সম্ভব। আমরা বিশ্বের বড় বড় শহর এমনকি হজের সময় মক্কা, মদিনা; অলিম্পিক গেমসহ নানা বড় আসরের সময় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস’ার দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে সে সময় কত সহজেই না যানজট নিয়ন্ত্রণ করছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো। অলিম্পিকের মতো আসরে দিন গুনে জোড়-বেজোড় নাম্বারের প্রাইভেট গাড়িগুলো চলাচল করতে দিচ্ছে। এক দিন জোড় সংখ্যার গাড়িগুলো রাস-ায় চলার অনুমতি পাচ্ছে তো পরদিন পাচ্ছে বেজোড় সংখ্যার গাড়িগুলো। বিশেষ মুহূর্তগুলোতে বাইরের শহরের গাড়িগুলো শহরে ঢোকার অনুমতি পাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আগে থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে পত্রিকায় ঘোষণা দেয়া হচ্ছে ফলে দুর্ভোগ হচ্ছে না, হচ্ছে না যানজটও। জোড়-বেজোড় নাম্বারের গাড়িগুলো রাজধানীতে দিন গুনে চলাচল করতে দেয়া যেতে পারে। ঢাকা মহানগীরর যানজট, পার্কিং সমস্যা, পরিবেশদূষণ ও জনদুর্ভোগের পরিপ্রেক্ষিতে আশু করণীয় হলো পার্কিং চাহিদা নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, বিনামূল্যে পার্কিং বন্ধ করা এবং অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য জরিমানার ব্যবস’া করা, সর্বত্র জায়গা ও সময়ের মূল্যানুসারে পার্কিং ফি নেয়া, পার্কিং থেকে প্রাপ্ত অর্থ পাবলিক পরিবহনের মানোন্নয়নে ব্যয় করা। নগরের ব্যস-তম এলাকায় প্রাইভেট কার চলাচলের ক্ষেত্রে কনজেশন চার্জ গ্রহণ করা, প্রাইভেট কারের লাইসেন্স সীমিত করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে প্রাইভেট গাড়ির পরিবর্তে পাবলিক পরিবহনের ব্যবস’া করা, প্রাইভেট গাড়িনিভর্র অবকাঠামো (ফ্লাইওভার, পার্কিংয়ের স’ান তৈরি) নির্মাণ না করা। পাবলিক পরিবহন, জ্বালানিমুক্ত যান ও পথচারীদের সুবিধা বৃদ্ধি করা। জায়গা ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা ও প্রাইভেট কারের পার্কিং সমস্যা সমাধানে পার্কিংয়ের জন্য সময় ও স’ান অনুসারে অর্থ গ্রহণই যুক্তিযুক্ত।

যানজট রাজধানীর নগর জীবনকেই শুধু বিপর্যস- করে তুলছে তা নয়, ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য হিসেবেও পরিচিতি এনে দিয়েছে। যানজট সমস্যার সমাধানে আরো বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। এ নির্মাণ কাজের জন্য ব্যস- সড়কের একাংশ ব্যবহৃত হওয়ায় ধারে কাছের সব সড়কে যানজট অনিবার্য হয়ে উঠছে। নির্মাণ কাজের শম্বুকগতি মানুষের ভোগানি-কে দীর্ঘস’ায়ী করছে।

যানজটে এমনই অচলাবস’ার সৃষ্টি হচ্ছে যে, আধা ঘণ্টা দূরত্বের সড়ক অতিক্রম করতে গড়ে ৭-৮ গুণ পর্যন- সময় লাগছে। রাজধানীর যানজটের জন্য প্রাইভেট কারের মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যা বৃদ্ধিকে দায়ী করা হয়। বলা হয়, রিকশার পাশাপাশি প্রাইভেট কারের আধিক্য অচলাবস’ার সৃষ্টি করছে। তবে অভিজ্ঞজনদের মন-ব্য, ট্রাফিক অব্যবস’াপনা যানজটের জন্য প্রধানত দায়ী। ঢাকার রাজপথের এক বড় অংশ অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যাওয়ায় এ অবস’ার সৃষ্টি হয়েছে। এ অবৈধ দখলদারিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক টাউট, পাড়া-মহল্লার মস-ান এবং পুলিশের সম্পর্ক থাকায় রাজধানীর সড়কগুলো দখলমুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকানপাট উঠিয়ে দেয়া সম্ভব হলে যানজট এমনিতেই সহনীয় হয়ে উঠবে। এর পাশাপাশি কঠোরভাবে ট্রাফিক আইনের বাস-বায়ন নিশ্চিত করতে হবে। যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হলে যানজটের রাশ টেনে ধরা সম্ভব হবে।

রাজধানীর যানজট সহনীয় মাত্রায় আনতে স্বল্পগতির যানবাহন ও প্রাইভেট কারের সংখ্যাধিক্যের দিকে নজর দেয়া দরকার। ট্রাফিক আইন যাতে সব ক্ষেত্রে কড়াকড়িভাবে মানা হয় সে ব্যাপারেও যত্নবান হতে হবে। ফুটপাত থেকে দোকানপাট উঠিয়ে দেয়া, যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং বন্ধে ব্যবস’া নেয়া এবং দিনের ব্যস- সময়ে প্রাইভেট কার চলাচল কমিয়ে আনার কথাও ভাবতে হবে। রাজধানীতে জনসংখ্যার তুলনায় সড়কের সংখ্যা এমনিতেই কম। তার পরও রয়েছে স্বল্পগতির রিকশা ও প্রাইভেট কারের আধিক্য। ফুটপাত দখল করে দোকানপাট চালানো কিংবা রাস-ায় যেখানে-সেখানে গাড়ি পার্কিং এ মেগাসিটিতে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো প্রাইভেট কারের অপরিকল্পিত পার্কিং। ঢাকার প্রায় সব সড়কেই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে গাড়ি পার্কিং। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচলের জায়গা কমে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আবার পার্কিংয়ে কোনো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস’া না থাকায় মানুষ প্রাইভেট কার ব্যবহারে আরো উৎসাহিত হচ্ছে। গাড়ি বাড়ছে, বাড়ছে পার্কিং সমস্যাও। পার্কিং সমস্যা নিরসনে এর আগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হলেও সমাধান মেলেনি। যানজট নিয়ন্ত্রণ, সম্পদ ও জায়গার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পার্কিং সমস্যার দীর্ঘস’ায়ী সমাধান বের করা জরুরি। রাজধানীর যানজট নিরসনে সঠিক পরিকল্পনা এবং সিদ্ধানে-র অভাব দেখা যায়। পার্কিং সমস্যা নিরসনে প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণের বিকল্প কিছু নেই। ঢাকার রাস-া, ফুটপাত, খেলার মাঠ, পার্ক সর্বত্রই প্রাইভেট কার পার্কিংয়ের জন্য নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। এ ছাড়া ভবনে আবশ্যিকভাবে কার পার্কিংয়ের জন্য জায়গা রাখা ও পার্কিংয়ের জন্য ভবন নির্মাণ করে শহরে প্রাইভেট কারকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। মতিঝিল এলাকায় নির্মাণাধীন সিটি সেন্টারে ৫০০ প্রাইভেট কার পার্কিংয়ের ব্যবস’া করতে ১০টি ফ্লোর বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় প্রতিটি ভবনে প্রাইভেট কারের পার্কিং সুবিধা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে; যার ফলে ভবিষ্যতে প্রাইভেট কার বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের হিসাবমতে মতিঝিল-দিলকুশা এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার প্রাইভেট কার পার্কিং করা হয়। প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ না করা হলে এবং সেই সঙ্গে বিকল্প পরিবহন সুবিধা দিতে না পারলে শুধু পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি করে যানজট নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। জনসমাগমস’লে গাড়ি পার্কিং করা হলে মানুষের চলাফেরা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নষ্ট হয়। আমরা চাইলেই ফুটপাত বা রাস-ায় ব্যক্তিগত জিনিস রাখতে পারি না। অথচ সর্বত্রই প্রাইভেট কার পার্কিংয়ের জন্য রাস-া এবং ফুটপাত ব্যবহার করা হচ্ছে। ফুটপাত ও রাস-ায় গাড়ি পার্কিং করায় মানুষের চলাচল বিঘ্‌িনত হয়, আশপাশের ব্যবসা কেন্দ্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, জনসাধারণের অবাধ বিচরণের অধিকার খর্ব হয়।

যানজটের কারণে ঢাকার নাগরিক জীবনের কোনো সময়সূচি মেনে চলা সম্ভব হচ্ছে না। কর্মজীবী মানুষকে কর্মস’লে যেতে এবং কাজ শেষে ফিরতে প্রতিদিন এতটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে যে, বিমানে করে সে সময়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাওয়া শুধু নয়, ফিরে আসাও সম্ভব। রাজধানীর যানজট নাগরিকদের মনোরাজ্যে প্রতিদিনই সৃষ্টি করছে বিরূপ প্রভাব। কেড়ে নিচ্ছে মনের শানি-। অর্থনীতির জন্য সর্বনাশা প্রভাবও সৃষ্টি করছে এ সমস্যা। রাজধানীতে প্রতিটি যান্ত্রিক যানবাহনে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল বা সিএনজি ব্যবহৃত হয়, তার প্রায় অর্ধেকটাই অপচয় ঘটে যানজটের কারণে। অথচ চরম বিরক্তিকর এ সমস্যা থেকে নগরবাসীকে রেহাই দেয়ার তৎপরতা নেই বললেই চলে। রাজধানীর যানজট নিরসনে ট্রাফিকব্যবস’াকে গতিশীল করার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। রাস-া খোঁড়াখুঁড়ির মহোৎসবেও লাগাম পরাতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, দেশের সব কিছুতে রাজধানীমুখী যে প্রবণতা রয়েছে তাতেও বাদ সাধতে হবে। সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের বিকেন্দ্রীকরণ করেও ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতা রোধ করা সম্ভব।

যানজটের কবল থেকে ঢাকাকে রক্ষা করতে ঘন ঘন মেট্রোরেল সার্ভিস, পাতালরেল, ট্রানজিট সুবিধা, পার্কিং মিটার, দ্বিতল বাস সার্ভিস চালুর বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে স’ানীয় সরকারব্যবস’াকে শক্তিশালী করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ক্ষমতায়ন জরুরি। অন্যথায় পরিসি’তি সামাল দেয়া সম্ভব হবে না। এ ছাড়া প্রাইভেট কার, রিকশা, বেবিট্যাক্সিসহ বিভিন্ন পরিবহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। মতিঝিলকে বাণিজ্যিক জোন ঘোষণা করে বাস ছাড়া সব পরিবহন বন্ধ করে দিতে হবে। রাজধানী ঢাকার মোট আয়তনের ৬-৭ ভাগ রাস-া। আন-র্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রাস-া ২৫-৩০ ভাগ থাকার কথা থাকলেও ঢাকায় তা নেই। যেটুকু রাস-া আছে এর অনেকাংশই দখলে। বিশ্বব্যাংকের মতে রাজধানীর বর্তমান পরিসি’তিতে যানজট নিরসন অসম্ভব। তাহলে ঢাকাবাসীর কী হবে? যানজটেই আটকে থাকবে ঢাকাবাসী? না, এ দুঃসহ যানজট থেকে ঢাকাবাসীকে মুক্ত করতেই হবে। বিশেষ করে রোজা আর ঈদ নির্বিঘ্‌ন করতে যানজটমুক্ত ঢাকা চাই আমরা। আর এ জন্য অবশ্য ঢাকার রাস-ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।