সকল শিরোনাম

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা: আদালতে স্বীকারোক্তি ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে আসিয়ানকে ভূমিকা নেওয়ার আহবান থমকে গেছে বিএনপি ঈদে আসছে রনি’র মিউজিক ভিডিও “কোরবানি” সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! ‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের! প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েছেন ‘দ্য রক’ সবুজ খেলে শরীরে যা বদলে যাবে!


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা: আদালতে স্বীকারোক্তি ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে আসিয়ানকে ভূমিকা নেওয়ার আহবান থমকে গেছে বিএনপি ঈদে আসছে রনি’র মিউজিক ভিডিও “কোরবানি” সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত

‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক

সকল শিরোনাম, সম্পাদকের কলাম, সর্বশেষ সংবাদ | ৬ আষাঢ় ১৪২৪ | Tuesday, June 20, 2017

মীর আব্দুল আলীম :---

“পুলিশের বেপরোয়া ঈদবাণিজ্য” ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি জাতীয দৈনিকের প্রধান শিরোনাম এটি। আরেকটি পত্রিকা ছেপেছে “ঈদ সামনে রেখে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ন”। প্রতিবছরই ঈদ সামনে রেখে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ন বাড়ে। এবারের ঈদও তার ব্যতিক্রম নয়। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে একশ্রেণির চাঁদাবাজ। এ দৌড়ে পুলিশ সদস্যরা পিছিয়ে নেই। ঈদ বকশিশের নামে সড়ক-মহাসড়ক, বাস টার্মিনালে চালানো হচ্ছে চাঁদাবাজি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ উপার্জন, নিরীহদের আটক করে মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে উৎকোচ আদায়, অর্থের বিনিময়ে অপরাধী ছেড়ে দেওয়া ছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের মতো কর্মকাণ্ডেও পুলিশের সম্পৃক্ততার খবর মিলছে।

চাঁদাবাজরা কিন’ গর্তে লুকিয়ে থেকে চাঁদাবাজি করছে না! প্রকাশ্যেই চলছে তাদেও এমন তৎপরতা। তাহলে কেন তাদের নির্মূল করা যাচ্ছে না? সরকার ধরে ধরে রাজাকার ও জঙ্গি নির্মূল করতে পারলে চাঁদাবাজদের বেলায় ব্যর্থ হচ্ছে কেন? জঙ্গি নির্মূল অসাধ্য মনে হলেও সরকার এ কাজে সফল হয়েছে। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রসীরা তো আত্মগোপনে নেই! তাছাড়া পুলিশের কর্মকাণ্ডতো চলে অনেকটা প্রকাশ্যে। প্রকাশ্যে থাকার পরও তাদের দমনে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

ক্ষমতাসীন দলের স’ানীয় নেতাকর্মী ও কিছু পুলিশ সদস্যের ইন্ধনে দেশের ফুটপাতগুলোয়ও এখন চলছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। ঈদ বকশিশের নামে এখন দ্বিগুণ করা হয়েছে চাঁদার হার। ফুটপাত থেকে পুলিশের লাগাতার চাঁদাবাজির প্রতিবাদে অতিত নিকটে দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষোভ মিছিল করেও ব্যবসায়ীরা সুফল পাচ্ছে না। বাংলাদেশ হকার্স ফেডারেশন ও বাংলাদেশ হকার্স লীগের সভাপতি এম এ কাশেম পত্রিকাকে জানান, ঈদ উপলক্ষে রোজার শুরু থেকেই ডাবল নেওয়া শুরু হয়েছে হকারদের কাছ থেকে। কিছু পুলিশ সদস্য ও স’ানীয় রাজনৈতিক নেতার নামে দ্বিগুণ করা হয়েছে চাঁদার হার। এই দৌরাত্ম্য সারা দেশেই চলছে।

ঈদ বাণিজ্যের নামে হয়রানির কারণে মহা ভোগানি-তে আছেন পরিবহন ব্যবসায়ীরা। শুধু আঞ্চলিক সড়ক নয়, মহাসড়কেও প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি। চাওয়ামাত্রই টাকা না দিলে ভেঙে ফেলা হচ্ছে যানবাহনের লুকিং গ্লাস, চালকদের শারীরিকভাবে নির্যাতনও করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। রাজধানী ঢাকার কাছে সোনারগাঁয়ের মেঘনা ব্রিজের টোলপ্লাজায় পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলের লোকজন সম্মিলিত ভাবে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজীর খবর পত্রিকায় পাওয়া যাচ্ছে। পুলিশ এবং মান্তানদেও চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় শাররীক আঘাত করায় এক ব্যক্তি মারা গেছে বলেও আমরা জেনিছে। দেশের সড়ক, মহাসড়কে বাস ট্রাক প্রাইভেট কার থামিয়ে নানা অজুহাতে পুলিশ ব্যাপক চাঁদাবাজি করছে। থানা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মিলেমিশে চাঁদাবাজি করছে- এমন অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারাদেও নামভাঙ্গিয়ে ‘যানজট নিরসন প্রকল্পের’ নামে রসিদ দিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে। এজন্য প্রবেশ পথে মোতায়েন করা হয় লাঠিয়াল বাহিনী। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে হয়রানি ও মারধর করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী চাঁদাবাজদের অধিকাংশেররই বড়ভাই, লাটভাই জাতীয় কোনো অভিভাবক আছে, যারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকে। এজন্যই কি চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, মোবাইল ফোনসহ অন্যান্য মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবি করে শাসানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সেইসঙ্গে ‘মৃত্যু পরোয়ানা’ হিসেবে কাফনের কাপড় পাঠানোর ভয়াবহ তৎপরতাও কখনো কখনো লক্ষ্য করা যায়। বস-ুত চাঁদাবাজি, বিশেষ করে ঈদের সময় চাঁদাবাজি হবে না, এদেশে তা স্বপ্নেরও অগোচর। ব্যবসায়ী তথা দেশবাসী যেন বিষয়টিকে তাদের নিয়তি হিসেবেই মেনে নিয়েছে। সমপ্রতি শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনেকে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। এ পরিসি’তিতে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে ছোট দোকান মালিকরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

ঈদকালীন চাঁদাবাজিতে চাঁদাবাজরা বরাবর সক্রিয় থাকলেও এবার যেন তারা অতিমাত্রায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, মতিঝিল, ফকিরাপুল, গুলিস-ান, এলিফ্যান্ট রোডের কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, নামকরা শীর্ষ সন্ত্রাসী, মৌসুমি চাঁদাবাজ, এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজ বা সন্ত্রাসীরাই শুধু চাঁদা নিচ্ছে না। এদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চাঁদা আদায় করছে হিজড়ারা। শারীরিক অক্ষমতার অজুহাতে এরা নানা দলে বিভক্ত হয়ে বাসাবাড়ি, যানবাহন ও ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সর্বত্র চাঁদাবাজির উৎসবে মেতে উঠেছে।

বছরের অন্যান্য সময় চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকলেও ঈদ উপলক্ষে চাঁদাবাজরা এখন সত্যিই বেপরোয়া। ঈদ সামনে রেখে পরিবহন সেক্টরে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। চাঁদা না দিলেই নির্যাতনের শিকার হতে হয় পরিবহন মালিক ও চালকদের। এ সেক্টরে দেশের বিভিন্ন স’ান থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, চাঁদাবাজির ঘটনায় অনেক সময় পুলিশ জড়িত থাকায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাচ্ছে না মানুষ।

ঈদ বকশিশের নামে বিভিন্ন কৌশলে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে কিছুসংখ্যক রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশ বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে। চাঁদাবাজি ঘটনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে থানায় ডায়েরি ও মামলা হলেও অধিকাংশ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা নীরব থাকছেন। তবে ভুক্তভোগীরা বলছেন, চাঁদাবাজদের সামাল দিতে গিয়ে তাদের এখন ত্রাহি মধূসুদন অবস’া। জানা গেছে, এলাকার বড় বড় সন্ত্রাসীর নাম করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। অনেক দাগি সন্ত্রাসী এলাকায় না থাকলেও তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এলাকার কিছু মাস-ান রাজনৈতিক নেতার পরিচয়েও চাঁদাবাজি করছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্য হল, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। কোথাও চাঁদাবাজির খবর পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিক ব্যবস’া নেয়া হচ্ছে। তাহলে কেন চাঁদাবাজি বন্ধ হচ্ছে না? এ প্রশ্নের উত্তরই বা কী দেবেন তারা?

বস-ুত শুধু শুকনো কথায় চিঁড়া ভিজবে না। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের সমূলে উৎপাটন করে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে। এছাড়া পুলিশের চাঁদাবাজী আগে বন্ধ করতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে, চাঁদা দাবি করে কেউ ফোন করলেই যেন পুলিশে খবর দেয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়ীদেরও উচিত পুলিশকে সহযোগিতা করা। কিন’ ব্যবসায়ীরা থানা-পুলিশের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছেন না। ঈদ চাঁদাবাজিসহ সাংবাৎসরিক চাঁদাবাজি পুরোপুরি বন্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীর আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাধারণ মানুষের আস’া অর্জন করতে হবে। কোন এলাকায় কোন চক্র চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করছে, তা পুলিশের অজানা থাকার কথা নয়। এদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাসি-র ব্যবস’া করতে হবে।

ঈদ ছাড়াও অবিরাম চাঁদাবাজি চলে দেশে। অনেক সময় উপলক্ষ তৈরি করেও চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় বিদেশে পলাতক কয়েকজন সন্ত্রাসীর নাম ব্যবহার করেও চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। এসব চাঁদাবাজের হুমকির মুখে অনেক ব্যবসায়ী আতংকে দিনাতিপাত করছেন। এ কথা ঠিক, আইনশৃংখলা বাহিনী, বিশেষত র‌্যাব সদস্যরা চাঁদাবাজদের মনে কিছুটা হলেও ভয় ঢুকাতে সক্ষম হয়েছে, যে কারণে সরাসরি চাঁদা চাওয়ায় ঘটনা আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম। তার বদলে চলছে ফোনে চাঁদাবাজি।

একটি সুস’ সমাজ সর্বদাই আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। চাঁদাবাজি সুস’ সমাজ কাঠামোয় বিশৃংখলা সৃষ্টি করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সর্বস-রে সুশাসন নিশ্চিত হলে চাঁদাবাজি কমে আসবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। জোরপূর্বক কারও কাছ থেকে চাঁদা আদায় নিঃসন্দেহে অপরাধ। অনেক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন দল ও সংস’ার নামেও চাঁদা আদায় করে থাকে। বিশেষ করে পরিবহন খাতে এ ধরনের চাঁদাবাজি বেশি লক্ষ্য করা যায়। চাঁদা আদায় হয় হাট-বাজারে, ফেরিঘাটে, সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রভাবশালীর নামে। ঈদের সময় বাস ভাড়া বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যায়। এর পেছনে সংশ্লিষ্টদের স্বেচ্ছাচারিতা যেমন রয়েছে, তেমনি চাঁদাবাজরাও এজন্য দায়ী। অবস’াদৃষ্টে মনে হওয়া স্বাভাবিক, এদেশে চাঁদা না দিয়ে কোনো ব্যবসা করা সম্ভব নয়। এজন্য আগে পুলিশের চাঁদাবাজী বন্ধ করতে হবে। পুলিশ এ পথ থেকে ফিওে এলে চাঁদাবাজরা পালানোর জায়গাও আর খুঁজে পাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজান পত্রিকায় জানা, কিছু পুলিশ সদস্য অসদুপায় অবলম্বন করে অর্থ উপার্জন করছেন বলে যে অভিযোগ উঠছে তার অন্যতম কারণ পুলিশের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতিতে অবৈধ অর্থ লেনদেন এবং অস্বচ্ছতা। অপরাধ কমাতে হলে সবার আগে এসব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে হবে। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি এই তিন জায়গায় স্বচ্ছতা আনা সম্ভব না হলে প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতি কমবে না। সৎ কর্মকর্তাদের গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিকতার প্রভাবমুক্ত করতে হবে পুলিশ বাহিনীকে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দৃষ্টান-মূলক শাসি-র আওতায় আনা হলে অপরাধ প্রবণতা অনেকাংশেই কমবে বলে আমরা মনে করি। পুলিশের শৃঙ্খলা ফেরাতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একাধিকবার তাগিদ দেওয়া হলেও কিছু পুলিশ সদস্যের চাঁদাবাজিতে ফিরে আসছে না সুশৃঙ্খল পরিবেশ। পুলিশ সদস্যদের চাঁদাবাজি বন্ধ হলে অপরাপর চাঁদাবাজীও কমে আসবে।

সর্ব্বোপরি বলবো, ঈদকে সামনে রেখে সমাজে শানি–শৃংখলা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারীসহ অন্যান্য অপরাধীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রদর্শনের কোনো বিকল্প নেই। চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের পর প্রায়ই আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে সহজেই ছাড়া পায়। তাছাড়া জেল থেকে বের হয়ে চাঁদাবাজরা আরও সংহারী মূর্তি ধারণ করে। এমন যেন না হয়। আইনশৃংখলা বাহিনীর ওপর আমরা আস’া রাখতে চাই। চাঁদাবাজদের দমনে আইনশৃংখলা বাহিনীর আন-রিকতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি বিচার ব্যবস’ার সংস্কার নিয়েও ভাবতে হবে।

লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, গবেষক ও কলামিস্ট।