সকল শিরোনাম

আল-রাফি হাসপাতালের উদ্যোগে চিকিৎসকদল রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শুভ জন্মদিন প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা -নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা: আদালতে স্বীকারোক্তি ইউরোপ থেকে অবৈধ বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধে আসিয়ানকে ভূমিকা নেওয়ার আহবান থমকে গেছে বিএনপি ঈদে আসছে রনি’র মিউজিক ভিডিও “কোরবানি” সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! ‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের!


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের কিভাবে রাজনৈতিক নবজাতক থেকে ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হলেন ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ লন্ডন হামলা স্থায়ী হয়েছিল ৮২ সেকেন্ড সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘিত হলে নির্মম হামলা করবে উত্তর কোরিয়া উচ্চ ক্ষমতার রকেট-ইঞ্জিন পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া পূর্ব চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের নৌ-মহড়া কাবুলে সামরিক হাসপাতালে আইএসের হামলা, নিহত ৩০ কেমন মানুষ ছিলেন কিম জং-ন্যাম? মেলবোর্নের শপিংসেন্টারে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৫ বিতর্কিত দাতব্য প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা ট্রাম্পের রোহিঙ্গা নির্যাতন: অতীত ভুলে ঐক্যের ডাক সু চির নিউইয়র্কে ষোল লাখ ডলারের স্বর্ণ চুরি! মসুলে প্রায় ৯০০ আইএস জঙ্গি নিহত বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে সম্মত বাংলাদেশ-নেপাল

কিভাবে রাজনৈতিক নবজাতক থেকে ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হলেন ম্যাক্রোঁ

আন্তর্জাতিক, ছবি স্লাইড, শীর্ষ সংবাদ, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৫ বৈশাখ ১৪২৪ | Monday, May 8, 2017

---নিউজ-বাংলাদেশ ডেস্ক: ৩৯ বছর বয়সে ফ্রান্সের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বাইরে সাবেক একজন ব্যাংকার ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের এযাবতকালের সবচেয়ে কমবয়সী প্রেসিডেন্ট। তার কাছে হেরেছেন উগ্রডানপন্থী প্রার্থী লো পেন। তাই নতুন এক সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি উদারপন্থী হলেও এর আগে কখনো তিনি নির্বাচিত হননি আর তার দলও দেশ শাসন করেনি। সিএনএন এক শিরোনামে বলেছে, ‘রাজনৈতিক নবজাতক থেকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট’। আগামী জুনে ফ্রান্সের সংসদ নির্বাচন যেখানে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে কারণ তার রাজনৈতিক দল অতটা সংগঠিত নয়।

এক সময় ফ্রান্সের রাজনীতিতে ম্যাক্রোঁ উপহাসের বিষয় হলেও তিনিই শেষ হাসি হাসলেন। স্বাধীন মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত ম্যাক্রোঁ কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ছাড়াই ব্যাংকার থেকে রাজনীতিতে আসেন। প্রতিপক্ষের কাছে তিনি ছিলেন অভিজ্ঞতাহীন। তারপরও বিস্ময়করভাবে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার বিবাহিত জীবনও বেশ চমকপ্রদ এবং যা ভোটারদের নজর কেড়েছে আস্থার প্রতীক হিসেবে। ১৭ বছর বয়সে ম্যাক্রোঁ তার শিক্ষিকাকে বলেছিলেন, একদিন তাকেই তিনি বিয়ে করবেন। ম্যাক্রোঁ তার প্রতিজ্ঞা পূরণ করেছেন ২৪ বছর বয়সী ব্রিজিত ট্রোগনিউক্সকে বিয়ে করে। তাই ‘ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: এ পারফেক্ট ইয়ং ম্যান’ নামে ফ্রান্সের সাংবাদিক এ্যানি ফুলদা’র বইটি বেশ সাড়া ফেলেছে। বইটিতে উঠে এসেছে কিভাবে নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকতে পিতার আদেশ অমান্য করে ৩ সন্তানের জননীকে ম্যাক্রোঁ বিয়ে করেছেন। এ নিয়ে সমালোচনার জবাবে ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যারা এই গুজব ছড়িয়ে দিতে চায় যে আমি প্রতারণা করছিৃ শুধু ব্রিজিতের জন্যে এটা অপ্রীতিকর নয়, কিন্তু আমি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমার পুরো জীবন তার সাথে ভাগ করে নেই। ব্রিজিতও অবাক হন কিভাবে আমি শারীরিকভাবে এটি করতে পারি।’

উত্তর ফ্রান্সের আমিয়েন্স শহরে জন্মগ্রগণ করেন ম্যাক্রোঁ। প্যারিসের অভিজাত লিসি হেনরি’তে পড়াশুনা করেন তিনি। রাজনীতির ওপর তালিম নিতে তিনি ইকোল ন্যাশনাল ডি’এ্যাডমিনেস্ট্রেশনেও ঢুকেছিলেন। এরপর ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলান্দের কর্মচারি হিসেবে ২০১২ সালে নিয়োগ পান। তার আগেই ব্যাংকার হিসেবে ম্যাক্রোঁ প্রতিষ্ঠা পেয়ে গেছেন। দুই বছর তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার লক্ষ্যই ছিল ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা। এজন্যে উদার সংস্কার করলে তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

সংসদে পিছনের আসনে বসে থাকলেও সরকারের কাজের সমালোচনা করতে ম্যাক্রোঁ পিছপা হননি। শ্রমিকদের জন্যে সংস্কারে তার নীতিকে তথাকথিত ‘ম্যাক্রোঁ ল’ হিসেবে উপহাস করা হয়েছে। দমে যাননি ম্যাক্রোঁ। শুধু অর্থনীতিতে পরিবর্তন নয় একই সঙ্গে সহায়ক সংস্কারে অবিচল থেকেছেন তিনি। নির্বাচনে দাঁড়াবার ঘোষণার সময় তিনি তাই বলেছিলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা তিনি তার আঙ্গুল দিয়ে স্পর্শ করবেন অর্থাৎ দৃঢ় সংকল্পই দেখিয়েছেন ফ্রান্সের ভবিষ্যত প্রয়োজনীয় সংস্কারের পক্ষে। পেনশন ব্যবস্থায় সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় স্থির সংকল্প নেন যা ভোটারদের মন কেড়েছে। প্রতিরক্ষায় বরাদ্দ বাড়িয়ে বলেছেন আরো ১০ হাজার পুলিশ বৃদ্ধি না করলে সন্ত্রাস মোকাবেলা করা যাবে না। আইএস জঙ্গিদের মোকাবেলায় ট্রাস্ক ফোর্স গঠনের ওয়াদাও করেছেন ম্যাক্রোঁ। তৃণমূল পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতন আরো বৃদ্ধির কথা খোলাখুলি বলেছেন তিনি।

ইউরোপের প্রভাশালী দেশ হিসেবে ইইউ’এর পক্ষে বাজার আরো সুসংহত করতে চান ম্যাক্রোঁ। একক বাজারের পক্ষে তিনি। সিরিয়া সংকট নিরসনে রাজনৈতিক সমাধানের জন্যে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ছাড়াও রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় রাজি।

গত মার্চে ফ্রান্সের সাবেক সমাজবাদি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভলস ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁর পক্ষেই নির্বাচনে লড়বেন তিনি। প্রথম পর্যায়ের নির্বাচনে এভাবেই এগিয়ে যান ম্যাক্রোঁ। এরপর বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে তার প্রতি সমর্থন আরো বাড়তে থাকে। পরাজিত সমাজবাদি প্রার্থী বেনইত হ্যামন, রিপাবলিকান ফ্রাঁসোয় ফিলন ও এ্যালেই জাপ্পি তাদের ভোটারদের ম্যাক্রোঁকেই দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহবান জানান। ফলে সকল বয়সী ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হন ম্যাক্রোঁ।
তার রাজনৈতিক দল এন মার্চি গঠনই হল গত সেপ্টেম্বরে, আর এসময়ের মধ্যেই নতুন এ রাজনৈতিক দলটির সদস্য ছাড়িয়ে গেছে ২ লাখ। দলটির সমাবেশে উপচে পড়া সমর্থকদের সোল্লাস লক্ষ্য করার মত। ম্যাক্রোঁর পেছনে তাই ফ্রান্সের সমাজবাদী ও রিপাবলিকানদের যথেষ্ট সমর্থন শেষ পর্যন্ত তাকে এলিসি প্রাসাদে ধাবিত করেছে। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ তবে আসল কাজ মাত্র শুরু। ম্যাক্রোঁ সেদিকে লক্ষ্য রেখে নিজেই বলেছেন, ‘এ নিউ পেজ অব আওর হিস্টরি হ্যাস বিন টার্নড’, হ্যা ফ্রান্সের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করলেন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।