সর্বশেষ সংবাদ: বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের ৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার সিসি ক্যামেরার আওতায় রামপুরা ট্রাফিক জোন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা খালেদাকে জেলে রেখে নির্বাচনের কথা ভাবতে পারে না বিএনপি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করলে বিএনপি অস্থিত্ব সংকটে পড়বে

সকল শিরোনাম

দু:স্থদের মাঝে বিসিএস পুলিশ পরিবারের ঈদ বস্ত্র বিতরণ ৬ কারণে বিশ্বকাপ জিতবে ব্রাজিল সবার জন্য স্বাস্থ্য প্রধানমন্ত্রীর কানাডা সফর ৬ জুন  দ্রব্যমূল্য বাড়ার মাস কী রমজান! সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে লিখিত স্থগিতাদেশ পেলে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের জন্য আপিল করা হবে : অ্যাটর্নি জেনারেল সৌহার্দ্যপূর্ণ আন্তঃবাহিনী সম্পর্ক বজায় রাখার আহবান আইজিপির গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ২৬ জুন বিজ্ঞানমনস্ক জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মানে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক কর্মশালা নির্বাচনী মাঠে একঝাঁক তরুণ মনোনয়নপ্রত্যাশী দলের নয়, কাজের লোককে ভোট দিন: ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়েও উদ্বেগজনক নির্বাচনী প্রচারণায় ঘুম নেই ঢাকা দক্ষিনের প্রার্থীদের ৥ সড়ক দুর্ঘটনা : মায়া কান্নায় কি লাভ? ডেমরায় ট্রাফিকের ঝটিকা অভিযান ও অপরূত কিশোরী উদ্ধার এমপি হতে শেষ চেষ্টায় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে: ড. কামাল রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫টি খাল খনন করবে ওয়াসা যৌন হয়রানি প্রতিরোধে খসড়া আইনের প্রস্তাব সিসি ক্যামেরার আওতায় রামপুরা ট্রাফিক জোন ঢাকা-৫ আসনে বিএনপি-আ’লীগে একাধিক প্রার্থী, সুবিধাজন অবস্থানে জাপা ফখরুলের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন রিজভী কালবৈশাখীর কারণে রূপালী ব্যা‍ংকের লিখিত পরীক্ষা বাতিল খালেদাকে জেলে রেখে নির্বাচনের কথা ভাবতে পারে না বিএনপি


পরিবহন খাত নৈরাজ্যমুক্ত করুন

ঊপ-সম্পাদকীয়, সকল শিরোনাম | ১২ চৈত্র ১৪২৩ | Sunday, March 26, 2017

পরিবহন খাতে বিরাজ করছে চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। ২৩ মার্চ ২০১৭ তারিখ পত্রিকান্তরে এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ খাতে স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা চরমভাবে জেঁকে বসেছে। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে পরিবহন খাতে দিনে কমপক্ষে ৬ কোটি টাকার বেশি চাঁদাবাজি হয়। বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে নির্ধারিত যানবাহন থেকে প্রকাশ্যে তোলা হয় এ চাঁদা। আর অপ্রকাশ্যে চাঁদা তোলা হয় এর কোনো সঠিক হিসাব নেই। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রকাশ্যে তোলা চাঁদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি উত্তোলিত হয় অপ্রকাশ্যে চাঁদা।
প্রতিবেদন থেকে এও জানা গেছে, এ চাঁদা পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ও এর অধীন ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতিসহ বিভিন্ন মালিক সমিতির মধ্যে এই চাঁদা ভাগ-বাটোয়ারা হয়। পরিস্থিতি কতটা নাজুক পর্যায়ে পৌঁছেছে তা আরো স্পষ্ট হবে এই তথ্য থেকেও। প্রতিদিন সড়ক ভবনের ফেডারেশন কার্যালয়ে সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ দামি গাড়ি নিয়ে উপস্থিত হন শ্রমিক নেতারা। সেখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলে চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা। এ ব্যাপারে পল্টন থানার ওসির বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, এই চাঁদা নিয়ে যে কোনো সময় ঝামেলার সৃষ্টি হতে পারে এবং তাতে পুরো এলাকা পরিণত হতে পারে রণক্ষেত্রে। নৌ পরিবহমন্ত্রী শাজাহান খান যিনি পরিবহন খাতের একজন বিশিষ্ট নেতা তিনি বলেছেন, ‘আমরা চাই এ খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হোক। বিভিন্ন সময়ে এ চাঁদাবাজি বন্ধে আমরা বক্তব্য দিয়েছি।’ কিন্তু আসলে এসব বক্তব্যে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না উপরন্তু পরিবহন খাতে দিন দিন নৈরাজ্য জেঁকে বসছে।
রাজধানীর গণপরিবহনে যাত্রীদের ভোগান্তির অন্ত নেই। লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো সিটিং সার্ভিসের নামে চালাচ্ছে যাচ্ছেতাই কর্মকাণ্ড এবং কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যাত্রীদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করছে অথচ বিআরটিএ সিটিং বাসের কোনো অনুমোদন দেয় না। তারপরও কী করে এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যাত্রীদের হয়রানি করে ষোলোকলা পরিবহন সংশ্লিষ্টরা পূরণ করছেন এসব প্রশ্নের জবাব দেয়ার দায় যাদের তাদের নির্বিকারত্বও বিস্ময়কর এবং প্রশ্নবোধক। রাজধানীর গণপরিবহনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন নারীরা। এসব দেখাশোনার যেন কেউ নেই। দিনের পর দিন পরিবহন খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করলেও এর নিরসনে নেই কোনো কার্যকর উদ্যোগ কিংবা পদক্ষেপ! শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক চুন্নু একটি পত্রিকার সাংবাদিকের চাঁদাবাজিসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, চাঁদা আদায়ের বিষয়টি তার জানা নেই! বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে খুব সহজেই প্রতীয়মান হয় যে, গোটা পরিবহন খাতে কী হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে।
পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধসহ সব ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের নিরসন ঘটিয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার দায়-দায়িত্ব যাদের তাদের নির্বিকারত্ব যত দ্রুত কাটবে ততই মঙ্গল। এ রকম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির মধ্য জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এত বড় একটি খাত চলতে পারে না। এ বিষয়ে এ যাবৎ কথা হয়েছে বিস্তর কিন্তু কাজের কাজ হয়নি কিছুই। বিশৃঙ্খলার নিরসন হোক, পরিবহন খাতে প্রতিষ্ঠিত হোক শৃঙ্খলা এবং মানুষ এর সুফল ভোগ করুক-এটিই হলো মূল কথা। এ নিয়ে কোনো রকম উদাসীনতা কিংবা নির্বিকারত্ব কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, অব্যবস্থাসহ যত রকম নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত থাকুক না কেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে নির্মোহ অবস্থান থেকে।