সকল শিরোনাম

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! ‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের! প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েছেন ‘দ্য রক’ সবুজ খেলে শরীরে যা বদলে যাবে! ব্যাংকিং খাতে অর্থমন্ত্রীর ‘পাপ কর’! ভোটের দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ভ্যাটের বাজেট দিয়ে ফেলেছেন : ইশতিয়াক রেজা হেফাজত এখন ‘গলার কাটা’ আ.লীগের, ভেতরে-বাইরে সমালোচনা বাড়ছে! শূকরের মাংসে ভ্যাট তুলে দিলেন অর্থমন্ত্রী: মানুষকে বোকা বানালেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রহসন : ড. শামসুল


নারী, তোমার সঙ্গে আড়ি!

ঊপ-সম্পাদকীয়, ছবি স্লাইড, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৭ ফাল্গুন ১৪২৩ | Saturday, March 11, 2017

 

অরুণ কুমার ;

নারী, তোমার সঙ্গে আড়ি!

 ‘নহ মাতা, নহ কন্যা, নহ বধূ, সুন্দরী রূপসী—হে নন্দনবাসিনী উর্বশী’। এটা আমার কথা নয়, স্বয়ং রবি ঠাকুর গীতবিতানে নারী বিষয়ে এমনই তোফা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।


গোড়াতেই বলে রাখি, নারীকুলের ব্যাপারে আমার মনে ও মগজে ব্যাপক শ্রদ্ধা ও সমীহ সতত লালন-পালন করি। নারী মানে নরকযন্ত্রণা নয়, আমরা এই অবোলা পুরুষেরা জন্মক্ষণে নারীর নাড়িছেঁড়া ধন, যৌবনে প্রেমিক, সংসারে ভারবাহী গর্দভ আর বার্ধক্যে স্রেফ লাঠি বা সহচর। গ্রিক দার্শনিক মহামতি সক্রেটিসের স্ত্রীর নাম ছিল জ্যানথিপি। একটুখানি ক্লেশ স্বীকার করে অভিধানখানা খুলে দেখুন, জ্যানথিপি মানে হল ঝগড়াটে স্ত্রীলোক। এমনও কথিত আছে, স্ত্রীর অত্যাচারে বেচারা সক্রেটিস বাধ্য হয়ে রাস্তায় দু-একবার নিশিযাপন করেছিলেন। তার মানে আমি বলছি না, তাবত্ নারীকুল জ্যানথিপির মতোই যেমন ভয়ঙ্কর তেমনি মুখরা।


ফিশ-ওয়াইফ বলে একটি শব্দ আছে অভিধানে যার মানে ‘ওম্যান উইদ লাউড ভয়েস এন্ড ব্যাড ম্যানারস’। জ্বালামুখি। উঁহু, পোড়ামুখি বলিনি কিন্তু। যদিও জানি, পুড়লেই জ্বলে। তাছাড়া উচ্চৈস্বরে কথা বলা নিষিদ্ধ কিছু নয়। তবে কথা হলো এই—সুরে ও স্বরে পরিমিতি থাকলে তা শুনতে যেমন কর্ণকটু হয় না, তেমনি বুঝতেও সুবিধা অর্থাত্ মনোগ্রাহী মনে হয়।


আমার বন্ধুনীদের অনেকেই ইদানীং নিজের সুখ-সুবিধার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন। এমনভাবে বাক্যবাণ বর্ষণ করে যেন ‘যত দোষ নন্দ ঘোষ’ এই পুরুষের। পুরুষের কারণে তাদের চরিত্রের পুরুত্ব নষ্ট হচ্ছে, সৌন্দর্যে জৌলুশ আসছে না, এমন কি আমরা নাকি তাদের প্রিভেসির ঠোঙায় অকারণ ঠোকাঠুকি করছি। কথা বললে বাঁচাল-হ্যাংলামো, না বললে আত্মম্ভরী-মানে কার্টেসি জানি না। ঘরে থাকলে মেনিমুখো-ঘরকুণো, না থাকলে বাউণ্ডুলে-উড়নচণ্ডী। পুুরুষ এবার যায় কোথায় বলুন তো! এই শাঁখের করাতের করতলে পড়ে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। মনের দুঃখে অণুকাব্য এসে যায়—নারী ও নদী বহে নিরবধি / বধিবে তোমায় বাধা দাও যদি!


‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চিরকল্যাণকর / অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর!’ কাজী নজরুল ইসলামের আমিও একমত। তবে একটুখানি লেজুড় জুড়তে চাই—মহান সৃষ্টি শব্দটির সঙ্গে এর বিপরীতার্থক কিছু সেঁটে দেওয়া বাঞ্ছনীয়। কথায় আছে, নারীর শত্রু নারী। শতভাগ সত্যি। দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রায়শই শোনা যায়—পুরুষ বহুগামী। পুরুষের চরিত্র দোষ নাকি কাঁঠালের আঠার মতোই। এর কোনো ব্যত্যয় হয় না। আমি বলি কী, কথাটাকে একটু নেড়েচেড়ে দেখলে হয়। পুরুষ খুব খারাপ। সে বহুতে গমন করে, নারী দেখলেই তার কণ্ঠলগ্ন হয়ে বাহুতে আবদ্ধ হতে চায়! কিন্তু  কারো আশকারা না পেলে সে কীভাবে কী করে? মানে দাঁড়াল এই, নারী-পুরুষে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, ভালো হোক বা খারাপ—নারী উপস্থিতি চাইই চাই। নারীর সম্মতি ও প্রশ্রয় ব্যতিরেকে পুরুষ খারাপও হতে পারে না।


কথা হচ্ছিল নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে। কবি কাজী নজরুলের পঙিক্ত ধার করেই বলা যায়, নারীবিনা বিশ্বের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়, সংগতও নয়। নারীকে মাটির সঙ্গে তুলনা করা যায়। নারীতে অসম্ভব উর্বরা-শক্তি বিদ্যমান। নারী মানেই বসুধা, নারী মানেই উত্তরণ। যার জীবনে নারী আসেনি, সে সবক্ষেত্রে বড্ড ‘আনাড়ি’ মানে কাঁচা বা অসফল। ভাবছেন ভয় পেয়ে আমি নারীকে তেলাচ্ছি! কভি নেহি। যা সত্যি তাই বলছি। তাছাড়া তেল দেয় শুধু যারা লোভী ও অদক্ষ। এ-দুটোর কোনোটাই এই বান্দা নয়।


প্রবলেম হলো, নারী নিজেই চান না তাকে সর্বময় ক্ষমতা দেওয়া হোক। এমন উদাহরণ আকছার পাবেন যেখানে কিনা নারীনেত্রী সমঅধিকারের কথা বলে ময়দানে গলা ফাটালেন, কিন্তু গৃহে প্রবেশমাত্রই ভোল পালটে তিনি মিউমিউ হয়ে যান। ঘরে তার স্বামী-সন্তান আছে। ছেলেপুলে বাপের কাছে খাবার চায় না, চায় মায়ের কাছে। বাধ্য হয়ে তিনি কোমরে আঁচল পেঁচিয়ে কিচেনে গিয়ে ঢোকেন। আমি অবশ্য তাতে দোষের কিছু দেখি না। নারী মায়ের জাত। ছেলেপুলে দেখেশুনে রাখবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু গোল বাঁধে নারী যখন ডুয়ালিজমের ফাঁদে পা দেন। হেঁসেল বলে আদতে কোনো শব্দ নেই। ওটা বিশ্বসংসার। দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু উদার করলেই হয়। কাজ করতে গেলে খেতে হয়। আর খাবার তৈরি হয় হেঁসেলে।


নারীর বাড়ি ও বাড়াবাড়ি নিয়ে একটা কাল্পনিক যুদ্ধ অবশ্য চালু আছে। বউ-শাশুড়ি মিলে একে আরো খানিকটা উসকে দেন। ঘরে ‘ছেলের বউ’ এল তো শাশুড়ির ক্ষমতা গেল। আবার ছেলে যদি মায়ের কথা শুনে চলে, তাহলে নবপরিণীতা মনে করে মা-নেওটা ছেলে বউয়ের কথার কোনো দাম দিল না। মানে তার ক্ষমতা নেই। আচ্ছা ভায়া আপনারাই বলুন, জোর করে কি ক্ষমতায়িত হওয়া যায়! রবি ঠাকুর কি বলে যাননি, গায়ের জোরে গুরুগিরি হয় না! সত্যি তাই। নারী বাড়ি চান, ক্ষমতা চান, অধিকার চান। আমরা পুরুষরা সব দেব, আজীবন ভার বহন করব, বিনিময়ে শুধু একটু নির্ভেজাল ভালোবাসা চাই। নিঃশর্ত, শাড়ি-গাড়ি-চুড়ির দাবিহীন ভালোবাসা। স্বামী বিবেকানন্দ যথার্থ বলেছেন, ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়। তাই আসুন, নারীর সঙ্গে অহেতুক আড়ি নয়, ভালোবাসার কমপিটিশনে নামি।


n লেখক : কথাসাহিত্যিক ও রম্যলেখক