সকল শিরোনাম

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত রোগে ৯ জনের মৃত্যু সরকার দেশের পরিবেশ ও মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: রিজভী সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহে বিশ্বাস করে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীর বিশ্ব অবাক করা আবিষ্কার ‌‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চলছে’ দেশে আল্লাহর গজব পড়েছে: এরশাদ দুই নগরে নৌকা চাই… বাহ! ভালইতো… ঢাকায় প্রতি ১১ জনের একজন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত ‘গাড়ির চাপ দেখলেই মন্ত্রী-এমপিদের ধৈর্য মানে না’ বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে থাইল্যান্ড ‘মুসলিমরা ডোনাট খায় না’ গুজবের নেপথ্যে পশ্চিমকে বাঁচান, আহ্বান ট্রাম্পের যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! ‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের! প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েছেন ‘দ্য রক’ সবুজ খেলে শরীরে যা বদলে যাবে! ব্যাংকিং খাতে অর্থমন্ত্রীর ‘পাপ কর’! ভোটের দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ভ্যাটের বাজেট দিয়ে ফেলেছেন : ইশতিয়াক রেজা হেফাজত এখন ‘গলার কাটা’ আ.লীগের, ভেতরে-বাইরে সমালোচনা বাড়ছে! শূকরের মাংসে ভ্যাট তুলে দিলেন অর্থমন্ত্রী: মানুষকে বোকা বানালেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রহসন : ড. শামসুল


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

‘গ্যাসের দাম অত্যন্ত কম ছিল, তাই বাড়ানো হয়েছে’ এলএনজিতে শুল্ক থাকছে না গত অর্থবছরের চেয়ে ৪.৫ ভাগ রপ্তানি কমলেও আয় বৃদ্ধি গার্মেন্টসে অসন্তোষ কেন? রিজার্ভ চুরি: সন্দেহে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টেকনিশিয়ানরা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত : অর্থমন্ত্রী বন্ধের পথে পাটকল! শ্রমিক ঝুঁকছে গার্মেন্টস শিল্পে শেয়ারবাজারে লেনদেনের উত্থান তৈরি পোশাক খাতে ৫ বছরে নতুন কর্মসংস্থান নেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে : শুভঙ্কর সাহা মূল্যস্ফীতির ইতিবাচক বার্তা দিয়ে শুরু চলতি অর্থবছর অ্যাকর্ডের স্বীকৃতি পেল চরকা টেক্সটাইল কৃষি ঋণের ৮৪২ কোটি টাকা কেটে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার দাম বাড়ল ভোজ্যতেলের অনিয়মে সোনালী ব্যাংকের ক্ষতি ৬৫৬ কোটি

এলএনজিতে শুল্ক থাকছে না

অর্থনীতি, ছবি স্লাইড, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩ | Friday, March 10, 2017

মনজুর-এ আজিজ |

 

গ্যাসের একক নির্ভরতা কমানো এবং জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম পরিমাণ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কিন্তু প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় এলএনজির দাম তিন গুণেরও বেশি পড়ায় আমদানিক্ষেত্রে শুল্ক মওকুফের পরিকল্পনা করছে সরকার। জানা গেছে, বর্তমানে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের বিক্রয় মূল্য পড়ে ২ ডলার ১৭ সেন্ট। অন্যদিকে শুধু আমদানি বাবদই প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজির দাম পড়বে ৮ মার্কিন ডলার। এর সঙ্গে যোগ হবে গ্যাসে রূপান্তরের খরচ ০ দশমিক ৫ মার্কিন ডলার।

 

এছাড়া এর সঙ্গে আরও যোগ হবে এলএনজি আমদানি শুল্ক, অগ্রিম আয়কর, টার্মিনাল চার্জ, সঞ্চালন চার্জ, বিতরণ চার্জ এবং সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাটসহ নানা ধরনের চার্জ। এসব মিলে প্রতি হাজার এলএনজির বিক্রয়মূল্য গিয়ে দাঁড়াবে ২৩ ডলার ১১ সেন্টে। তবে এক্ষেত্রে এসডি/ভ্যাট মওকুফ করা হলে এলএনজির দাম নেমে আসবে ১০ ডলার ৪০ সেন্টে। এ দাম দেশি গ্যাসের চেয়ে ৮ ডলার ২৩ সেন্ট বেশি হলেও তুলনামূলকভাবে কমে আসবে এলএনজির দাম।

ফলে গ্রাহকের নাগালের মধ্যেই থাকবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। আর গ্রাহকদের বাড়তি চাপের বোঝা কমাতেই শুল্ক মওকুফের পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্প্রতি বিদ্যুৎ ভবনে এলএনজি আমদানি পরবর্তী গ্যাসের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে একটি বৈঠকও করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। বৈঠকে এলএনজি আমদানিতে শুল্ক মওকুফের বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম।

বৈঠক সূত্র জানায়, দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ গ্যাস ফুরিয়ে আসায় বিকল্প হিসেবে জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় বেশকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রি-গ্যাসিফিকেশন টার্মিনাল স্থাপনের প্রক্রিয়া শেষপর্যায়ে নিয়ে এসেছে সরকার। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ২০১৮ সালের জুনেই দৈনিক অন্তত ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে দেশের শিল্প-কারখানায় গ্যাসসংকট মোকাবিলায় বিশেষ সহায়তা হবে। তবে প্রতি হাজার ঘনফুট এলএনজির আমদানি ব্যয় ৮ ডলার। এ হিসেবে প্রতি চালানে ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার এলএনজি আমদানি করতে ২৪ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।

এছাড়া পেট্রোবাংলাকে ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক ও ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট দিতে হয়। অন্যদিকে এলএনজি আমদানিতে বাড়তি কাস্টমস শুল্ক দিতে হবে। ফলে এলএনজি আমদানি খরচ আরও বেড়ে যাবে। এতে দেশি গ্যাসের চেয়ে প্রায় ৩ গুণ বেশি পড়বে। এ অবস্থায় মূল্য নির্ধারণে সরকারের গঠিত কমিটি এলএনজির সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট মওকুফ করে আমদানি করার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস শুল্ক পুনর্নির্ধারণ করার কথাও আলোচনা হয় বৈঠকে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী বছরের মধ্যে কক্সবাজারের মহেশখালী ও পটুয়াখালীর পায়রাবন্দর এলাকায় অন্তত ৩টি অনশোরে (স্থলভাগ) ও অফশোর (সমুদ্রে ভাসমান) এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদেরও এক্ষেত্রে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বহু প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, লরি ও পিকআপ এলপিজিতে চলছে।

এতে যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ বা অগ্নিসংযোগের মতো দুর্ঘটনা ঘটছে। এ অবস্থা থেকে গাড়িতে ঝুঁকিমুক্তভাবে এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্যে অটোগ্যাস স্টেশন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর এটি ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে সরকার। সরকারের এ উদ্যোগে এর আগে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন ভাসমান এ টার্মিনাল স্থাপনে পেট্রোবাংলা ও ‘এক্সিলেরেট এনার্জি বাংলাদেশ লিমিটেড’-এর মধ্যে চুক্তি সম্পাদিত হয়।

পরে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে। এতে দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে বছরে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১৫৬ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে কর, ভ্যাট, বিমা ও অগ্রিম আয়কর ছাড়া পেট্রোবাংলাকে বছরে পরিশোধ করতে হবে ৯ কোটি ডলার। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি রয়েছে। এছাড়া এলএনজি আমদানির জন্য পটুয়াখালীর পায়রাবন্দরে প্রয়োজনীয় ভাসমান টার্মিনাল ও পুনঃগ্যাসে রূপান্তরকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) ব্যবহারে সিঙ্গাপুরভিত্তিক যৌথ কোম্পানি অ্যাস্ট্রা অয়েল অ্যান্ড এক্সিলারেট এনার্জি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলা জানায়, গ্যাসের চাহিদা মেটাতে বিকল্প হিসেবে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম পরিমাণ এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য মহেশখালীতে একটি এলএনজি টার্মিনাল ও রি-গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। কাতারের রাসগ্যাসের কাছ থেকে আনা হবে এলএনজি। এ গ্যাস সাগর থেকে স্থলভাগে আনতে এরইমধ্যে মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চি ব্যাসের ৯১ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। টার্মিনালের ধারণ ক্ষমতা হবে ১ লাখ ৩৮ হাজার ঘনমিটার। যা দিয়ে প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম বলেন, এলএনজি আমদানির জন্য ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ ও পাইপলাইনের কাজ শেষপর্যায়ে। এলএনজি আমদানির জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আমাদের চুক্তিও সম্পাদিত আছে। তবে টার্মিনাল ও পাইপ লাইনের জন্য আর কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমরা আশা করছি সব ঠিক থাকলে আগামী বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের জুনের মধ্যেই অন্তত দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা সম্ভব হবে।

এ গ্যাস শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হবে। তাছাড়া গভীর ও অগভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এখানেও প্রচুর তেল ও গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলএনজি আমদানিতে খরচ বেশি পড়ায় শুল্ক মওকুফের পরিকল্পনা করছে সরকার নির্ধারিত কমিটি। তবে শিল্প গ্রাহকদের সুবিধার্থে কিভাবে শুল্ক মওকুফ করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা করছে সরকার।