সকল শিরোনাম

যানজট : গতি নেই; আছে দুর্গতি! ‘ঈদ চাঁদাবাজি’ বন্ধ হউক চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? ক্ষমতাওয়ালাদের পাহাড় : আর লাশগুলো আমাদের! প্রিয়াঙ্কার প্রেমে পড়েছেন ‘দ্য রক’ সবুজ খেলে শরীরে যা বদলে যাবে! ব্যাংকিং খাতে অর্থমন্ত্রীর ‘পাপ কর’! ভোটের দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী ভ্যাটের বাজেট দিয়ে ফেলেছেন : ইশতিয়াক রেজা হেফাজত এখন ‘গলার কাটা’ আ.লীগের, ভেতরে-বাইরে সমালোচনা বাড়ছে! শূকরের মাংসে ভ্যাট তুলে দিলেন অর্থমন্ত্রী: মানুষকে বোকা বানালেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রহসন : ড. শামসুল লংগদুর ঘটনায় ৪০০ জনকে আসামি করে মামলা বাজেট : সরকার বস্ত্রশিল্পের জন্য ভাবুক ধর্ষকদের সাথে ওদের শাস্তিও যেন হয়? রাজধানীর তৃণমূল গোছাচ্ছে আ.লীগ প্রকল্পে প্রকল্পে সংঘর্ষ! বশ্বকবির ১৫৬ তম জন্মবার্ষিকী আজ ব্যাংকে জমে থাকা ৬১৪ কোটি টাকার লভ্যাংশ উধাও কিভাবে রাজনৈতিক নবজাতক থেকে ফ্রান্সের সর্বকনিষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হলেন ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের নতুন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বেওয়ারিশ পরিচয়ে জঙ্গি মারজান ও সাদ্দামের দাফন বজ্রপাতে প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে আজমপুর ফুটওভার ব্রিজে শ্রমিকদের ভিড় বনশ্রীতে ভাঙা সড়কে জলাবদ্ধতা : দুর্ভোগ মৌসুমি ফলে ভয়াবহ ফরমালিন


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

‘গ্যাসের দাম অত্যন্ত কম ছিল, তাই বাড়ানো হয়েছে’ এলএনজিতে শুল্ক থাকছে না গত অর্থবছরের চেয়ে ৪.৫ ভাগ রপ্তানি কমলেও আয় বৃদ্ধি গার্মেন্টসে অসন্তোষ কেন? রিজার্ভ চুরি: সন্দেহে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টেকনিশিয়ানরা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত : অর্থমন্ত্রী বন্ধের পথে পাটকল! শ্রমিক ঝুঁকছে গার্মেন্টস শিল্পে শেয়ারবাজারে লেনদেনের উত্থান তৈরি পোশাক খাতে ৫ বছরে নতুন কর্মসংস্থান নেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে : শুভঙ্কর সাহা মূল্যস্ফীতির ইতিবাচক বার্তা দিয়ে শুরু চলতি অর্থবছর অ্যাকর্ডের স্বীকৃতি পেল চরকা টেক্সটাইল কৃষি ঋণের ৮৪২ কোটি টাকা কেটে নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার দাম বাড়ল ভোজ্যতেলের অনিয়মে সোনালী ব্যাংকের ক্ষতি ৬৫৬ কোটি

গার্মেন্টসে অসন্তোষ কেন?

অর্থনীতি, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ২৬ পৌষ ১৪২৩ | Monday, January 9, 2017

গার্মেন্টসে অসন্তোষ কেন

মীর আব্দুল আলীম : বাংলাদেশে মোট রফতানি আয়ের ৮১ ভাগের বেশি আসে পোশাক খাত থেকে। সেই সুবাদে দ্বিতীয় প্রধান রফতানিকারক দেশের মর্যাদা বাংলাদেশের। পোশাক রফতানিতে বিশ্বে চীনের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই কোটি মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। গুরুত্বপূর্ণ এ অবদান সত্ত্বেও পোশাক শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এই খাতের ওপর বার বার আঘাত এসেছে। তাজরীন গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ড ও রানা প্লাজা ধসের পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় পোশাক শিল্প। এরপর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর নাজুক অবস্থায় পড়ে পোশাক খাত। এসব ধকল কাটিয়ে পোশাক শিল্প যখন ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে ঠিক তখনই শুরু হয়েছে আশুলিয়ার আকস্মিক শ্রমিক অসন্তোষ। এ শ্রমিক অসন্তোষকে শ্রম মন্ত্রণালয় ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের বক্তব্য এমন—পোশাক খাতের অগ্রযাত্রা নস্যাত্ করতে কতিপয় অসাধু শ্রমিক নেতা কোনো ইন্ধনে ষড়যন্ত্র করছেন। আমরা একটি বিষয় বেশ লক্ষ করেছি এবারের এ আন্দোলনের শুরুতে একটি চমক ছিল। আন্দোলনের আগে আশুলিয়া এলাকার গার্মেন্টসে একটি লিফলেট বিলি করা হয়েছে। নিম্নতম মজুরি বর্তমানের চেয়ে তিনগুণ দাবি করে লিফলেটটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বেনামে ছড়িয়ে দেওয়া ওই লিফলেটের জের ধরে এরপর থেকেই একটি-দুটি করে কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি শুরু করে। কিছু শ্রমিককে নিয়ে ওই এলাকায় একটি সমাবেশও করা হয়। কে বা কারা ওই লিফলেটটি শ্রমিকদের মাঝে বিলি করেছে তা জানা যায়নি। চমকটি এখানেই, ‘বেনামে লিফলেট বিলি’। এর হেতু কি? মালিকপক্ষ থেকে বলা হয়, যারা আন্দোলনে জড়িত হয়েছেন তাদের বেতনভাতা যথারীতি দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলোতে উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো সমস্যাও ছিল না। এমন শান্ত পরিস্থিতিতে বেনামি লিফলেটের ওপর ভরসা করে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়। এতে কারখানার উত্পাদন বন্ধ করায় বিপাকে পড়েছেন এসব কারখানার মালিকপক্ষ। অনেক মালিকই যথাসময়ে তাদের বিদেশি বায়ারের কাছে পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হবেন। ফলে অর্ডার বাতিল হতে পারে। আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়বেন তারা।


আমেরিকার জিএসপি স্থগিতের পর ইউরোপের বাজার ধরে রাখা যখন চ্যালেঞ্জের মুখে তখন হঠাত্ শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনে নামানো হয়। এ কথা অকপটে বলতেই হয়, আমাদের গার্মেন্টস শিল্প আজ ষড়যন্ত্রের শিকার। বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতা এবং ষড়যন্ত্রের পরও যে আমাদের গার্মেন্টস শিল্প টিকে আছে এটি সবারই সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুফল। গার্মেন্টস শিল্পে আজ সংঘাত-সংঘর্ষ বাধিয়ে, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে, বিদেশে বদনাম রটিয়ে এবং বাজার নষ্ট ও ধ্বংস করতে তত্পর একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এদের ষড়যন্ত্র থেকে আমাদের সাবধান হতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁত ভেঙে দিতে হবে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সাবধান হতে হবে। দেশের স্বার্থে, আমাদের সবার স্বার্থেই গার্মেন্টস শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। শ্রমিকদের বুঝতে হবে, এ শিল্প ধ্বংস হলে তারাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সংশ্লিষ্ট সবাইকে হতে হবে মানবিক ও দায়িত্বশীল তাহলে ফিরে আসবে স্বস্তি, নিশ্চিত হবে অধিকার।


এ কথা স্বীকার করতেই হবে এখনো শ্রমিকের প্রকৃত মজুরি, নিরাপত্তা, পৃথক গার্মেন্টস ভিলেজ এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়নি। এযাবত্ কেবল ক্রেতাদের চাহিদা মাফিক পোশাক তৈরি করেছে আমাদের গার্মেন্টস শিল্পগুলো। কখনোই স্বল্পমেয়াদি লাভের জন্য দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ গুরুত্ব পায়নি। উপেক্ষিত হয়েছে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, দক্ষতা ও গবেষণা। আমরা শুধুই অনুসরণ করে চলছি। এ নিয়ে গবেষণা জরুরি। মুনাফা হচ্ছে আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছি এটাই মুখ্য হওয়া উচিত নয়। তাতে হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। যা হচ্ছে এখন। ফলে আজো গার্মেন্টস শিল্প কেবল টিকে থাকার চেষ্টাই করছে। একটি সেক্টরের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটে তখনই যখন সে বিষয়টির একটি ‘ভিশন’ সামনে রেখে এগোয়। এ ‘ভিশন’ হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়নের ‘ভিশন’কে সামনে রেখে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ নিরূপণ করা এবং সে অনুযায়ী অগ্রসর হওয়া এখন খুব বেশি জরুরি। এজন্য সর্বক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি, উত্পাদনশীলতা, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি, পর্যাপ্ত গবেষণা, শ্রমিক মালিকের সম্পর্ক উন্নয়ন কেবল এ শিল্প খাতের উন্নয়নের জন্যই নয়; বরং গোটা অর্থনীতির স্বার্থেই জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশে পরিণত করার যে স্বপ্ন দেখি, সেটি বাস্তবায়নের জন্য গার্মেন্টস শিল্পের যথাযথ পরিচর্যা করার বিকল্প নেই। গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকার ও বিরোধীদলের সম্মিলিত প্রয়াসে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদি ভিশন ও পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তাই এ শিল্পের কোনো নেতিবাচক সংবাদ আমাদের সমগ্র দেশেরই ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। রাজধানীর উপকণ্ঠের আশুলিয়ায় সম্প্রতি যে ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে তা আমাদের এ শিল্পের উন্নয়নে অন্তরায় বটে। এটি স্পষ্টত এ শিল্পের বিরুদ্ধে  ষড়যন্ত্র ব্যতীত আর কিছু নয়। আমাদের এ জাতীয় ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। সরকার, প্রশাসন, সর্বোপরি দেশের জনগণকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।


n লেখক :সাংবাদিক


e-mail-newsstore13@gmail.com