সকল শিরোনাম

বইমেলায় পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে ডা. বদরুল আলমের অদম্য রম্য রচনার বই ‘ এক্স ফাইলস’ উপ-সম্পাদকীয় ইসলামের দৃষ্টিতে ভালবাসা অর্থনীতিতে এগুচ্ছে দেশ; সভ্যতায় কেন পিছিয়ে? নাসর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পাকিস্তানের শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি শুধু জিপিও-৫ নয়, সুনাগরিক হওয়াও জরুরি : শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে এবার বাড়ল ডালের দাম ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পাঁচ দশক ৩ জেলায় ২ কিশোরী ও ১ শিশু ধর্ষণের শিকার মিলল সেন আমলের রাজবাড়ি বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী যৌবন ধরে রাখবে যেসব খাবার কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল ফেসবুককে বিদায়ের কারণ জানালেন ন্যান্সি বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা হাঁস মুরগি মাছে বিষাক্ত পদার্থ সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল ৫ কোম্পানির পানি পানের উপযোগী নয়: বিএসটিআই বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ছিল প্রজাতন্ত্রের দৃঢ় ভিত্তি ভয়ের সংস্কৃতিতে আড়ষ্ট সমাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে দেশবাসীর ৩টি চাওয়া দুর্নীতির একি রীতি? নিবার্চন উপলক্ষ্যে র‌্যাবের নিরাপত্তা বলয়ে রূপগঞ্জ ঢাকা-৫ আসন : ডেমরায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা সভা


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে এবার বাড়ল ডালের দাম ৪ ডিসেম্বর রিজার্ভ চুরির মামলার প্রতিবেদন ৪৫ বছরে ২১ বার লোগো পরিবর্তন রূপালী ব্যাংকের রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ‘গ্যাসের দাম অত্যন্ত কম ছিল, তাই বাড়ানো হয়েছে’ এলএনজিতে শুল্ক থাকছে না গত অর্থবছরের চেয়ে ৪.৫ ভাগ রপ্তানি কমলেও আয় বৃদ্ধি গার্মেন্টসে অসন্তোষ কেন? রিজার্ভ চুরি: সন্দেহে বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টেকনিশিয়ানরা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত : অর্থমন্ত্রী বন্ধের পথে পাটকল! শ্রমিক ঝুঁকছে গার্মেন্টস শিল্পে শেয়ারবাজারে লেনদেনের উত্থান তৈরি পোশাক খাতে ৫ বছরে নতুন কর্মসংস্থান নেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন ৭০০ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে : শুভঙ্কর সাহা

বন্ধের পথে পাটকল! শ্রমিক ঝুঁকছে গার্মেন্টস শিল্পে

অর্থনীতি, এক্সক্লুসিভ, ছবি স্লাইড, সকল শিরোনাম | ৩ আশ্বিন ১৪২৩ | Sunday, September 18, 2016

রূপগঞ্জের জুট মিলের একাল সেকাল
---মাহবুব আলম প্রিয়,  রূপগঞ্জ: ভোর ৫টা হতেই কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হতো শ্রমিকের। আর প্রস্তুতির হুড়োহুড়িতে ঘুম ভাঙত আশপাশের মানুষের। এক সময়ের ব্যস্ত শ্রমবাজার রূপগঞ্জের শীতলক্ষ্যা পাড়ের  পাটকলগুলো ক্রমেই স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিরাজ করছে সইতে না পাড়া কষ্টের  নিরবতা । এখন আর ব্যস্ততা নেই পাট ও পাটজাত দ্রব্য নিয়ে। বৃটিশ সময় থেকে শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মোহনায় আবহমান ডেমড়া লতিফ বাউয়ানি জুট মিলের পর থেকেই রূপগঞ্জের সীমানা শুরু। প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত এই নারায়ণগঞ্জের চাঙ্গা শ্রমবাজার বলতে কেবল রূপগঞ্জের কারখানাগুলোই প্রাধান্য পেত। আর এখানকার পাটকলগুলোর পাট দিয়ে তৈরী থলে, চটি, কার্পেট, পাটের শাড়ি, পাটের গামছা,পাটের লুঙ্গি ইত্যাদি এক সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। এসব  মিলের কাঁচামাল জোগান দিতে স্থানীয়রা নদীর পাড় এমনকি টেক- টিলায়ও পাটের চাষ করতো। পাটের উপযুক্ত মূল্য পেয়ে এবং অনেকে পাইকারী ব্যবসা করে কোটিপতি হয়েছেন। শ্রমের বাজারের চাহিদা পরিপূর্ণ থাকায় এক সময় এই এলাকার জনসাধারনের সচ্ছলতায় শিক্ষা, স্থানীয় উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক অবকাঠামোসহ ব্যপক হারে সাফল্য অর্জন করেছিল । ফুল টাইম, পার্ট টাইম, ডে- নাইট কাজের দরুন বেকারত্বের অভিশাপমুক্ত ছিল স্থানীয় জনসাধারন। এসব মিলের মধ্যে অন্যতম ছিল মুড়াপাড়ার ফকির জুট মিল,ছাত্তার, উত্তরা,আশকারী, মাশরিকি ইত্যাদি ।  এসব জুট মিলের প্রায় প্রতিটিতে গড়ে ৬ হাজার শ্রমিক কাজ করতো। যাদের বেতন ছিল তৎকালীন বাজার চাহিদার প্রায় দিগুন। বাংলাদেশের এক সময়কার সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের সম্বৃদ্ধি থাকার সুবাধেই জমে ওঠেছিল এই পাটজাত মিলগুলো। কালের আবর্তে আর সরকারের অব্যবস্থাপনায় শত শত বিঘার উপর তৎকালীন শ্রমিকদের প্রিয় আশ্রয়স্থল পাটকলগুলোতে আজ হারাতে শুরু করেছে তাদের গৌরবময় ঐতিহ্য।  এসব কারখানা ও  শ্রমিকদের সুবিধায় গড়ে ওঠা আশপাশের তৎকালীন হাট-বাজারগুলোও কালের স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছেন বীরদর্পে বিচরণকারী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। তারা ব্যবসা গুটিয়ে এখন ভিন্ন জীবিকায় ব্যস্ত । তবে সুখে নেই আগের মতো। ভেতরে শুধু চাপাকান্না আর হতাশা। এমনটিই বলেছেন এককালের স্বনামধণ্য পাট ব্যবসায়ী সাজ্জাদ আলম ওরফে সাজ্জু মাদবর। ক্ষিপ্ত কন্ঠেই তিনি বলেছিলেন, এদেশে সোনালী আঁশের এমন করুণ অবস্থা কিছুতেই মেনে নেয়া যায়না। সংশ্লিষ্টদের চরম খামখেয়ালী আর অব্যবস্থাপনার কারণেই এ পরিস্থিতি বলে তার মন্তব্য।

জানা যায়, কারখানায় আসা শ্রমিক ও সাধারণের যাতায়াত সুবিধার লক্ষ্যে নদীর পশ্চিম পাড়ের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় ডিঙ্গি-গুদারা বেয়ে ও জীবিকা নির্বাহ করতেন শতাধিক মাঝি । পাটকল কেন্দ্রিক এসব হাট বাজারের অন্যতম ছিল কালের সাক্ষি কাঞ্চণের  কেন্দুয়ার হাট। সময়ের জমজমাট ব্যস্ত এ হাটটি বর্তমানে নিরব-কোলাহলমুক্ত আর ফাঁকা অবস্থায় পড়ে থাকে। স্থানীয় মাতব্বর সাইফুল ইসলাম জানায়, নবাব আশকারী ও উত্তরা জুট মিলকে ঘিরে কেন্দুয়ার হাট ছিল হাজারো শ্রমিকের আড্ডা ও বাজার সওদার অন্যতম স্থল। মিল দু’টির এখন আর সে চাঙ্গাভাব নেই। দু ’একজন শ্রকিকও এখানে অার আসেনা। এতে অবস্থিত দোকানপাটসহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে পাটকলগুলোতে আগের তুলনায় যথাযোগ্য শ্রমিক মজুরী প্রদান না করায় অধিকাংশ শ্রমিক বর্তমানে ক্ষোভে ও মনকষ্টে চলে যাচ্ছে গার্মেন্টনস শিল্পে।  সম্প্রতি উত্তরা জুট মিলের একাংশে সূতা ও সূতাজাত কাপর তৈরী হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাবুল নামের এক প্রবীন শ্রমিক। অন্যদিকে নবাব আশকারী মিলের একাংশেরও একই চিত্র।  প্রতিদিন টনকে টন পাট ও অন্যান্য কাঁচামালবাহী জাহাজের মাল খালাসের জন্য এখানে বহিরাগত শ্রমিক ও মজুরভিত্তিক শ্রমিকদের অবস্থা ছিল পোয়াবারো। সেখানে আজ অধিকাংশ শ্রমিক বেকার দিন কাটাচ্ছেন।  তবে স্বস্থ্যি কেবল হাউজিং প্রকল্পাধীন জমির দালালদের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে এ পাটকলগুলোর শ্রমিক ও ঐতিহ্যবাহী সোনালী আঁশের সুনাম ধরে রাখতে যথাযোগ্য ভূমিকা রাখার  আবেদন জানায় এলাকাবাসী। কারণ এসব পাটকলগুলো এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির একটি বিরাট অংশ।