সকল শিরোনাম

বইমেলায় পাঠক প্রিয়তা পেয়েছে ডা. বদরুল আলমের অদম্য রম্য রচনার বই ‘ এক্স ফাইলস’ উপ-সম্পাদকীয় ইসলামের দৃষ্টিতে ভালবাসা অর্থনীতিতে এগুচ্ছে দেশ; সভ্যতায় কেন পিছিয়ে? নাসর ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা পাকিস্তানের শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি শুধু জিপিও-৫ নয়, সুনাগরিক হওয়াও জরুরি : শিক্ষামন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ভালো হচ্ছে এবার বাড়ল ডালের দাম ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পাঁচ দশক ৩ জেলায় ২ কিশোরী ও ১ শিশু ধর্ষণের শিকার মিলল সেন আমলের রাজবাড়ি বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে : প্রধানমন্ত্রী যৌবন ধরে রাখবে যেসব খাবার কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না বিএনপি: মির্জা ফখরুল ফেসবুককে বিদায়ের কারণ জানালেন ন্যান্সি বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদদের তালিকায় শেখ হাসিনা হাঁস মুরগি মাছে বিষাক্ত পদার্থ সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী কোটা বহাল ৫ কোম্পানির পানি পানের উপযোগী নয়: বিএসটিআই বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ছিল প্রজাতন্ত্রের দৃঢ় ভিত্তি ভয়ের সংস্কৃতিতে আড়ষ্ট সমাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে দেশবাসীর ৩টি চাওয়া দুর্নীতির একি রীতি? নিবার্চন উপলক্ষ্যে র‌্যাবের নিরাপত্তা বলয়ে রূপগঞ্জ ঢাকা-৫ আসন : ডেমরায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা সভা


এ পাতার অন্যান্য সংবাদ

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের পাঁচ দশক কবিরাজি হালুয়া খেয়ে মৃত্যু! বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ছিল প্রজাতন্ত্রের দৃঢ় ভিত্তি ভয়ের সংস্কৃতিতে আড়ষ্ট সমাজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কাছে দেশবাসীর ৩টি চাওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনে দেশ কি সক্ষম? ২৯ সেপ্টেম্বর কি হবে? পুরুষত্বের পাঠ্যবই : ছাগলের রাজত্ব, ওড়নার শ্রেষ্ঠত্ব ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতা নয় বিএনপি-জামায়াত, আওয়ামী-হেফাজত? পরিবহন খাত নৈরাজ্যমুক্ত করুন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অবহেলার মুখে অর্থনীতি অবহেলিত অর্থনীতিবিদ নারী, তোমার সঙ্গে আড়ি! সঙ্কটের মুখেও গ্যাস রফতানির সিদ্ধান্ত কেন

হাতি মরলেও লাখ টাকা

ঊপ-সম্পাদকীয়, সকল শিরোনাম, সর্বশেষ সংবাদ | ১৩ ভাদ্র ১৪২৩ | Sunday, August 28, 2016

1377123306

প্রভাষ আমিন : আসামের বনে-বাদাড়ে দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতো হাতিটি। সেখান থেকে বানের জলে ভেসে ভিসা-পাসপোর্ট ছাড়াই চলে এলো বাংলাদেশে। বাংলাদেশের কেউ সীমান্তের কাছে উঁকি দিলেই বিএসএফ পাখির মত গুলি করে মারে, ফেলানিদের লাশ ঝুলিয়ে রাখে কাঁটাতারে। বিএসএফ সৈন্যদের শ্যুটিং প্র্যাকটিস হয় বাংলাদেশের সীমান্তে। সেখানে ভারত থেকে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে এত বড় একটা হাতি চলে এলো কিভাবে?

বিজিবির ব্যর্থতার চিরন্তন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এই হাতির অবৈধ অনুপ্রবেশ। সীমান্তে নিরাপত্তার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হয়, একটা পাখিও যেতে পারবে না। আর সেই সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপত্তার ‘জিরো টলারেন্স’ থিওরিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে হাতির মত একটা বড় প্রাণী চলে এল। হতে পারে হাতি স্থলের সবচেয়ে বড় প্রাণী। কিন্তু এটি এসেছে ভেসে ভেসে, তাই ঠিক বৃহত্তম বলা যাবে না।

বড় হোক আর ছোট হোক, এই অনুপ্রবেশকারী হাতি বাংলাদেশে এসে রীতিমত লঙ্কাকান্ড বাঁধিয়ে দিয়েছিল। ২৮ জুন বাংলাদেশে প্রবেশ করে, ১৬ আগস্ট মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত হাতিটি বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি মাইল পরিভ্রমণ করেছে। এই সময়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট করেছে। আহত হয়েছেন অনেকে।

হাতি নিয়ে গণমাধ্যম আর সামাজিক মাধ্যম ছিল মুখোমুখি অবস্থানে। গণমাধ্যম হাতি নিয়ে অনেক আদিখ্যেতা দেখিয়েছে। প্রায় নিয়মিত হাতির অবস্থান নিয়ে আপডেট ছিল। অনেক টিভি চ্যানেল চরে ডিএসএনজি নিয়ে লাইভ সম্প্রচার করেছে। আর সামাজিক মাধ্যম তুলোধুনো করেছে গণমাধ্যমকে। কেন একটা হাতি নিয়ে এত বাড়াবাড়ি, এ নিয়েই ছিল অনেকের আপত্তি।

কখনো কখনো বন্যার চেয়েও হাতি বেশি কাভারেজ পেয়েছে বলেও অসন্তুষ্ট ছিলেন অনেকে। অনেকে মানুষ বড় না হাতি বড়, এমন বিপদজনক প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের আপত্তির মূল পয়েন্ট ছিল, হাতিটি ভারত থেকে আসা বলে। যেন হাতিটি ভারত থেকে না এসে কম্বোডিয়া থেকে এলেই আর সমস্যা ছিল না। আসার সাথে সাথে কেন হাতিটিকে গুলি করে মেরে ফেলা হলো না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন কেউ কেউ।

প্রশ্নগুলো শুনতে শুনতে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেছি। মানুষ বড় না হাতি বড়? হাতিটিকে কেন গুলি করে মেরে ফেলা হলো না? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আদৌ আছে কি? আমি খালি খালি প্রশ্ন কর্তাদের জন্য হৃদয়ে গভীর করুণা বোধ করি।

একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে হাতি নিয়ে গণমাধ্যমের কাভারেজ আমার কাছে মোটেই বাড়াবাড়ি মনে হয়নি। এক হাজার মাইল পরিভ্রমণকালে হাতিটি সব এলাকায় তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সব এলাকার মানুষের মধ্যেই দারুণ কৌতুহল ছিল হাতি নিয়ে। শুধু যে এলাকায় গেছে, সে এলাকায় নয়; হাতি নিয়ে কৌতুহল ছিল সারা দেশেই। আর যে বিষয় নিয়ে গণমানুষের কৌতুহল থাকবে, আগ্রহ থাকবে; গণমাধ্যম তাই কাভার করবে।

তবে গণমাধ্যমের দায়িত্ব আবার অত সরল নয়। জনগণ চাইলেও রাষ্ট্রবিরোধী, রুচিবিরোধী, কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হয় এমন কিছু কাভার করবে না গণমাধ্যম। তবে হাতির বিষয়টি ভিন্ন। ভিন দেশ থেকে আসা একটি বুনো হাতি স্বাধীন মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, এমন অসাধারন দৃশ্য অবশ্যই গণমাধ্যম কাভার করবে। শরীর পারমিট করলে আমি অবশ্যই এই বিরল দৃশ্য দেখতে যেতাম।

কর্তৃপক্ষের চরম অদক্ষতা আর সাধারন মানুষের অসাধারন মমতার উদাহরণ সৃষ্টি করে বাংলাদেশে আসার ৫০ দিন পর হাতিটি মারা গেছে। মৃত্যুর আগে তার প্রাপ্তি একটি নাম ‘বঙ্গ বাহাদুর’। নাম নিয়েও অনেকের আপত্তি দেখেছি। আমার নেই। এমন একটি বিরল অতিথির একটি নাম থাকতেই পারে। হাতি কাদায় পড়লে নাকি চামচিকায়ও লাথি মারে। এ কথাটি ছেলেবেলা থেকেই শুনে আসছি। কিন্তু কখনো কোনো হাতিকে কাদায় পড়তে দেখিনি, শুনিওনি।

এই প্রথম কোনো হাতিকে কাদায় পড়তে দেখলাম, সাথে দেখলাম অনেক চামচিকাও। তবে হাতি মরলেও লাখ টাকা। এই প্রবাদটিও শুনে আসছি ছেলেবেলা থেকেই। অর্থমূল্যে এখন নিশ্চয়ই মরা হাতির দাম আরো অনেক বেড়েছে। এটা ঠিক মরা হাতির দাঁত এবং হাড় অনেক মূল্যবান।

তাই শিকারীরা বনে গিয়ে হাতি মেরে দাঁত ও হাড় পাচার করে। তবে এবার পাচারকারীরা সে সুযোগ পাবে না। বঙ্গ বাহাদুরের কঙ্কাল জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষণের চিন্তা করা হচ্ছে দেখলাম। সত্যিই হাতি মরলেও লাখ টাকা।

হাতি প্রসঙ্গে অদ্ভুতুড়ে প্রশ্ন শুনে আমার মনে পড়লো সুন্দরবনের কথা। কয়েকদিন আগে আমি ‘বিদ্যুৎ কেন্দ্র চাই, তবে অবশ্যই রামপালে নয়’ শিরোনামে একটা লেখা লিখেছিলাম। ফেসবুকে লেখার লিঙ্ক শেয়ার করার পর অনেকেই নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ পক্ষে, কেউ বিপক্ষে।

আমি চেষ্টা করেছি সবার মন্তব্যে সাড়া দিতে বা জবাব দিতে। ভিন্নমত বা সমালোচনায় আমার আপত্তি নেই। তবে একজনের মন্তব্যের কোনো জবাব দেইনি। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র রামপালে হলে বাঘ মরবে, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে। আর অন্য জায়গায় হলে মানুষ মরবে, ধানি জমি নষ্ট হবে। তার প্রশ্ন, আপনার কাছে মানুষ বড় না সুন্দরবন বড়? আমি এই প্রশ্নেরও জবাব দেইনি।

বরং প্রশ্নকর্তার জন্য গভীর করুণা বোধ করেছি। মনে আছে, কয়েকবছরে আগে সুন্দরবনের আশেপাশে বাঘের উৎপাত বেড়ে যায়। বাঘের হামলায় বেশ কয়েকজন মারাও যান। তখন আওয়ামী লীগের সাবেক সাংসদ জয়নাল হাজারী বলেন, যে বাঘ মানুষ মারে, সে বাঘ বাঁচানোর জন্য এত চেষ্টা কেন। তার দাবি সব বাঘ গুলি করে মেরে ফেললেই তো ল্যাঠা চুকে যায়। মানুষ নিশ্চিন্তে নিরাপদে ঘুমাতে পারে।

একজন আইন প্রণেতার এমন ভাবনা আমাকে শঙ্কিত করেছে। কেউ যদি সুন্দরবনের গুরুত্ব না বুঝে, কেউ যদি বুনো হাতিকে গুলি করে মেরে ফেলতে চায়, কেউ যদি সব বাঘ মেরে সাফ করে ফেলতে চায়; তাদের প্রশ্নের জবাব কী দেবো?

এখন রাষ্ট্রও যেন তেমন অবুঝ হয়ে উঠেছে। কম হোক আর বেশি হোক সুন্দরবনের ক্ষতি হবে জেনেও সরকার রামপালে তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার ব্যাপারে গোঁ ধরে আছে।সরকার যদি সুন্দরবনের গুরুত্ব না বুঝে, আমরা কার কাছে যাব? পরিবর্তন

প্রভাষ আমিন : সাংবাদিক, কলাম লেখক।